ভ্যাটিকান জাদুঘরে প্রদর্শনীতে এক শতাব্দীর আটটি ঐতিহাসিক পোপমোবাইল

ভ্যাটিকান জাদুঘরে আয়োজিত এক প্রদর্শনীতে এক শতাব্দীজুড়ে বিভিন্ন পোপের ব্যবহৃত আটটি ঐতিহাসিক পোপমোবাইল একসঙ্গে প্রদর্শিত হচ্ছে। রেশমের আস্তরণওয়ালা লিমোজিন থেকে বুলেটপ্রুফ কাচ বসানো গাড়ি পর্যন্ত এসব যানবাহনের মধ্য দিয়ে পোপদের যাতায়াতের ধরন কীভাবে বদলেছে, তা তুলে ধরা হয়েছে।
প্রদর্শনীর সবচেয়ে পুরোনো গাড়িটি একটি ন্যুর্বার্গ ৪৬০, যা ১৯৩০ সালের ২৩ মে পোপ একাদশ পিয়াসকে উপহার দেওয়া হয়েছিল। এই গাড়িতে রয়েছে লালচে-গোলাপি রেশমি ব্রোকেড কাপড়ে মোড়ানো বিলাসবহুল একটি আর্মচেয়ার।
১৯৬০ সালে পোপ জন তেইশ-এর জন্য তৈরি ৩০০ ডি ল্যান্ডোলেট গাড়ির পেছনের পাশের জানালা খোলা যেত, যাতে তিনি জনতার সঙ্গে আরও সহজে যোগাযোগ করতে পারেন।
এর পাঁচ বছর পর ৬০০ পুলম্যান ল্যান্ডোলেটে এল উঁচু ছাদ ও ভাঁজ করা যায় এমন নরম ছাউনি, যার ফলে পোপ ষষ্ঠ পল দাঁড়িয়ে সরাসরি তীর্থযাত্রীদের শুভেচ্ছা জানাতে পারতেন।
আধুনিক পোপমোবাইলের রূপ আসে ১৯৮০ সালে, যখন পোপ জন পল দ্বিতীয়-এর জার্মানি সফরের জন্য মার্সিডিজ-বেঞ্জ তৈরি করে ২৩০ জি মডেল। এর উঁচু স্বচ্ছ ঘেরা অংশ পোপকে সুরক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি জনতার কাছে দৃশ্যমানও রাখত।
পরবর্তী মডেলগুলোর মধ্যে ২০০২ সালের এমএল ৪৩০ এবং ২০১২ সালের এমএল ৫০০-এ পুরু বুলেটপ্রুফ কাচসহ নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য যুক্ত হয়, যা পোপদের পরিবহনের ধারাবাহিক বিবর্তনকেই দেখায়।
মার্সিডিজ-বেঞ্জের সঙ্গে ভ্যাটিকানের এই সম্পর্ক বৈদ্যুতিক যুগেও ঢুকেছে। ২০২৪ সালে পরিবর্তিত একটি জি ৫৮০ হয়ে ওঠে ভ্যাটিকানের প্রথম সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক পোপমোবাইল।
অন্য নির্মাতারাও পোপদের গাড়ি সরবরাহ করেছে, তবে এই প্রদর্শনীটি শুধু মার্সিডিজ-বেঞ্জের গাড়ি নিয়েই সাজানো হয়েছে।
ভ্যাটিকান জাদুঘরের পরিচালক বারবারা জাত্তা বলেছেন, এই প্রদর্শনীর লক্ষ্য এক শতাব্দীজুড়ে পোপদের সফরের ইতিহাস তুলে ধরা। ‘এ সেঞ্চুরি অব দ্য পোপমোবাইল’ শিরোনামের প্রদর্শনীটি চলবে ২০২৭ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত।


