ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে ভ্যান্সের চিঠি, নতুন সংঘাত এড়াতে কূটনীতির শেষ সুযোগের ইঙ্গিত

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে একটি ব্যক্তিগত চিঠি পাঠিয়েছেন। মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বড় ধরনের নতুন সংঘাত এড়ানোর ক্ষীণ আশা এখন ইরানের জবাবের ওপর নির্ভর করতে পারে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
প্রধানত কাতারের মধ্যস্থতার পর লেখা এই চিঠি রোববার ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মহসেন রেজাইকে পাঠানো হয়। এতে তেহরানকে একটি প্রক্রিয়ার শুরুতেই তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে, যার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিপরীতে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে।
জবাব আসন্ন বলে জানা গেছে। তবে ইরান তার উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত তৃতীয় কোনো দেশে রপ্তানির মতো আগাম ও অপরিবর্তনীয় প্রতিশ্রুতি দিতে অনিচ্ছুক, যদি ইরানি তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তোলার মতো যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপগুলো প্রত্যাহারযোগ্য হয়।
উভয় পক্ষ প্রতিশ্রুতি মানবে — এমন তৃতীয় পক্ষের নিশ্চয়তার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ ক্ষেত্রে চীনকেই এই ভূমিকা নেওয়ার মতো যথেষ্ট মর্যাদার একমাত্র দেশ হিসেবে প্রায়ই উল্লেখ করা হয়েছে।
যুদ্ধ নিয়ে সংশয়ী হিসেবে পরিচিত ভ্যান্সের আলোচনায় ফিরে আসা তাৎপর্যপূর্ণ এবং এটি ইঙ্গিত দেয় যে যুক্তরাষ্ট্র কূটনীতি পরিত্যাগ করেনি। ইরানে মার্কিন সামরিক বাহিনীর চিহ্নিত লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে অবহিত একজন ডেমোক্র্যাট সিনেটর নতুন হামলার পরিকল্পনাকে ‘উন্মাদ’ বলে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, এটি আইনের শাসনের প্রতি অঙ্গীকার ধ্বংসের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
ক্রম ও শর্ত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি মানতে ইরানের অনিচ্ছার ইঙ্গিত দিয়ে দেশটির প্রধান আলোচক মোহাম্মদ ঘালিবাফ এক্সে লিখেছেন, মধ্যস্থতাকারীদের কাছে ইরানের শর্ত বারবার ও স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে। গাজর-লাঠির পদ্ধতি ইরানের ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না। ইরানের সাতটি শর্ত মেনে নেওয়া হলেই কেবল অগ্রগতি সম্ভব।
এই সাত শর্তের মধ্যে রয়েছে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, সম্পদ জব্দের অবসান এবং সব ফ্রন্টে যুদ্ধের অবসান — এমন একটি বাক্যাংশ, যার জন্য লেবাননে ইসরায়েলি যুদ্ধবিরতি প্রয়োজন হবে।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত সরিয়ে নেওয়া নিয়ে আগাম, সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি চায়। তেহরান তার দর-কষাকষির হাতিয়ার ছাড়তে অনিচ্ছুক। জাতিসংঘের পারমাণবিক পরিদর্শকদের ফেরার বিষয়েও তেহরান আপত্তি জানায়, কারণ তাদের আশঙ্কা — পরিদর্শকেরা মজুতের অবস্থান ও অবস্থা সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রকে গোয়েন্দা তথ্য দিতে পারেন। এর বদলে ইরান মজুতটিকে দেশের ভেতরেই মিশিয়ে এমনভাবে কম-সমৃদ্ধ করার প্রস্তাব দিয়েছে, যাতে তা দিয়ে আর পারমাণবিক অস্ত্র বানানো না যায়।
ঘালিবাফ কিংবা পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির বদলে রেজাইকে চিঠি পাঠানো হয়েছে, কারণ ওয়াশিংটনের বিচারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোরের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠদের হাতেই রয়েছে। বাস্তবে ইরান ছয় সদস্যের একটি কমিটিতে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ঐকমত্যের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করে।
গত সপ্তাহে নতুন যুদ্ধের ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা করতে ঘালিবাফ ও রেজাই সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সঙ্গে বৈঠক করেন। খামেনি বলেছেন, যুদ্ধও নয়, শান্তিও নয় — এমন বর্তমান অবস্থার অবসান তিনি চান। উপসাগরজুড়ে পানিশোধনাগার, ইন্টারনেট কেবল ও বিদ্যুৎ গ্রিডে আঘাত হেনে এই অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থের বিরুদ্ধে পাল্টা আঘাতের সুপরিকল্পিত পরিকল্পনাও ইরানের তৈরি রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।




