ট্রাম্পকে অভিশংসনের পথে না যেতে ডেমোক্র্যাটদের পরামর্শ কমলা হ্যারিসের, বললেন ‘ভোটই নেই’

মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেলেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অভিশংসনের দিকে এগোনো ডেমোক্র্যাটদের জন্য ভালো ধারণা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস। বুধবার এক সাক্ষাৎকারে দলের বামপন্থী অংশের অবস্থান থেকে সরে এসে তিনি বলেছেন, অভিশংসনের বদলে তদন্ত ও জবাবদিহিতেই সময় ও সম্পদ ব্যয় করা উচিত।
‘দ্য পারনাস পারসপেক্টিভ’ অনুষ্ঠানের উপস্থাপক অ্যারন পারনাস হ্যারিসের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেলে তাঁর পরামর্শ কী হবে—তদন্তের পথ ধরে একদিন অভিশংসনের দিকে যাওয়া, নাকি এমন নীতি প্রণয়ন যাতে প্রেসিডেন্ট ভেটো দিতে বাধ্য হন। জবাবে হ্যারিস বলেন, ‘সত্যি বলতে, অভিশংসনের দিকে এগোনো ভালো ধারণা বলে আমি মনে করি না। আমাদের সম্পদ সীমিত, আর সেই শক্তি ও সম্পদ জবাবদিহিতা আর তদন্তেই ব্যয় করা উচিত।’
হ্যারিস তাঁর অবস্থানের পেছনে ভোটের হিসাবও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘মনে রাখবেন, আগের দফায় আমি সিনেটে ছিলাম, আর সেখানে প্রয়োজনীয় ভোট নেই।’ ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদে দুবার প্রতিনিধি পরিষদে অভিশংসিত হলেও দুবারই সিনেটে খালাস পান—অভিশংসন সফল করতে সিনেটে যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা দরকার, ডেমোক্র্যাটদের হাতে তা নেই বলেই তাঁর ইঙ্গিত।
সাক্ষাৎকারে হ্যারিস বলেন, ডেমোক্র্যাটদের কাজ করে দেখাতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে ‘নির্মম’ হতে হবে। তিনি ব্যাখ্যা করেন, ‘নির্মম বলতে আমি নিষ্ঠুর বোঝাই না; বোঝাই আপসহীন হওয়া—সম্পর্ক রক্ষার ভদ্রতা করতে বসে না থেকে আসল কাজগুলো করা।’ এ প্রসঙ্গে তিনি মেডিকেইড কর্তন ফিরিয়ে আনা এবং ‘কেউ চায় না এমন যুদ্ধ’ ঘিরে ক্ষমতার ভারসাম্য পুনঃপ্রতিষ্ঠার কথা উল্লেখ করেন।
হ্যারিসের এই অবস্থান দলের একাংশের সঙ্গে তাঁর মতপার্থক্য স্পষ্ট করেছে। কংগ্রেসের কিছু ডেমোক্র্যাট সদস্য আবারও ট্রাম্পকে অভিশংসনের দাবি তুলছেন। টেক্সাসের প্রতিনিধি আল গ্রিন এ বছর ফেডারেল অভিবাসন অভিযানে মৃত্যুর ঘটনাসহ প্রশাসনের অভিবাসন নীতি নিয়ে অভিশংসন প্রস্তাবে ভোট করাতে বাধ্য করেন। সেই পদক্ষেপে প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে বিভক্তি দেখা দেয়; দলের নেতৃত্ব মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ফেরানোর লড়াইয়ে অভিশংসনকে গুরুত্ব দেওয়া থেকে মূলত দূরে আছেন।
অন্যদিকে ফ্লোরিডার ডেমোক্র্যাট সিনেট প্রার্থী ও রাজ্য প্রতিনিধি অ্যাঙ্গি নিক্সন পলিটিকোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তিনি অভিশংসন শুনানির বিরোধিতা করবেন না এবং নির্বাচিত হলে ট্রাম্পকে অপসারণের পক্ষে ভোট দেবেন।
হ্যারিসের সুরে মিল রয়েছে জনপ্রিয় উপস্থাপক জন স্টুয়ার্টের বক্তব্যেও। ‘দ্য উইকলি শো’ পডকাস্টের প্রশ্নোত্তর পর্বে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা জিতলে অভিশংসন চাওয়া উচিত কি না জানতে চাইলে স্টুয়ার্ট বলেন, তিনি অর্থনীতি পুনরায় ভারসাম্যে ফেরাতে পূর্ণাঙ্গ উদ্যোগ দেখতে চান, লোকদেখানো শুনানির ‘পাঁচ অঙ্কের নাটক’ দেখতে চান না; তাঁর ভাষায়, এসব শুনানি আসল জবাবদিহিতা এনে দেবে না।
নর্থইস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক কোস্টাস প্যানাগোপোলোস বলেন, ডেমোক্র্যাটরা জিতলে জবাবদিহিতার জন্য বিপুল চাপ আসবে, তবে আমেরিকানদের জীবনযাত্রা সহজ করার চাপ হবে আরও বেশি। তাঁর মতে, ভোটাররা ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা চান, তবে সাশ্রয়ী দামে গ্যাস ও নিত্যপণ্য চান তার চেয়েও বেশি।
রিপাবলিকান কৌশলবিদ লিজ মেয়ারও হ্যারিসের অবস্থানকে সঠিক বলেছেন। তাঁর মতে, ডেমোক্র্যাটরা মধ্যবর্তী নির্বাচনে জিতবেন সুইং ভোটারদের কারণে, আর সেই ভোটাররা চান না দলটি পরের দুই বছর প্রেসিডেন্টের অভিশংসনে কাটিয়ে দিক; তাঁরা চান জীবনযাত্রার খরচ কমানো বা অন্তত মূল্যবৃদ্ধি সীমিত রাখা।




