প্রত্যাশা ছাড়িয়ে তৃতীয় প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি বাড়ল ৩ দশমিক ৪ শতাংশ

চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি গতিতে বেড়েছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত সরকারি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সেপ্টেম্বরে শেষ হওয়া তিন মাসে দেশটির মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বার্ষিক হারে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে।
মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অর্থনীতিবিদদের প্রত্যাশা ছিল ৩ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি; প্রকৃত হার তার চেয়ে বেশি এসেছে। আগামী মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এটাই অর্থনীতির সর্বশেষ পূর্ণাঙ্গ চিত্র।
আগের প্রান্তিকের সঙ্গে তুলনায়ও প্রবৃদ্ধি বেড়েছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার ছিল ২ দশমিক ২ শতাংশ, আর বছরের প্রথম তিন মাসে তা ছিল ২ দশমিক ৫ শতাংশ।
সরকারি প্রতিবেদন অনুযায়ী, তৃতীয় প্রান্তিকের প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি ছিল ভোক্তা ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি এবং বিনিয়োগের গতি বেড়ে যাওয়া।
মার্কিন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ জুড়ে রয়েছে ভোক্তা ব্যয়। দাম বাড়ার মধ্যেও তৃতীয় প্রান্তিকে এই ব্যয় শক্ত গতি ধরে রেখেছে বলে তথ্যে দেখা গেছে।
বৃহস্পতিবারের প্রতিবেদনটি একটি প্রাথমিক হিসাব। আগামী মাসগুলোতে অতিরিক্ত তথ্য যাচাই করে সংস্থাটি এই হার সংশোধন করবে।
আগের প্রান্তিকগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় (এআই) বিপুল ব্যয় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকে চাঙা করতে সাহায্য করেছে। দেশটির অনেক বড় কোম্পানি এআই চালাতে প্রয়োজনীয় চিপ ও ডেটা সেন্টারে বিপুল অর্থ ঢেলেছে। তবে এবার এআই উল্টো জিডিপির হার কিছুটা কমিয়ে দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে ইঙ্গিত করা হয়েছে — কারণ প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো এই প্রযুক্তির জন্য অপরিহার্য সেমিকন্ডাক্টর প্রচুর পরিমাণে আমদানি করেছে, আর সরকারি জিডিপি সূত্রে আমদানি বিয়োগ করা হয়, যাতে বিদেশি উৎপাদন মোট হিসাবের বাইরে থাকে।
অন্যদিকে এই প্রবৃদ্ধির বছরটি কাটছে মূল্যস্ফীতির চাপের মধ্যে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দাম বাড়ার ঢেউ চলছে।
দাম বাড়ায় বিনিয়োগকারীদের আশঙ্কা বেড়েছে যে মূল্যস্ফীতি তাঁদের মুনাফা খেয়ে ফেলতে পারে; ফলে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দীর্ঘমেয়াদি ট্রেজারি সুদের হারও লাফ দিয়ে বেড়েছে। বন্ডের সুদহার বাড়ায় ক্রেডিট কার্ড ও বন্ধকী ঋণের সুদ বেড়ে গেছে, যা আর্থিক চাপ আরও বাড়িয়ে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে।
তবে কোনো কোনো মাপকাঠিতে অর্থনীতি স্থিতিস্থাপকতা দেখাচ্ছে। নিয়োগের গতি আগের চেয়ে ধীর হলেও কর্মসংস্থান বাড়ছে, আর ঐতিহাসিক মানদণ্ডে বেকারত্ব কম পর্যায়েই রয়েছে।
বুধবার ওয়াশিংটন ডিসিতে এক সংবাদ সম্মেলনে ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ মার্কিন অর্থনীতির পারফরম্যান্স নিয়ে আশাবাদ জানিয়েছেন, যদিও তিনি উঁচু মূল্যস্ফীতির চ্যালেঞ্জের কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড শক্ত গতিতে এগিয়ে চলেছে। ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে অনিশ্চয়তা থাকলেও অভ্যন্তরীণ ব্যয় স্থিতিস্থাপক রয়েছে।’
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ — যা ফেডের ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এক শতাংশ পয়েন্টের বেশি ওপরে। ওয়ার্শ বুধবার বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি নামিয়ে আনা আমাদের দায়িত্ব।’
দাম বাড়ার লড়াইয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত মাসে সুদের হার সিকি শতাংশ পয়েন্ট বাড়িয়েছিল — যা তিন বছরের মধ্যে প্রথম সুদহার বৃদ্ধি। তবে বুধবার ফেড আরও তথ্যের অপেক্ষায় সুদের হার অপরিবর্তিত রাখে। বাজার বিশ্লেষণে ধরা পড়ছে, আগামী ডিসেম্বরের বৈঠকে আবার সিকি পয়েন্ট সুদ বাড়ানোর সম্ভাবনা প্রায় ৮৫ শতাংশ। আরেক দফা সুদ বাড়লে অর্থনীতিতে আরও জোরে ব্রেক কষা হবে, তাতে প্রবৃদ্ধি মন্থর হওয়া ও চাকরির বাজার আরও ধীর হয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।




