বার্সেলোনায় বন্দরশ্রমিকদের বিক্ষোভে ব্যারিকেডে আগুন, লাগেজ হাতে হেঁটে যেতে হলো ক্রুজযাত্রীদের

স্পেনের বার্সেলোনায় বিক্ষোভরত বন্দরশ্রমিকেরা বুধবার একটি ব্যারিকেডে আগুন ধরিয়ে ক্রুজ টার্মিনালের প্রবেশপথ বন্ধ করে দেন। এতে যাত্রীদের বাস বা গাড়ির বদলে লাগেজ হাতে হেঁটে যেতে হয়েছে বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
বিক্ষোভটি হয়েছে বার্সেলোনার ক্রুজ টার্মিনালগুলোর কাছে। শ্রমিকেরা পোর্তা দে ইউরোপা সেতুর দিকে যাওয়া একটি প্রবেশ সড়ক বন্ধ করে দেন বলে স্পেনের সংবাদমাধ্যম ক্রোনিকা গ্লোবাল জানিয়েছে।
শ্রমিকেরা সম্ভাব্য বেতন কর্তনের প্রতিবাদে এই কর্মসূচি পালন করেন। সড়ক বন্ধ থাকায় ক্রুজযাত্রীদের লাগেজ নিয়ে হেঁটে যেতে হয়।
স্পেনের সংবাদমাধ্যম মেত্রোপলির তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২০০ শ্রমিক বিক্ষোভে অংশ নেন এবং বিক্ষোভটি প্রায় চার ঘণ্টা চলে।
ডালপালা দিয়ে তৈরি একটি জ্বলন্ত ব্যারিকেড সেখানে ছিল। ক্রোনিকা গ্লোবালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এলাকায় দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
ক্রুজ হাইভের তথ্য অনুযায়ী, বিঘ্নের সময় বন্দরে চারটি ক্রুজ জাহাজ ছিল, যেগুলোতে মোট ১৩ হাজারের বেশি যাত্রী ছিলেন।
জাহাজগুলোর মধ্যে রয়্যাল ক্যারিবিয়ানের ওডিসি অব দ্য সিজ, মাইন শিফ ৭ এবং এইডামার বার্সেলোনায় সফরে ছিল বলে জানানো হয়েছে।
নরওয়েজিয়ান এস্কেপ জাহাজটিও বন্দরে ছিল এবং নতুন যাত্রায় যাত্রী তুলতে প্রস্তুতি নিচ্ছিল বলে ক্রুজ হাইভ জানিয়েছে।
স্পেনের সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, সরকারি নিরীক্ষায় অনুমোদিত বেতন বাজেট ও শ্রমিকদের প্রকৃত প্রাপ্ত বেতনের মধ্যে অমিল পাওয়ার পর এই বিক্ষোভ হয়।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম বেতেভের তথ্য অনুযায়ী, শ্রমিকদের আশঙ্কা, এই অমিলের কারণে তাদের বেতন ৮ শতাংশ পর্যন্ত কাটা হতে পারে।
শ্রমিকেরা বলেছেন, এই অমিলের জন্য তাদের শাস্তি দেওয়া উচিত নয়। বুধবার শ্রমিক কমিটির এক বিবৃতিতে বলা হয়, সমাধান বেতন কাটা নয়।
বার্সেলোনা বন্দর কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে বলেছে, সরকারি নিরীক্ষায় পাওয়া বেতনের অমিল সংশোধন করা তাদের জন্য বাধ্যতামূলক ছিল, তবে এই সমস্যা বন্দরের কোনো অনিয়মের ফল নয় বলে তারা জানিয়েছে।
বার্সেলোনা বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, বন্দরটি ইউরোপের ব্যস্ততম ক্রুজ গন্তব্যগুলোর একটি এবং ২০২৫ সালে সেখানে প্রায় ৪০ লাখ ক্রুজযাত্রীর চলাচল রেকর্ড হয়েছে।


