কর্মকর্তাদের গাড়ির জ্বালানিতে সীমা বেঁধে দিল ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, সর্বোচ্চ ২৫০ লিটার

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) কর্মকর্তাদের জন্য বরাদ্দ করা গাড়িতে জ্বালানি ব্যবহারের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে মাসে ২৫০ লিটার পেট্রল বা অকটেন অথবা ৩৫৮ ঘনমিটার সিএনজি। বৃহস্পতিবার ডিএসসিসির মহাব্যবস্থাপক মো. মশিউর রহমান খানের সই করা এক অফিস আদেশে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনে জারি করা আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে এতে বলা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্ত এসেছে এমন দিনে, যেদিন ডিএসসিসি কর্মকর্তাদের গাড়িতে ইচ্ছেমতো জ্বালানি বরাদ্দ ও ব্যবহারে অনিয়ম নিয়ে সংবাদমাধ্যমে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদন প্রকাশের পরই কর্মকর্তাদের গাড়ির জ্বালানি বরাদ্দে ব্যবস্থা নিল ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষ।
অফিস আদেশে বলা হয়েছে, সিটি করপোরেশনের জ্বালানি ব্যবহারসংক্রান্ত নিজস্ব নীতিমালা না থাকায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী জ্বালানি ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ডিএসসিসির কর্মকর্তাদের গাড়িতে মাসে ৪০০ থেকে ৬০০ লিটার পর্যন্ত জ্বালানি বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছিল। অথচ সরকারি নির্দেশনায় সাধারণ প্রাধিকারপ্রাপ্ত গাড়ির জন্য মাসে ২০০ লিটার এবং সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য সর্বোচ্চ ২৫০ লিটার জ্বালানি ব্যবহারের সীমা রয়েছে।
অনুসন্ধানে আরও দেখা গেছে, অতিরিক্ত বরাদ্দের জ্বালানির একাংশ বিক্রি করে দেন কোনো কোনো চালক। কোনো কোনো কর্মকর্তা দাপ্তরিক কাজের বাইরেও গাড়ি ব্যবহার করেন। এমনকি রোগী পরিবহনের অ্যাম্বুলেন্সে কর্মকর্তাদের বাসা থেকে অফিসে যাতায়াতের তথ্যও পাওয়া গেছে।
হিসাব অনুযায়ী, ডিএসসিসির অন্তত ৭৬ জন কর্মকর্তার গাড়িতে মাসিক জ্বালানি বরাদ্দ ২৫০ লিটারে সীমিত করা গেলে বছরে প্রায় ২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা সাশ্রয় হতে পারে।
প্রতিবেদন তৈরির সময় ডিএসসিসির প্রশাসক আবদুস সালাম বলেছিলেন, সংস্থার নিজস্ব নীতিমালা না থাকলেও সরকারের বিদ্যমান নির্দেশনা মেনে চলতে হবে; এর বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। তখন তিনি অনিয়ম খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছিলেন।




