ক্যাথলিক স্কুল বেছে নেওয়ায় প্রিস্কুল সহায়তা পাননি মা, মামলা গেল সুপ্রিম কোর্টে
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের এক মা অভিযোগ করেছেন, ক্যাথলিক স্কুল বেছে নেওয়ার কারণে তাঁর সন্তানদের ১২ হাজার ডলারের প্রিস্কুল সহায়তা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তিন সন্তানের মা এরিকা নাগলের এই অভিযোগ নিয়ে মামলা এখন দেশটির সুপ্রিম কোর্টে শুনানির অপেক্ষায় আছে। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
এরিকা নাগলের সন্তানরা কলোরাডোর লিটলটনের সেন্ট মেরি ক্যাথলিক স্কুলে পড়ে। ফক্স নিউজ ডিজিটালকে তিনি বলেছেন, তাঁর দুই সন্তানকে অঙ্গরাজ্যের প্রিস্কুল তহবিল কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। ফলে বাড়তি শিক্ষা ব্যয় পরিবারটিকেই বহন করতে হচ্ছে।
নাগলে বলেছেন, ‘আমরা ক্যাথলিক বলেই এই সুবিধা থেকে আমাদের বাদ দেওয়া হয়েছে। যে অঙ্গরাজ্য অন্তর্ভুক্তির কথা বলে, তারা আমাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে একটি বড় অংশের মানুষকে বাদ দেওয়ার জন্য সক্রিয়ভাবে চেষ্টা করছে।’
বিতর্কের কেন্দ্রে আছে কলোরাডোর সার্বজনীন প্রিস্কুল কর্মসূচি। বেকেট নামের সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে কলোরাডো এই প্রিস্কুল তহবিল কর্মসূচি চালু করে। কর্মসূচির আওতায় যোগ্য পরিবারগুলো সপ্তাহে ১৫ ঘণ্টা প্রিস্কুল শিক্ষার জন্য প্রায় ৬ হাজার ৩০০ ডলার করে পায়। সংস্থাটি বলছে, কর্মসূচিটি সার্বজনীন সুবিধা হিসেবে প্রচার করা হয়েছিল, যেখানে বাবা-মায়েরা সরকারি, বেসরকারি ও ধর্মীয় প্রিস্কুলের মধ্য থেকে বেছে নিতে পারবেন—এই আশায় অঙ্গরাজ্যজুড়ে ক্যাথলিক পরিবারগুলো অংশ নিতে এগিয়ে আসে।
কর্মসূচিকে চ্যালেঞ্জ করা ক্যাথলিক স্কুলগুলোর যুক্তি, অঙ্গরাজ্যের অংশগ্রহণের শর্তগুলো অন্যায্যভাবে তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও ভর্তি নীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। নাগলে বলেছেন, রাজ্যের এই টাকা কিন্ডারগার্টেনের আগের বছর, অর্থাৎ প্রি-কে শ্রেণির জন্য প্রতিটি পরিবারকে দেওয়া হয় এবং তা নিজের পছন্দের স্কুলে ব্যবহার করা যায়। তাঁর ভাষায়, ‘ক্যাথলিকদের নিজেদের পছন্দের স্কুল—ক্যাথলিক স্কুল—বেছে নেওয়ার মূল্য দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। হাজার হাজার কলোরাডোবাসীকে অন্য সবার চেয়ে বেশি খরচ করতে বাধ্য করা হচ্ছে।’
নাগলের দাবি, এই কর্মসূচির প্রভাব তাঁর পরিবারের অর্থের বাইরেও গেছে। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের আর্চডায়োসিসের দুটি প্রিস্কুল বন্ধ হয়ে গেছে।’ তাঁর যুক্তি, কর্মসূচিটি ক্যাথলিক স্কুলের ভর্তিতে প্রভাব ফেলছে এবং পরিবারগুলোকে তারা যে ধর্মীয় শিক্ষা চায়, তা ছেড়ে দিতে চাপ দিচ্ছে। তিনি বলেছেন, ‘অঙ্গরাজ্য একদিকে একটি প্রলোভন ঝুলিয়ে রেখেছে, যা মানুষকে তাদের বিশ্বাস ছেড়ে দিতে, তারা যে ক্যাথলিক শিক্ষা চায় তা পরিত্যাগ করতে উৎসাহিত করছে।’
ভর্তি নীতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন নাগলে। তিনি বলেছেন, প্রায় প্রতিটি স্কুলেরই নিজস্ব সম্প্রদায়ের জন্য ভর্তির মানদণ্ড থাকে—কেউ এলাকার শিশুদের অগ্রাধিকার দেয়, কেউ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বা নিম্ন আয়ের পরিবারের শিশুদের। সেন্ট মেরিও একইভাবে ক্যাথলিক পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দেয়, পাশাপাশি স্কুলের ধর্মীয় শিক্ষাকে সম্মান করতে ইচ্ছুক পরিবারের শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানায়। তাঁর প্রশ্ন, ক্যাথলিক স্কুলের ভর্তি নীতিকে কেন আলাদাভাবে দেখা হবে।
তিনি আরও বলেছেন, ‘কলোরাডোর উচিত নয় ক্যাথলিক পরিবারগুলোকে তাদের পছন্দ—একটি বিশ্বাসভিত্তিক স্কুল—ছেড়ে দিতে বাধ্য করা। অঙ্গরাজ্য অন্য স্কুলগুলোকে তাদের সম্প্রদায়ের সেবা করতে দিচ্ছে, কিন্তু ক্যাথলিক পরিবারগুলোকে তাদের সম্প্রদায়ের সেবা করতে দিচ্ছে না।’
এই আইনি লড়াই একটি বড় প্রশ্ন তুলে ধরেছে—সরকারি অর্থায়নের শিক্ষা কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে ধর্মীয় স্কুলগুলো তাদের বিশ্বাসভিত্তিক ভর্তি নীতি কতটা বজায় রাখতে পারবে। সুপ্রিম কোর্টের রায় এই প্রশ্নের দিকনির্দেশনা দেবে।
কলোরাডো ডিপার্টমেন্ট অব আর্লি চাইল্ডহুডের (সিডিইসি) একজন মুখপাত্র বলেছেন, বিচারাধীন মামলা নিয়ে বিভাগটি মন্তব্য করতে পারবে না। কলোরাডোর গভর্নর জ্যারেড পলিসের কার্যালয়ের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।



