স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ৬৯, হাসপাতালে আহতদের দেখতে গেলেন রাজা ফেলিপে

স্পেনের তোলেদোর কাছে দ্রুতগতির দুটি ট্রেনের সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশজুড়ে শোক চলছে, আর আহতদের চিকিৎসা চলা তোলেদোর একটি হাসপাতালে গেছেন রাজা ষষ্ঠ ফেলিপে।
বুধবার সকালে মধ্য স্পেনে এই সংঘর্ষ ঘটে। রাষ্ট্রীয় রেল সংস্থা রেনফে পরিচালিত একটি দ্রুতগতির ট্রেন দাঁড়িয়ে থাকা একটি ইরিও সার্ভিসের পেছনে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের ধাক্কায় অন্তত তিনটি বগি একটি নুড়িপাথরের ঢালে ছিটকে পড়ে।
রাতভর উদ্ধারকাজে আরও একটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়, তাতে নিহতের সংখ্যা ৬৯-এ পৌঁছায়। কাস্তিয়া-লা মানচার আঞ্চলিক প্রেসিডেন্ট এমিলিয়ানো গার্সিয়া-পাহে জানিয়েছেন, ৫০ জন এখনো হাসপাতালে রয়েছেন।
উদ্ধারকারী দলগুলো ঘ্রাণশক্তিসম্পন্ন কুকুর নিয়ে ধ্বংসাবশেষে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে। ক্রেন দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বগিগুলো তোলা হচ্ছে, আর জরুরি বিভাগের কর্মীরা ঢালজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ধ্বংসাবশেষ তল্লাশি করে দেখছেন।
রাজা ষষ্ঠ ফেলিপে তোলেদোর যে হাসপাতালে দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের চিকিৎসা চলছে, সেখানে পৌঁছান। ভবনে ঢোকার আগে বাইরে অপেক্ষমাণ হাসপাতালের কর্মী ও অন্য লোকজন তাঁকে স্বাগত জানান।
বিরোধী পিপলস পার্টির নেতা আলবের্তো নুনিয়েস ফেইহোও দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
সরকার বৃহস্পতিবার থেকে তিন দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করেছে। নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতাও পালন করা হয়েছে।
এটি চলতি বছর স্পেনে দ্বিতীয় প্রাণঘাতী দ্রুতগতির রেল দুর্ঘটনা, যা রেল নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। গত জানুয়ারিতে একই লাইনে রেনফে ও ইরিও ট্রেনের আরেকটি সংঘর্ষে ৪৬ জন নিহত হয়েছিলেন।
জাতীয় নির্বাচনের মাত্র চার সপ্তাহ আগে এই দুর্ঘটনা ঘটল। দুর্ঘটনার কারণে রেল চলাচল ব্যাহত হয়েছে — মাদ্রিদ ও সেভিয়ার মধ্যে দ্রুতগতির রুট বন্ধ রয়েছে এবং হাজার হাজার যাত্রী বিকল্প পরিবহন খুঁজছেন।




