ইউক্রেনের চেরনিহিভে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুই কিশোরী নিহত, আহত ২৫

ইউক্রেনের উত্তরাঞ্চলীয় শহর চেরনিহিভে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৫ বছর বয়সী দুই কিশোরী নিহত হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই হামলায় আরও ২৫ জন আহত হয়েছেন।
হামলার পর দমকলকর্মীরা পুড়তে থাকা গাড়িগুলোতে আগুন নেভাতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ভবন থেকে বের হওয়া আগুন ও ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণে ছুটে যান। ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে থাকা ঘটনাস্থলে জরুরি সেবার কর্মীরা আহতদের সেবা দেন। ধারণ করা দৃশ্যে দেখা গেছে, উদ্ধারকর্মীরা একজনকে অ্যাম্বুলেন্সে তুলছেন এবং কাছেই কম্বলে ঢাকা অবস্থায় একটি মরদেহ পড়ে আছে।
স্থানীয় সামরিক প্রশাসন জানিয়েছে, হামলায় ব্যবহার করা হয়েছে বান্দেরল ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র। এটি তুলনামূলক কম খরচের জেট-চালিত অস্ত্র, যা লক্ষ্যে আঘাত হানার আগে আকাশে ঘুরে অপেক্ষা করতে পারে। হামলায় এলাকার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বসতবাড়ি ও যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
চেরনিহিভে এই হামলার সময়ই দেশের দক্ষিণে রুশ-অধিকৃত ওলেশকি শহরকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া স্থানীয় যুদ্ধবিরতি বজায় থাকার খবর পাওয়া গেছে। ওলেশকি শহরটি খেরসন অঞ্চলে অবস্থিত।
ইউক্রেন ও রাশিয়ার মানবাধিকার অম্বুডসম্যানরা বুধবার জানিয়েছেন, ওই স্থানীয় যুদ্ধবিরতি কোনো ঘটনা ছাড়াই ৩০ ঘণ্টা অতিক্রম করেছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশ করা ছবিতে দাবি করা হয়েছে, ওলেশকির কাছে সামরিক প্রকৌশলীরা মাইন অপসারণের কাজ করছেন। তবে ওই ছবি কবে ধারণ করা হয়েছে, তা জানানো হয়নি।
এই অভিযানের উদ্দেশ্য হলো মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর পথ খুলে দেওয়া এবং যেসব বাসিন্দা চলে যেতে চান, তাঁদের সেই সুযোগ দেওয়া। শহরটিতে এখনো প্রায় ২ হাজার মানুষ রয়ে গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, যেখানে কয়েক মাস ধরে খাবার, পানি ও ওষুধের সংকট চলছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই বিরতিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে তিনি বলেছেন, যুদ্ধবিরতির সাফল্যের জন্য বেসামরিক নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়াই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।




