চীনের কমিউনিস্ট পার্টি থেকে রেকর্ড ৩৩ সদস্য বহিষ্কার, প্লেনামে ফাঁকা আসনের ছড়াছড়ি

চীনের কমিউনিস্ট পার্টি (সিসিপি) থেকে রেকর্ড সংখ্যক কর্মকর্তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলের একটি বড় রাজনৈতিক সম্মেলন শেষে এ তথ্য জানা গেছে। সম্মেলনে অভূতপূর্ব সংখ্যক ফাঁকা আসনই বলে দিচ্ছে, প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের আমলে শুদ্ধি অভিযানের মাত্রা কতটা বেড়েছে।
এ সপ্তাহের পঞ্চম প্লেনামে রেকর্ড ৩৩ জন সদস্যকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বছরে মোটামুটি একবার বসা এই সম্মেলনটি দলের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মিলনমেলা।
কেন্দ্রীয় কমিটির পূর্ণ ও বিকল্প সদস্যদের মধ্যে এ সপ্তাহের সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ২৭৯ জন, যেখানে ২০২২ সালে সদস্য হিসেবে নাম ঘোষণা করা হয়েছিল ৩৭৬ জনের। অর্থাৎ মূল দলের ২৫ শতাংশের বেশি সদস্য অনুপস্থিত ছিলেন, যাঁদের অনেকেই শুদ্ধি অভিযানের শিকার। আধুনিক চীনের ইতিহাসে কোনো প্লেনামে এত বেশি ‘ফাঁকা আসন’ আগে দেখা যায়নি।
নিশ্চিত বহিষ্কৃতদের মধ্যে রয়েছেন সামরিক ক্রমে চীনের নেতার পর দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা সাবেক কর্মকর্তা ঝাং ইউশিয়া এবং সিনজিয়াংয়ের সাবেক পার্টি সচিব মা শিংরুই। আরও কয়েকজনের অনুপস্থিতির কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
থিংকট্যাংক এশিয়া সোসাইটির সিনিয়র ফেলো নিল থমাস সামাজিক মাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘আরও বেশি ফাঁকা আসন প্লেনামের মূল বার্তাটাই তুলে ধরছে—কঠোর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলার ওপর সি চিন পিংয়ের জোর।’
এবারের প্লেনামের প্রতিপাদ্য ছিল দলীয় শাসনব্যবস্থা। ২০১২ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে সি চিন পিং দলে দুর্নীতি নির্মূলে জোর দিয়েছেন। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই অভিযান আরও তীব্র হয়েছে; দল ও সামরিক বাহিনীর সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারাও এর শিকার হচ্ছেন। এতে প্রশ্ন উঠেছে, এই অভিযান কি রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সরানো বা অবাধ্যতার শাস্তির হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে।
সি চিন পিংয়ের হতাশা বাড়ছে বলেই মনে হচ্ছে—তাঁর দৃষ্টিতে রাষ্ট্র ও সমাজের ওপর নিরঙ্কুশ কর্তৃত্বধারী দলের সারিতে শৃঙ্খলার ঘাটতি রয়েছে। এ বছরের শুরুর দিকে তিনি বলেছিলেন, দলকে ‘অসুস্থ গাছ’ উপড়ে ফেলতে হবে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই একটি ‘কখনো শেষ না হওয়া যাত্রা’।
একের পর এক শুদ্ধি অভিযানে জনমুক্তি সেনাবাহিনীর শাসক সংস্থা সাত সদস্যের কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশন এখন ক্ষয়প্রাপ্ত। কমিশনে এখন সদস্য মাত্র দুজন: সি চিন পিং নিজে এবং সামরিক বাহিনীর দুর্নীতিদমন প্রধান ঝাং শেংমিন।
এ সপ্তাহে ঝাং শেংমিনকে দলের সর্বোচ্চ শাসক সংস্থা পলিটব্যুরোতে উন্নীত করা হয়েছে। এখন তিনিই শীর্ষ নেতৃত্বের সংস্থাটির একমাত্র সামরিক সদস্য।
প্লেনামে প্রতি পাঁচ বছরে অনুষ্ঠিতব্য ২১তম পার্টি কংগ্রেসের ভিত্তিও তৈরি হয়েছে; কংগ্রেসটি ২০২৭ সালের দ্বিতীয়ার্ধে বসবে বলে আশা করা হচ্ছে। সি চিন পিং সেখানে দলের নেতা হিসেবে চতুর্থ মেয়াদ নিশ্চিত করবেন বলে মনে করা হচ্ছে, যা তাঁকে মাও সেতুংয়ের পর কমিউনিস্ট চীনের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি শাসকে পরিণত করবে।
কংগ্রেসে কেন্দ্রীয় কমিটি ও পলিটব্যুরোর সারি নতুন করে সাজানো হবে। তবে অনেক বিশ্লেষকের মতে, সাম্প্রতিক শুদ্ধি অভিযান এতটাই ব্যাপক যে পদোন্নতির জন্য উপযুক্ত প্রার্থী খুঁজে পাওয়াই কঠিন হয়ে পড়তে পারে।




