কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন অপরাধের অভিযোগ এখন তদন্ত করবে নিউইয়র্ক রাজ্য পুলিশ

নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোচুল ঘোষণা দিয়েছেন, কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভবিষ্যতে ওঠা সব যৌন অপরাধের অভিযোগ এখন থেকে নিউইয়র্ক রাজ্য পুলিশ তদন্ত করবে। একটি ছাত্র সংঘে (ফ্র্যাটারনিটি) সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগের ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যেভাবে সামলেছে, তা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার পর এই সিদ্ধান্ত এলো।
২০২৪ সালে ক্যাম্পাসে কথিত ধর্ষণের ঘটনাটি কর্তৃপক্ষের সামলানো নিয়েই বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ‘জেন ডো’ ছদ্মনামে পরিচিত এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, একটি ফ্র্যাটারনিটিতে তাঁকে মাদক খাইয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়েছিল; এরপর তিনি কর্নেলের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রথমে নিজেদের শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল; পরে স্বীকার করে, ওই শিক্ষার্থীর ঘটনাটি সামলানোর ক্ষেত্রে তাদের ঘাটতি ছিল।
এই ঘটনার প্রতিক্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে এখনো চলছে। প্রেসিডেন্টসহ কর্নেল প্রশাসনকে এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অনাস্থা ভোটের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
হোচুল জানিয়েছেন, নিউইয়র্ক রাজ্য পুলিশ কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছে; এর ফলে সব যৌন অপরাধের অভিযোগ—যেগুলো এত দিন ঐতিহাসিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশের এখতিয়ারে ছিল—এখন থেকে সঙ্গে সঙ্গে রাজ্য পুলিশের কাছে পাঠানো হবে।
বৃহস্পতিবার হোচুল বলেন, কেউ যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করলে তিনি এটা জানার অধিকার রাখেন যে, ভুক্তভোগীদের সহায়তায় প্রশিক্ষিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাঁর অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে নেবে এবং পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করবে। তিনি আরও বলেন, ভুক্তভোগীদের সেই প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আস্থা রাখতে পারা উচিত, যেগুলো তাঁদের সুরক্ষার দায়িত্বে রয়েছে।
সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি জেন ডো মামলা করার পর থেকে আইভি লিগের এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া তীব্র হয়েছে।
বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি সিনেট—অধ্যাপক ও অন্যান্য শিক্ষাকর্মীদের নিয়ে গঠিত একটি পরিচালনা সংস্থা—রুদ্ধদ্বার বৈঠক করে প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট মাইকেল কোটলিকফের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের ওপর ভোট নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। শুক্রবার থেকে শিক্ষকদের জন্য ভোট শুরু হবে এবং চলবে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত। ভোটটি মূলত প্রতীকী হলেও এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্ব বদলের চাপ আরও বাড়তে পারে।
এই মাসের শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয় কথিত নিপীড়নের ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় বেশ কিছু পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছিল, যার মধ্যে নিজেদের পুলিশ বাহিনীতে যৌন নিপীড়ন তদন্তকারী যোগ করার বিষয়টিও ছিল।
হোচুল বলেছিলেন, তদন্তটি যেভাবে সামলানো হয়েছে তাতে তিনি ‘গভীরভাবে বিচলিত’। এই মাসের শুরুতে তিনি নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসকে বিশেষ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দেন, যাতে ফৌজদারি অভিযোগ আনা যায় কি না, সে বিষয়ে পুনরায় শুরু হওয়া তদন্ত তদারকি করা যায়।
ঘটনার কেন্দ্রে থাকা নারী তাঁর দেওয়ানি মামলায় অভিযোগ করেছেন, ২০২৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ফ্র্যাটারনিটি হাউসে সাতজন পুরুষ তাঁকে মাদক খাইয়ে ধর্ষণ করে। তাঁর দাবি, কর্নেল তাঁকে সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে এবং ওই ব্যক্তিদের যথাযথ শাস্তিও দেয়নি; ওই সাতজন এখন ‘কর্নেল সেভেন’ নামে পরিচিত।



