নির্বাসন থেকে ভেনেজুয়েলায় ফিরে ২০২৭ সালে নির্বাচনের ডাক মাচাদোর, ধন্যবাদ ট্রাম্প প্রশাসনকে
নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো নির্বাসন থেকে দেশে ফিরে আগামী বছর নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি কারাকাসের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিতর্কিত তেল চুক্তির সমালোচনা করেছেন।
বৃহস্পতিবার মাচাদো জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের ঘটনার কথা উল্লেখ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে ‘স্বাধীনতার বন্যাদ্বার’ খুলে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান। দশ মাসের বেশি সময় নির্বাসনে থাকার পর দেশে ফিরে এটিই ছিল তার প্রথম প্রকাশ্য বক্তব্য।
কারাকাসে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প, তার প্রশাসন ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর নাম উল্লেখ করে মাচাদো বলেন, তাদের দূরদৃষ্টি, সাহস ও ৩ জানুয়ারির পদক্ষেপের কারণেই স্বাধীনতার বন্যাদ্বার খুলে গেছে।
তিনি বলেন, রুবিও এমন একটি ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরেছেন, যার লক্ষ্য গণতান্ত্রিক উত্তরণের দিকে এগিয়ে যাওয়া এবং যেখানে স্পষ্ট করা হয়েছে যে ২০২৭ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হবে।
মাচাদো এর আগেও ট্রাম্পের প্রশংসা করেছেন। তিনি প্রেসিডেন্টকে তার নোবেল পদক উপহার দিয়েছিলেন, যে পুরস্কারটি ট্রাম্প নিজে ২০২৫ সালে পেতে প্রবল আগ্রহী ছিলেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
দীর্ঘদিনের এই অধিকারকর্মী নোবেল শান্তি পুরস্কার গ্রহণের জন্য ডিসেম্বরে ভেনেজুয়েলা ছেড়ে অসলোতে পালিয়ে যান। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, সমাজকে সংগঠিত করতে তিনি দেশে ফিরে এসেছেন। মাদুরোর শাসন থেকে এক বছর আত্মগোপনে থাকার পর গ্রে বুল রেসকিউ নামের একটি সংস্থার মার্কিন বিশেষ বাহিনীর সাবেক সদস্যরা নৌকায় করে তাকে পালাতে সাহায্য করেছিলেন।
জানুয়ারিতে মাদুরোর অপহরণের পর থেকে দেশটি শাসন করছেন তার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ। রোববার ভেনেজুয়েলায় ফেরার পর মাচাদো মোটর শোভাযাত্রায় যাওয়ার সময় উল্লসিত সমর্থকরা তাকে স্বাগত জানান। রদ্রিগেজ এই আয়োজন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, এই শো এড়ানো যেত, বিমানবন্দরগুলো এখানেই আছে।
রদ্রিগেজের সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে বিরোধী নেতা বলেন, তিনি তার কাছ থেকে বা ওয়াশিংটন থেকে কোনো বার্তা পাননি। বৃহস্পতিবার মাচাদোর বক্তব্যের কিছুক্ষণ আগেই রদ্রিগেজ জাতিকে আশ্বস্ত করে বলেন, বিশ্বকে সাক্ষী রেখে ভেনেজুয়েলায় নির্বাচন হবে, তবে তিনি কোনো তারিখ নির্দিষ্ট করেননি।
মাচাদোর এই প্রত্যাবর্তন এমন এক সময়ে ঘটল, যখন কয়েক সপ্তাহ আগেই একটি বিতর্কিত মার্কিন তেল চুক্তি হয়েছে, যার আওতায় ভেনেজুয়েলা তার বিশাল তেল মজুতের ২০ শতাংশ হস্তান্তর করবে। এই চুক্তির সমালোচনা করে মাচাদো বলেন, এই চুক্তি ভেনেজুয়েলার সমাজ যে মাত্রার স্বচ্ছতা চায়, তা প্রতিফলিত করে না।



