হাতীবান্ধায় সীমান্ত পেরিয়ে আসা চিতা বাঘের পাঁচ দিনেও খোঁজ মেলেনি, বিশেষজ্ঞ দল ফিরে গেছে

সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ঢুকে তিনজনকে আহত করা চিতা বাঘটিকে পাঁচ দিনেও খুঁজে পাওয়া যায়নি। সর্বশেষ সোমবার ২৬ অক্টোবর রাতে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার সিঙ্গিমারি এলাকায় কয়েকজন বাসিন্দা বাঘটিকে দেখেছেন বলে দাবি করেন।
সিঙ্গিমারিতে বাঘ দেখার খবর ছড়িয়ে পড়লে আমঝোল ও সিঙ্গিমারি সীমান্তসহ আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক বাড়ে। বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর এলাকাবাসী জানান, বাঘটি যাতে লোকালয়ে ঢুকে ক্ষতি করতে না পারে, সেজন্য গ্রামের যুবকেরা লাঠি ও টর্চলাইট নিয়ে সারারাত পাহারা দিয়েছেন।
মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর দুপুরে গাজীপুর সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি চিকিৎসক ডা. হাতেম সাজ্জাত মো. জুলকার নাইন বলেন, সিঙ্গিমারিতে বাঘ দেখার খবর পাওয়ার পর সেখানে বিশেষ টিম পাঠানো হয়েছে। ড্রোন ও থার্মাল ইমেজিং প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি স্থানীয়দের সহায়তায় তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে এবং বন বিভাগ ও বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে সার্বক্ষণিক আছেন।
প্রশাসন জানিয়েছে, বিজিবি, পুলিশ ও বন বিভাগের যৌথ টহল অব্যাহত রয়েছে। এলাকাবাসীকে অহেতুক আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকতে এবং সন্ধ্যার পর একা চলাচল না করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অভিযানে কৃষকদের ফসলি জমির ক্ষতি তালিকাভুক্ত করে সহায়তার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার শুরু গত রবিবার ২৫ অক্টোবর বিকেলে। হাতীবান্ধার গোতামারী ইউনিয়নের আমঝোল সীমান্তের ৯০৫ নম্বর আন্তর্জাতিক পিলারসংলগ্ন এলাকায় বাঘের আক্রমণে এক নারীসহ তিনজন আহত হন। আহতরা হলেন আমঝোল গ্রামের শরিফা বেগম (৩৪), নজরুল ইসলাম (৪৩) ও আফসার আলী (৪০)।
এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, শরিফা বেগম ধানক্ষেতে ছাগল আনতে গেলে বাঘটি তাঁর ওপর আক্রমণ করে। তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে অন্য দুজনও আহত হন।
ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা এলাকাটি ঘিরে রাখেন। বিজিবি মাইকিং করে সতর্ক করে এবং নিরাপত্তার জন্য ফাঁকা গুলি ছোড়ে। রবিবার মধ্যরাতে ড্রোনের ক্যামেরায় সীমান্তের জঙ্গলে বাঘটি দেখা গেলেও শেষ রাতের দিকে তা আওতার বাইরে চলে যায়। এরপর সোমবার রাতে সিঙ্গিমারিতে আবার বাঘ দেখার দাবি ওঠে।
লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম জানান, বাঘটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধারের সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। তিনি সবাইকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
বিভাগীয় বন ও সামাজিক বন বিভাগের কর্মকর্তা নুর ইসলাম মোবাইলে বলেন, কয়েকটি স্থানে বাঘের চলাচলের চিহ্ন বা পদছাপ পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত মানুষের উপস্থিতি ও কৌতূহলী ভিড়ের কারণে বাঘটি ভয় পেয়ে অন্য কোনো নিরাপদ স্থানে বা বনাঞ্চলে সরে গিয়ে থাকতে পারে।
শুক্রবার হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী অফিসার দীপ জন মিত্র জানান, পাঁচ দিন ধরে সতর্কতার সঙ্গে অভিযান চালিয়েও বাঘের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। বন বিভাগের কর্মকর্তা ও মাঠে কাজ করা দুটি বিশেষজ্ঞ টিম বৃহস্পতিবার তাদের কার্যক্রম শেষ করে চলে গেছেন।
তিনি জানান, স্থানীয়দের সচেতন করতে বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে। কেউ বাঘ বা অন্য বন্যপ্রাণীর পায়ের ছাপ বা সন্দেহজনক চিহ্ন দেখলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত উপজেলা প্রশাসনকে জানাতে বলা হয়েছে। সীমান্তবাসীর সুরক্ষায় বিজিবির টহল কঠোরভাবে অব্যাহত আছে এবং বর্তমানে পুরো এলাকা নিরাপদ ও স্বাভাবিক রয়েছে বলে তিনি জানান।



