হুগলির চুঁচুড়ায় ঘুঘুর বাসার জন্য দুর্গাপূজার মণ্ডপের ছাদ খুলছেন না উদ্যোক্তারা

দুর্গাপূজা শেষ হয়ে গেছে, চারদিকে মণ্ডপ খোলার কাজও শুরু হয়েছে। কিন্তু ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার চুঁচুড়ায় একটি মণ্ডপের ছাদ আপাতত খুলছেন না উদ্যোক্তারা। কারণ, সেই মণ্ডপের বাঁশের কাঠামোয় বাসা বেঁধেছে একটি ঘুঘু, আর বাসাটিতে রয়েছে চারটি ডিম।
ঘটনাটি চুঁচুড়ার সুকান্তনগরের সুকান্ত স্মৃতি সংঘের মণ্ডপের। এ বছর ক্লাবটির দুর্গাপূজা ৫৩ বছরে পা দিয়েছে। ক্লাব সদস্যদের ভাষ্য, মণ্ডপের সাজসজ্জার প্রায় সব কাজ তাঁরা নিজেদের হাতেই করেছেন।
পূজার প্রায় ১৫ দিন আগে মণ্ডপের বাঁশের কাঠামোয় বাসা বাঁধতে শুরু করে ঘুঘুটি। পরে মণ্ডপের ছাদ তৈরির সময় সদস্যরা দেখতে পান, বাসাটিতে চারটি ডিম রয়েছে।
ডিমগুলো দেখার পরই বদলে যায় মণ্ডপ তৈরির পরিকল্পনা। পাখিটির নিরাপত্তার কথা ভেবে ছাদে তাঁবু বা ত্রিপল টাঙানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন উদ্যোক্তারা। বাসাটি যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্য ওই অংশে শুধু পাতলা কাপড় ব্যবহার করা হয়। পাখিটিও বাসা ছেড়ে যায়নি।
পূজা শেষ হওয়ার পর সাধারণত মণ্ডপ খুলে ফেলার তোড়জোড় শুরু হয়। এবার সেই নিয়মে হাঁটতে রাজি নন ক্লাব সদস্যরা। তাঁদের সিদ্ধান্ত, ডিম ফুটে ছানা বের হওয়া, ছানাদের বড় হওয়া এবং উড়তে শেখা পর্যন্ত মণ্ডপের ছাদের অংশটি খোলা হবে না।
ক্লাবের সদস্য মনোজ মণ্ডল বলেছেন, মানুষের মতো প্রাণীদেরও বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। ডিম ফুটে ছানা বেরিয়ে তারা উড়তে না শেখা পর্যন্ত মণ্ডপ খোলা হবে না বলে তিনি জানান। প্রয়োজনে ছানাদের জন্য বিকল্প নিরাপদ জায়গার ব্যবস্থা করা হবে বলেও তিনি বলেন।
আরেক সদস্য শ্যামল মজুমদার জানিয়েছেন, মণ্ডপ তৈরির সময় থেকেই ঘুঘুটি সেখানে রয়েছে। কাপড় টাঙানোর পরও পাখিটি বাসা ছেড়ে যায়নি, তাই বাসাটি নষ্ট করে দিতে চান না তাঁরা।
তবে মণ্ডপের বাকি অংশ দীর্ঘদিন ফেলে রাখার পরিকল্পনা নেই উদ্যোক্তাদের। ছাদ ও ঘুঘুর বাসার অংশটুকু অক্ষত রেখে মণ্ডপের অন্য অংশ খুলে ফেলা হবে, যাতে রাস্তা ও আশপাশের জায়গা পরিষ্কার করা যায়।
উৎসব শেষে আলোকসজ্জা খুলে নেওয়া হচ্ছে, মণ্ডপের সাজসজ্জাও খুলছে। এর মধ্যেই চুঁচুড়ার এই মণ্ডপে এখন আলোচনার কেন্দ্রে প্রতিমা বা সাজসজ্জা নয়, একটি ঘুঘুর বাসা আর তাতে থাকা চারটি ডিম।



