তৃতীয় প্রান্তিকে সংকুচিত ফ্রান্সের অর্থনীতি, মন্দার আরও কাছে দেশটি
ফ্রান্সের অর্থনীতি ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে শূন্য দশমিক ১ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থা ইনসির নতুন প্রাথমিক হিসাবে এই তথ্য উঠে এসেছে, যা দেশটিকে মন্দার আরও কাছে ঠেলে দিয়েছে।
অর্থ ও অর্থনীতিমন্ত্রী রোলাঁ লেসক্যুর বলেছেন, ‘ফরাসি অর্থনীতি স্থবির হয়ে আছে। একে আবার চালু করতে হবে।’
শুক্রবার ফ্রান্সইনফোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে লেসক্যুর বলেন, এই গ্রীষ্মের চরম তাপপ্রবাহ ও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়াই নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির জন্য দায়ী।
মন্ত্রীর মতে, নতুন এই হিসাব আইনপ্রণেতাদের জন্য সরকারের প্রস্তাবিত ২০২৭ সালের বাজেট পাস করার তাগিদ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ওই বাজেটে ৪৩ বিলিয়ন ইউরো সাশ্রয় করে ঘাটতি মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
লেসক্যুর সতর্ক করে বলেছেন, ‘বাজেটে আমরা যে সমন্বয়ের প্রস্তাব রেখেছি, তা না হলে আমরা দেয়ালে ধাক্কা খাব।’
তবে ফ্রান্সের বিভক্ত পার্লামেন্ট ২০২৪ ও ২০২৫—দুই বছরই নতুন বছরের আগে বাজেট পাস করতে ব্যর্থ হয়েছে। সামনে ২০২৭ সালের বসন্তে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন থাকায় এবারও সমঝোতায় পৌঁছানো আরও কঠিন হতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু পার্লামেন্টের ভোট ছাড়াই বাজেট কার্যকর করার সাংবিধানিক পথ বেছে নিতে পারেন। তবে তাতে সংখ্যালঘু সরকারকে অনাস্থা প্রস্তাবের ঝুঁকিতে পড়তে হবে।
লেসক্যুর জোর দিয়ে বলেছেন, আগামী বছরের বাজেট পাস করা ‘বাজারকে আশ্বস্ত করা’ এবং বছরের শেষ প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি ফিরিয়ে আনার জন্য জরুরি।
এর আগে ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকেও ফরাসি অর্থনীতি শূন্য দশমিক ১ শতাংশ সংকুচিত হয়েছিল, আর পরের তিন মাসে প্রবৃদ্ধি ছিল শূন্য।
এই দুর্বল প্রবৃদ্ধি সরকারের এ বছরের ঘাটতি জিডিপির ৫ দশমিক ৪ শতাংশে নামানোর প্রতিশ্রুতিও কঠিন করে তুলতে পারে। কারণ ওই লক্ষ্য ধরা হয়েছিল ২০২৬ সালে অর্থনীতি শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বাড়বে—এমন অনুমানের ভিত্তিতে।
ঋণজনিত আর্থিক সংকট এড়াতে সরকারের চেষ্টার মধ্যেই অর্থনীতির এই স্থবিরতা এসেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ ফ্রান্স এখন রাজস্ব ও সামাজিক সংকটের এক চক্রে টেনে নেওয়া হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।



