রাশিয়া নিয়ে কড়া বক্তব্যে সংযত থাকতে ইউরোপীয় মিত্রদের আহ্বান পেন্টাগনের

ন্যাটোভুক্ত কয়েকটি দেশকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে হুমকি নিয়ে তাদের কঠোর বক্তব্য কিছুটা সংযত করার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক দপ্তর পেন্টাগন। যুক্তরাষ্ট্রের যুক্তি হলো, ইউরোপীয় নেতা ও কর্মকর্তাদের কিছু মন্তব্য মহাদেশটির নিরাপত্তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত চার ব্যক্তির বরাত দিয়ে শুক্রবার রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই ব্যক্তিরা জানান, লিথুয়ানিয়া, লাটভিয়া ও এস্তোনিয়াসহ কয়েকটি দেশকে জনসমক্ষে দেওয়া বক্তব্যের ক্ষেত্রে সংযত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে। দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে দেওয়া এই বার্তাগুলো অন্য কোনো ইউরোপীয় সরকারের কাছেও পৌঁছে দেওয়া হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের এই অনুরোধগুলো এমন এক সময়ে এল, যখন ট্রাম্প প্রশাসন ইউক্রেনে চলমান পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ আলোচনার মাধ্যমে শেষ করার প্রচেষ্টা পুনরায় শুরু করেছে। এই নতুন উদ্যোগের আওতায় একদিকে রাশিয়ার জন্য বিভিন্ন প্রণোদনার (যেমন নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা) প্রস্তাব রাখা হয়েছে, অন্যদিকে ইউক্রেনের ওপর চাপ দেওয়া হচ্ছে যেন তারা রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ করে।
এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধ করা হলে পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘মিত্র দেশগুলোর মধ্যকার ব্যক্তিগত আলোচনা একান্তই তাদের নিজস্ব বিষয়; তাই এসব অভিযোগের বিষয়ে আমরা কোনো মন্তব্য করব না।’
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক ব্যক্তি জানান, ইউরোপীয় নেতাদের কিছু মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের নজরে এসেছে। এসব মন্তব্যে বলা হয়েছে যে, ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন অত্যন্ত ধীর হয়ে পড়ায় দেশটি কোণঠাসা হয়ে পড়েছে এবং মরিয়া হয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে।
ইউরোপে মার্কিন সেনা মোতায়েনের সংখ্যা নিয়ে চলমান পর্যালোচনার অন্যতম প্রধান ব্যক্তি, পেন্টাগনের নীতিবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি এলব্রিজ কোলবি এই বার্তা প্রদানকারী মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে একজন ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। তবে আর কোন কোন কর্মকর্তা এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তা রয়টার্স নিশ্চিত হতে পারেনি।
ইউরোপের তিনজন এবং যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কেউই এমনটি বলেননি যে, এই পরামর্শটি কোনো আক্রমণাত্মক বা সংঘাতপূর্ণ ভঙ্গিতে দেওয়া হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের এই বার্তাগুলো ন্যাটোর ভেতরে চলমান একটি বিতর্কের প্রতিফলন। বিতর্কটি হলো—ক্রমবর্ধমান আগ্রাসী রাশিয়ার হুমকিকে জনসমক্ষে কীভাবে মোকাবিলা করা উচিত।
পাশ্চাত্যের কিছু কর্মকর্তার মতে, মস্কোর সৃষ্ট হুমকির ওপর অতিরিক্ত জোর দিলে তা ক্রেমলিনের উদ্দেশ্যকেই সফল করতে পারে; কারণ ক্রেমলিন চায় ভীতি ছড়াতে এবং ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন দুর্বল করতে।
অন্যদের যুক্তি হলো—ইউরোপীয় সরকারগুলোর উচিত তাদের জনগণের কাছে বিষয়টি নিয়ে স্বচ্ছ থাকা, যাতে তারা বুঝতে পারে যে মস্কোকে দূরে রাখতে হলে ত্যাগ স্বীকার করা এবং সম্পদের জোগান দেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে এমন এক সময়ে এটি আরও বেশি প্রাসঙ্গিক, যখন মনে হচ্ছে রাশিয়া পুরো ইউরোপ মহাদেশজুড়ে গোপনে অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডের গতি বাড়িয়ে দিয়েছে।
রাশিয়া এমন কোনো অভিযান চালানোর কথা অস্বীকার করেছে।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক ব্যক্তি রয়টার্সকে জানিয়েছেন, কোলবি সম্প্রতি বাল্টিক অঞ্চলের এক কর্মকর্তাকে বলেছেন, রুশদের উদ্দেশ্য করে কোনো ধরনের ‘উস্কানিমূলক আচরণ’ করা উচিত নয়।
ওই ব্যক্তি জানান, কোলবি ইউরোপীয়দের এমন কিছু মন্তব্যের উদাহরণ দিয়েছেন—যেখানে প্রকাশ্যে বলা হয়েছে যে রাশিয়াকে ‘কোণঠাসা ইঁদুরের মতো’ অবস্থায় ঠেলে দেওয়া হয়েছে। তিনি এ ধরনের বক্তব্যকে অহেতুক ও ক্ষতিকর বলে উল্লেখ করেছেন।
কোলবি ঠিক কোন মন্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করেছেন, তা স্পষ্ট নয়। তবে সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে এস্তোনিয়ার প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টেন মিচাল পুতিনকে ‘কোণঠাসা ইঁদুর’ বলে অভিহিত করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ইউক্রেনে ক্রমশ জড়িয়ে পড়ার কারণে রাশিয়া এখন ইউরোপে অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ড চালানোর পথ বেছে নিয়েছে।
পেন্টাগনের সাম্প্রতিক ব্যক্তিগত বার্তার বিষয়ে ইউরোপের আরেক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা আপনাদের সাহায্য করছি। আমেরিকানরাও আপনাদের পাশে আছে। খামোখা খুব বেশি উচ্চবাচ্য করবেন না। কোনো হইচই করবেন না।’




