এনভিডিয়ার প্রধান জেনসেন হুয়াংকে ঘিরে গুপ্তচর ষড়যন্ত্রের প্রতিবেদন ‘ভিত্তিহীন’, বলল চীন

এনভিডিয়া প্রধান জেনসেন হুয়াংকে গুপ্তচর ষড়যন্ত্রের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল—এমন প্রতিবেদন শুক্রবার প্রত্যাখ্যান করেছে চীন। দেশটি এই দাবিকে ‘ভিত্তিহীন অনুমান’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
নিউইয়র্ক টাইমস বৃহস্পতিবার জানায়, মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা আগেই এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিলেন যে সিঙ্গাপুরভিত্তিক একটি ডেটা সেন্টারের জ্যেষ্ঠ এক চীনা নির্বাহী বেইজিংকে তথ্য সরবরাহ করছিলেন।
অ্যালিস হুয়াং বা হুয়াং লে নামে চিহ্নিত ওই নির্বাহীকে নজরদারিতে রাখা হয়েছিল—তিনি চীনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চিপ পাচারের চেষ্টা করছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এনভিডিয়া প্রধানের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ কর্মসম্পর্ক গড়ে উঠেছিল।
শুক্রবার এক ব্রিফিংয়ে প্রতিবেদনটি প্রসঙ্গে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন অভিযোগগুলো অস্বীকার করেন। তিনি এটিকে ‘চীনের বদনাম করার চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়’ বলে আখ্যা দেন।
এনভিডিয়ার এক মুখপাত্র শুক্রবার বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘মিজ হুয়াংয়ের সঙ্গে জেনসেনের যোগাযোগ অস্বাভাবিক বা অপ্রত্যাশিত কিছু নয়।’ তিনি আরও বলেন, অ্যালিস হুয়াংয়ের নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান মেগাস্পিড অন্য যেকোনো আঞ্চলিক গ্রাহকের থেকে আলাদা কিছু নয়।
মুখপাত্র বলেন, ‘আমাদের আঞ্চলিক ক্লাউড গ্রাহকেরা সাধারণ ব্যবসায়িক তথ্য পান—এনভিডিয়ার সংবেদনশীল বাণিজ্য গোপনীয়তা নয়, এবং জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে প্রাসঙ্গিক কোনো তথ্য নয়।’ সিঙ্গাপুরের ওই প্রতিষ্ঠান চীনে চিপ পাচার করছিল—এমন অভিযোগ ‘গত বছরই পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে ভুয়া প্রমাণিত হয়েছিল’ বলেও জানান তিনি।
নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রায় এক বছর আগে গোয়েন্দা তথ্যগুলো সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছিল, কিন্তু তিনি কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও চীন ক্রমবর্ধমান প্রযুক্তি প্রতিযোগিতায় জড়িয়ে আছে, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা রয়েছে সামনের সারিতে। ওয়াশিংটন চীনে সবচেয়ে শক্তিশালী চিপগুলোর রপ্তানি সীমিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
এই প্রতিবেদন এমন সময়ে এলো, যখন গত মাসে ট্রাম্প চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ট্রাম্পের ভাষায় ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ (এসআই) ঘিরে নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেন।
বৈঠকের আগে ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে লেখেন, ‘চীনের প্রেসিডেন্ট সির সঙ্গে বড় একটি দিন। সুপার ইন্টেলিজেন্স (এসআই) আলোচনার বড় একটি বিষয় হবে, তবে আমি এটি ঠিক যেখানে আছে সেখানেই রাখতে চাই। চীনের অবস্থানও তা-ই। আমাদের সুরক্ষাবলয় হলো বিচার বিভাগ (ডিওজে)।’
দুই নেতার নভেম্বরে আবার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে, এবং সেখানেও প্রযুক্তি ইস্যু আলোচনার শীর্ষে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।




