উত্তর কোরিয়ার ডজনখানেক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ, সীমান্ত আলোচনার প্রস্তাব দিল দক্ষিণ কোরিয়া

উত্তর কোরিয়া বৃহস্পতিবার সমুদ্রের দিকে প্রায় এক ডজন স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে। ভারী সুরক্ষিত সীমান্তে আকস্মিক সংঘর্ষ ঠেকাতে আলোচনার আহ্বান সিউল নতুন করে জানানোর এক দিন পরই এই নিক্ষেপের ঘটনা ঘটল।
দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পূর্ব উপকূলীয় এলাকা ওনসান থেকে নিক্ষেপ করা হয় এবং সেগুলো প্রায় ২৫০ কিলোমিটার পাড়ি দেয়।
দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছে, আরও নিক্ষেপের আশঙ্কায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সঙ্গে তথ্য ভাগ করা হচ্ছে।
সিউল ২৩ অক্টোবর সামরিক আলোচনার প্রস্তাব দেয়—যাতে দুই কোরিয়াকে বিভক্তকারী সামরিক সীমানা রেখার (এমডিএল) অবস্থান যৌথভাবে যাচাই করা, সামরিক যোগাযোগ লাইন পুনরুদ্ধার করা এবং আকস্মিক সংঘর্ষ ঠেকাতে ব্যবস্থা নিয়ে একমত হওয়া যায়।
ঐক্য মন্ত্রী চুং দং-ইয়ং বুধবার সিউলের কাছে গোয়াংয়ে একটি ফোরামে তাঁর পক্ষে পঠিত ভাষণে সেই আহ্বান আবার জানান। চুং বলেন, সংলাপের মাধ্যমে এমডিএল নিয়ে দক্ষিণ ও উত্তর কোরিয়ার অবস্থান মিলিয়ে নেওয়া উচিত এবং এলাকাটি শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালনার জন্য যোগাযোগ চ্যানেল পুনরুদ্ধার করা উচিত।
উত্তর কোরিয়া এখনো আলোচনার প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি।
২১ সেপ্টেম্বর অসামরিকীকৃত অঞ্চলে (ডিএমজেড) স্থলমাইন বিস্ফোরণে তিনজন দক্ষিণ কোরীয় সেনা আহত হওয়ার পর এই প্রস্তাব আসে; আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা ছিল গুরুতর।
সিউল অভিযোগ করেছে, উত্তর কোরীয় সেনারা সীমানা রেখার দক্ষিণে মাইন পুঁতেছে। উত্তর কোরিয়া দায় অস্বীকার করেছে এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানো চিঠিতে দক্ষিণের বিরুদ্ধে ঘটনাটি বানানোর অভিযোগ করেছে।
যুদ্ধবিরতি তদারককারী মার্কিন নেতৃত্বাধীন জাতিসংঘ কমান্ড বলেছে, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ তদন্তে রেখার দক্ষিণে একটি সক্রিয় উত্তর কোরীয় মাইন শনাক্ত করা হয়েছে এবং যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন ঘটেছে বলে নির্ধারণ করা হয়েছে।
উত্তর কোরীয় সেনারা সড়ক, বেড়া ও স্থলমাইন দিয়ে সীমান্ত শক্তিশালী করছে। দক্ষিণ কোরিয়া বলছে, এই কাজের সময় তারা বারবার সীমানা রেখা অতিক্রম করেছে, যার জেরে সতর্কতামূলক সম্প্রচার ও সতর্কতামূলক গুলি চালাতে হয়েছে।
সিউল বলছে, সীমানা নিয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যার কারণে আকস্মিক সংঘর্ষ ঘটতে পারে। ইয়োনহাপের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৫৩ সালের যুদ্ধবিরতির আওতায় বসানো চিহ্নগুলোর অনেকগুলোই নষ্ট হয়ে গেছে বা হারিয়ে গেছে; মূল ১,২৯২টির মধ্যে এখন মাত্র প্রায় ২০০টি শনাক্ত করা যায়।
দুই কোরিয়ার মধ্যে সরাসরি সামরিক যোগাযোগ এখনো বন্ধ রয়েছে, যদিও কমান্ড উত্তর কোরীয় সামরিক বাহিনীর সঙ্গে একটি পৃথক চ্যানেল বজায় রেখেছে।




