ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের বৃষ্টিতে ওড়িশায় গ্রামের পর গ্রাম প্লাবিত, গঞ্জামে উদ্ধার ১১ হাজার মানুষ

ভারতের ওড়িশা রাজ্যে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে গ্রামের পর গ্রাম প্লাবিত হয়ে পড়েছে। কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। শুক্রবার এই তথ্য জানানো হয়।
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, গঞ্জাম জেলার পত্রপুর ব্লকে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৪৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। সুরাডা, সনাখেমুণ্ডী ও রঙ্গেলুন্ডা ব্লকে গত ২৪ ঘণ্টায় ২০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হয়েছে।
রাজ্য প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গঞ্জামের ধরকোট, সনাখেমুণ্ডী, সুরাডা ও পত্রপুর ব্লকের বেশির ভাগ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ওই অঞ্চলে দুই হাজারের বেশি মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন।
ধরকোটের চারটি জায়গা থেকে হেলিকপ্টারে করে ১২০ জনকে উদ্ধারের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
একজন শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গোটা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। দ্রুত উদ্ধারকাজ চালাতে গঞ্জাম জেলায় অতিরিক্ত উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়েছে।
ওই জেলায় ইতিমধ্যে ১১ হাজার মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।
গঞ্জাম জেলার ঋষিকুল্যা নদী ও গজপতি জেলার বামসাধারা নদী বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে। কোনো কোনো এলাকায় নদীর পানি লোকালয়ে ঢুকে এলাকা প্লাবিত করেছে।
উপকূলীয় অঞ্চলের নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হওয়ায় সেখানকার বাসিন্দাদের আশ্রয়শিবিরে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
লাগাতার বৃষ্টির কারণে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশার মধ্যে ট্রেন চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে। চেন্নাই-হাওড়া রেলপথে ইচ্ছাপুরম ও ঝাড়ুপুরী স্টেশনের মধ্যে রেললাইন পানির নিচে চলে গেছে।
বৃষ্টির কারণে গঞ্জাম-গজপতি জেলার সীমানায় তপ্তপানি ঘাটিতে ৩২৬ নম্বর জাতীয় সড়কে ধস নেমেছে। গঞ্জাম জেলাকে রাজ্যের পাঁচটি জেলার সঙ্গে সংযোগকারী ওই জাতীয় সড়কে ধস নামায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
রাজ্যের মুখ্যসচিব অনু গর্গ জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। উদ্ধারকাজে উপকূলরক্ষী বাহিনীর হেলিকপ্টার চাওয়া হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, রাজ্যের বিস্তীর্ণ অঞ্চল মেঘে আচ্ছন্ন রয়েছে, বৃষ্টি হচ্ছে লাগাতার এবং আবহাওয়ার পরিস্থিতি বুঝে উদ্ধারকাজে হেলিকপ্টার নামানো হবে।




