সাজেক সড়কে নয় দিনের অবরোধ রবিবার এক দিনের জন্য শিথিল, পরদিন থেকে আবার অনির্দিষ্টকালের কর্মসূচি

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক পর্যটন সড়কে টানা নয় দিন ধরে চলা অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচি আগামী রবিবার (১ নভেম্বর) এক দিনের জন্য শিথিল রাখার ঘোষণা দিয়েছে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশন।
এলাকার সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠন দুটি। তবে রবিবারের পর থেকে আগের মতো অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেন বাবুধন চাকমা ও নতুন জয় চাকমা।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাধারণ জনগণের মৌলিক প্রয়োজনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আগামী ১ নভেম্বর এক দিনের জন্য সড়ক অবরোধ শিথিল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এ শিথিলতা সাময়িক; রবিবারের পর থেকে পূর্বঘোষিত অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পুনরায় অব্যাহত থাকবে।
এদিকে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব কঠিন চীবর দানোৎসব নির্বিঘ্নে পালনের বিষয়টিও বিবেচনায় নিয়েছে সংগঠন দুটি। এ উৎসব সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের জন্য বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের ক্ষেত্রে আলোচনা সাপেক্ষে বিশেষ শিথিলতার ব্যবস্থা করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও বৌদ্ধবিহার কর্তৃপক্ষকে অবরোধকারী সংগঠনগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
তিন দফা দাবিসহ বিভিন্ন দাবি আদায়ের কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত ২২ অক্টোবর থেকে সাজেক সড়কে তৃতীয় দফায় অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চলছে। এতে সাজেকের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পর্যটন ব্যবসা, স্থানীয় মানুষের যাতায়াত ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহে ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। অবরোধের কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সন্তু লারমা নেতৃত্বাধীন জেএসএস সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক এলাকা থেকে প্রত্যাহার, স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা এবং প্রশাসনের দেওয়া আশ্বাস বাস্তবায়নের দাবিতে গত ১১ অক্টোবর থেকে আন্দোলন শুরু করে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি এবং সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশন। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত রাখার পর দাবি আদায় না হওয়ায় সংগঠন দুটি ২২ অক্টোবর থেকে পুনরায় অনির্দিষ্টকালের জন্য সড়ক অবরোধের ডাক দেয়।
অবরোধের প্রথম দিনে সাজেক ভ্যালিতে ২ হাজার ৯৩৩ জন পর্যটক আটকা পড়েন। গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পুলিশ সাজেক থেকে পর্যটকদের গাড়িবহরকে নিরাপত্তা দিয়ে খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে রওনা করে।
সেদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পর্যটক ও নিরাপত্তা বাহিনীর কনভয়টি সাজেকের উজোবাজার এলাকায় পৌঁছালে আন্দোলনকারী ও পিকেটাররা সড়কে ব্যারিকেড ও টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে তাদের পথরোধ করে। দীর্ঘ সময় আলোচনার পরও অবরোধকারীরা পথ ছাড়তে রাজি না হওয়ায় উত্তেজনা তৈরি হয়। ওই দিন সাজেক পর্যটন সড়কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, অবরোধকারী এবং দুই সংগঠনের মধ্যে উত্তেজনা, সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।
এক দিনের জন্য অবরোধ শিথিলের ঘোষণায় স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোর কিছুটা সুযোগ তৈরি হলেও পরদিন থেকে কর্মসূচি অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্তে সাজেকের স্বাভাবিক যোগাযোগব্যবস্থা ও পর্যটন কার্যক্রম নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না।




