তৃতীয়বার অভিযোগ আনার চেষ্টার বিরুদ্ধে আদালতে কমির আইনজীবীরা, সময়সীমা পেরোনোর যুক্তি

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের সাবেক পরিচালক জেমস কমির আইনজীবীরা শুক্রবার ওয়াশিংটন ডিসির আদালতে হাজির হচ্ছেন। বিচার বিভাগ তাঁর বিরুদ্ধে যে ফৌজদারি অভিযোগ এনেছে, তা খারিজের জন্য জরুরি আবেদন নিয়ে তাঁরা আদালতে লড়ছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, এক দশকেরও বেশি আগে তিনি গোপন তথ্য ভুলভাবে ব্যবহার করেছিলেন।
কমির আইনজীবীরা জেলা বিচারক ট্রেভর ম্যাকফ্যাডেনের কাছে মামলাটি বাতিলের আবেদন জানিয়েছেন। ম্যাকফ্যাডেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিয়োগ দেওয়া বিচারক। আইনজীবীদের যুক্তি, কমির অভিযুক্ত আচরণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ১০ বছরের সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে সরকার গ্র্যান্ড জুরির কাছ থেকে অভিযোগপত্র নিতে ব্যর্থ হয়েছে।
এটি ১৩ মাসের মধ্যে ফেডারেল প্রসিকিউটরদের কমির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার তৃতীয় পরিচিত চেষ্টা। এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রকাশ্যে বিচার বিভাগের কাছে দাবি জানিয়েছিলেন, কমি ও তাঁর অন্য রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এখনই ব্যবস্থা নিতে হবে।
সর্বশেষ অভিযোগগুলো সোমবার প্রকাশ্যে আসে। কমির আইনজীবীদের অনুরোধে বিচারক ম্যাকফ্যাডেন এই আইনি লড়াইয়ের গোপন বিবরণ প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
প্রকাশিত আদালতের নথি অনুযায়ী, প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, কমি এফবিআই কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছিলেন একটি পত্রিকার প্রতিবেদককে তথ্য ফাঁস করতে। ওই তথ্যের ভিত্তিতে ২০১৬ সালের ৫ অক্টোবর একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছিল, যার বিষয় ছিল ইয়াহুর ইমেইল নজরদারিতে সহায়তার অভিযোগ।
কমির খারিজের আবেদনের জবাবে প্রসিকিউটররা লিখেছেন, তদন্তে এমন প্রমাণ মিলেছে যে, আগের দিন প্রকাশিত আরেকটি সংস্থার খবরে থাকা ভুল তথ্য সংশোধন করতে চেয়েছিলেন কমি। তাঁদের দাবি, কমি কর্মীদের ওই পত্রিকার প্রতিবেদকের সঙ্গে নির্দিষ্ট কিছু তথ্যের নির্ভুলতা নিয়ে কথা বলতে নির্দেশ দিয়েছিলেন, আর এর মাধ্যমে তিনি অবৈধভাবে গোপন তথ্য হস্তান্তর করেছিলেন।
বিতর্কিত নিবন্ধটির কেন্দ্রে ছিল একটি প্রশ্ন: বিচার বিভাগ কি বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে যোগাযোগ খুঁজতে ইয়াহুকে বাধ্য করতে বিদেশি গোয়েন্দা নজরদারি আদালতের আদেশ চেয়েছিল। আগের দিনের খবরে দাবি করা হয়েছিল, মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের দেওয়া নির্দিষ্ট তথ্য খুঁজতে ইয়াহু গোপনে সব গ্রাহকের আসা ইমেইল অনুসন্ধানের জন্য বিশেষ সফটওয়্যার তৈরি করেছিল।
বিচার বিভাগের প্রসিকিউটররা অভিযোগগুলো দায়ের করেছেন 'ক্রিমিনাল ইনফরমেশন' নামের একটি পদ্ধতিতে, যার জন্য গ্র্যান্ড জুরির অনুমোদন লাগে না। নথিটি ৫ অক্টোবর গোপনে দায়ের করা হয়েছিল।
এর আগে গত বছরের একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্টকে কেন্দ্র করে ২৮ এপ্রিল নর্থ ক্যারোলাইনায় কমির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। প্রসিকিউটরদের দাবি, ওই পোস্ট প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে হুমকি ছিল। পোস্টে সৈকতে শামুক দিয়ে লেখা '৮৬ ৪৭' সংখ্যা দুটির ছবি ছিল, আর ক্যাপশনে লেখা ছিল সৈকতে হাঁটার সময় দেখা সুন্দর শামুকের গঠনের কথা। সংখ্যা দুটিকে ট্রাম্পকে সরিয়ে দেওয়ার অর্থে ব্যাখ্যা করা হয়েছিল।
কমি পরে পোস্টটি সরিয়ে নিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, কিছু মানুষ সংখ্যাগুলোকে সহিংসতার সঙ্গে যুক্ত করে, তা তিনি বুঝতে পারেননি; তাঁর মনে এমন ভাবনা আসেনি, তিনি সব ধরনের সহিংসতার বিরোধী, তাই পোস্টটি সরিয়ে নিয়েছেন। ওই মামলায় তাঁর পরবর্তী আদালতে হাজিরা জানুয়ারিতে নির্ধারিত আছে।
এরও আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে কমির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল মিথ্যা বিবৃতি ও বাধা দেওয়ার অভিযোগে, যা ২০২০ সালে সিনেট বিচার কমিটির সামনে তাঁর সাক্ষ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। কমি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছিলেন, এবং মামলাটি শেষ পর্যন্ত খারিজ হয়ে যায় এই যুক্তিতে যে, মামলাটি আনা ট্রাম্প-নিয়োগপ্রাপ্ত মার্কিন অ্যাটর্নি যথাযথভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলেন না।




