যুক্তরাষ্ট্রে ডাইভারসিটি ভিসা লটারি: আপিল আদালতের রায়ে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে সিদ্ধান্ত

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার একটি উদারপন্থী সংখ্যাগরিষ্ঠ আপিল আদালত ট্রাম্প প্রশাসনকে একটি জয় এনে দিয়েছে: আদালত নিম্ন আদালতের সেই নির্দেশ কার্যকর করা ঠেকিয়ে দিয়েছে, যেখানে পররাষ্ট্র দপ্তরকে ২০২৭ সালের ডাইভারসিটি ভিসা লটারির আবেদনের পুল খোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এই লটারির মাধ্যমে প্রতি বছর কম অভিবাসন হার থাকা দেশগুলো থেকে প্রায় ৫৫ হাজার অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্রে আসেন।
২-১ ভোটের রায়ে নবম সার্কিট আপিল আদালত মার্কিন জেলা বিচারক জিনসুক ওহতার দেওয়া প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা আটকে দেয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও নভেম্বরে ‘কিছু পরিবর্তন বাস্তবায়নের’ কথা বলে কর্মসূচিটির নতুন আবেদন গ্রহণ বিলম্বিত করার নোটিশ দেওয়ার পর সেই নিষেধাজ্ঞায় লটারির পুল খোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল; তবে আবেদনের সময়কাল আর খোলেনি।
এর এক মাস পর পররাষ্ট্র দপ্তর ডাইভারসিটি ভিসা দেওয়া অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিতের নির্দেশ দেয়। এর আগে ২০১৭ সালে লটারি ভিসা পাওয়া একজন পর্তুগিজ নাগরিক ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে গণগুলিবর্ষণে দুজনকে হত্যা ও নয়জনকে আহত করেন। গুলিবর্ষণকারী ক্লাউদিও মানুয়েল নেভেস ভালেন্তেকে ব্রাউন ঘটনার দুই দিন পর ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) একজন অধ্যাপক হত্যার সঙ্গেও যুক্ত করা হয়।
আপিল আদালত রায়ে বলে, অভিবাসন আইন সংস্থা রেড ঈগল, যারা ভিসা লটারি প্রক্রিয়ায় থাকা ব্যক্তিদের প্রতিনিধিত্ব করে, তাদের ফেডারেল সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করার অধিকার (স্ট্যান্ডিং) নেই। আদালতের মতে, এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য ছিল অভিবাসনকে উৎসাহিত করা, আইন সংস্থাগুলোর জন্য আয় তৈরি করা নয়।
আদালত লিখেছে, ‘রেড ঈগল ল-কে যদি তার কাল্পনিক বা অনুমানভিত্তিক পরোক্ষ ক্ষতির ভিত্তিতে স্ট্যান্ডিং দাবি করতে দেওয়া হয়, তাহলে আমরা বন্যার দরজা খুলে দেব, সব আইনজীবীকে সরকারি অন্যায় খুঁজতে সারা দেশে ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ দেব।’
তবে আদালত স্পষ্ট করেছে, তার রায় প্রক্রিয়াগত ভিত্তির ওপর দেওয়া এবং পররাষ্ট্র দপ্তর আইন মানতে ব্যর্থ হয়েছে কি না, সে বিষয়ে আদালত কোনো মত দেয়নি। আদালত লিখেছে, ‘লটারির নিবন্ধনের সময়কাল না খোলার দপ্তরের ব্যর্থতাকে আমরা অনুমোদন দিচ্ছি না।’
সাবেক ফেডারেল প্রসিকিউটর ও হোল্টজম্যান ভোগেলের অংশীদার অভিষেক কাম্বলি এক্সে দেওয়া পোস্টে উদারপন্থী আদালতের এই সিদ্ধান্তকে ‘খুব সহজ সিদ্ধান্ত’ বলেন। তাঁর ভাষায়, মামলাকারী ছিল একটি আইন সংস্থা, যারা ডাইভারসিটি ভিসা লটারিতে থাকা কারও পক্ষে নয়, বরং সংস্থাটির নিজের পক্ষে দাবি এনেছিল; জেলা আদালতের স্ট্যান্ডিংয়ের বাইরে যাওয়াই উচিত হয়নি।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বহু বছর ধরে ভিসা লটারি কর্মসূচির বিরোধিতা করে আসছেন। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে তিনি এই কর্মসূচি বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভিসা মেধার ভিত্তিতে দেওয়া উচিত।


