মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে দুই দলেই নেতৃত্বের নতুন সমীকরণ, ট্রাম্পের বিকল্প খুঁজছেন রিপাবলিকানদের একাংশ
যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ঘিরে দেশটির প্রধান দুই রাজনৈতিক দলেই নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন সমীকরণ শুরু হয়েছে।
রিপাবলিকান পার্টিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একক আধিপত্য নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভেতরেও মূলধারার নেতাদের সঙ্গে প্রগতিশীলদের নেতৃত্বের লড়াই ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।
রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, গত এক দশকে ট্রাম্প নিজের মতো করে রিপাবলিকান পার্টিকে গড়ে তুলেছেন। তবে এবার ভোটারদের অসন্তোষের মুখে তাঁর জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক প্রভাব চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে অনেক রিপাবলিকান প্রার্থী ট্রাম্পের বিভিন্ন নীতি থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে রাখছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নির্বাচনে রিপাবলিকানদের খারাপ ফল হলে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘিরে দলের নেতৃত্বের সমীকরণেও পরিবর্তন আসতে পারে। এতে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর মতো নেতাদের রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল হওয়ার আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে দলের নেতৃত্বে সামনে আসতে পারেন টেক্সাসের সিনেটর টেড ক্রুজ, ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিস কিংবা ট্রাম্পের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত ক্রিস ক্রিস্টির মতো নেতারা।
অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটিক পার্টিতে নির্বাচনে ভালো ফলের সম্ভাবনা থাকলেও দলের ভবিষ্যৎ নীতি ও নেতৃত্ব নিয়ে মতবিরোধ বাড়ছে। মূলধারার নেতারা প্রতিনিধি পরিষদের সম্ভাব্য স্পিকার হাকিম জেফরিস ও সিনেটর চাক শুমারকে ঘিরে আশাবাদী। তবে দলের ভেতরে প্রগতিশীল ও ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্টদের প্রভাবও বাড়ছে।
প্রগতিশীল নেতাদের অভিযোগ, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে প্রচলিত নীতিগুলো কার্যকর হচ্ছে না। ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থান মোকাবিলায় ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নীতি ও নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন বলেও মনে করছেন তাঁরা।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল যা-ই হোক, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন নেতৃত্বের লড়াই আরও স্পষ্ট হবে। ট্রাম্প রাজনৈতিকভাবে চাপে পড়লেও রিপাবলিকান পার্টিতে তাঁর দীর্ঘদিনের প্রভাব দ্রুত শেষ হয়ে যাবে, এমনটা মনে করছেন না তাঁরা।


