গোপন তথ্য সামাজিক মাধ্যমে ফাঁসের অভিযোগে নর্থ ক্যারোলাইনায় সাবেক ঠিকাদারকে গ্রেপ্তার করল এফবিআই

যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গোপনীয় জাতীয় প্রতিরক্ষা তথ্য ফাঁসের অভিযোগে এক সাবেক সরকারি ঠিকাদারকে গ্রেপ্তার করেছে ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)।
গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম জেমস টমাস অ্যাশবেকার (৩৭)। তিনি নর্থ ক্যারোলাইনার স্প্রিং লেকের বাসিন্দা। কর্তৃপক্ষ বলছে, তিনি অতিগোপনীয় নিরাপত্তা তথ্য অনলাইনে প্রকাশ করেছেন এবং নাইট-ভিশন গগলস চুরি করেছেন।
কৌঁসুলিদের ভাষ্য অনুযায়ী, অ্যাশবেকারের বিরুদ্ধে জাতীয় প্রতিরক্ষা তথ্য অননুমোদিতভাবে পাঠানো, প্রতিরক্ষা নথি বেআইনিভাবে নিজের কাছে রাখা এবং সরকারি সম্পত্তি চুরির ফেডারেল অভিযোগ আনা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অ্যাশবেকার অনুমতি ছাড়া গোপন সামরিক অভিযানের ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সরিয়ে নেন এবং সেগুলো একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাঠান। পরে অন্য ব্যবহারকারীরা সেই গোপন উপাদান দ্বিতীয় আরেকটি সামাজিক মাধ্যমে আবার প্রকাশ করেন।
বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, একটি ব্যক্তিগত সরাসরি বার্তায় অ্যাশবেকার এক সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীকে আপলোড করা কয়েকটি উপাদান সরিয়ে নিতে বলেন এবং ব্যাখ্যা করেন যে তিনি ‘ক্ষতি সামাল দেওয়ার’ চেষ্টা করছেন।
পরে ফেডারেল এজেন্টরা তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে সংবেদনশীল জাতীয় প্রতিরক্ষা তথ্যসংবলিত একটি গোপন সামরিক পুরস্কারের মনোনয়নপত্র পান। একই সঙ্গে মার্কিন সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযান কমান্ডের একটি ইউনিট থেকে নিখোঁজ হিসেবে নথিভুক্ত বিশেষ নাইট-ভিশন গগলস ব্যবস্থাও সেখানে পাওয়া যায়।
অ্যাশবেকার নর্থ ক্যারোলাইনার ফোর্ট ব্র্যাগে মার্কিন সেনাবাহিনীকে নিরাপত্তা ও জরুরি ব্যবস্থাপনা সেবা দেওয়া একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। সেখানে তাঁর ‘টপ সিক্রেট’ ছাড়পত্রের পাশাপাশি সংবেদনশীল বিভাগীয় তথ্যে (এসসিআই) প্রবেশাধিকার ছিল।
মামলাটি তদন্ত করছে এফবিআইয়ের শার্লট ফিল্ড অফিস, মার্কিন সেনাবাহিনীর অপরাধ তদন্ত বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে।
অ্যাশবেকারের গ্রেপ্তারের ঘটনা এসেছে প্রায় দুই বছর পর, যখন রাশিয়ার ইউক্রেন যুদ্ধসংক্রান্ত অতিগোপনীয় সামরিক নথি ফাঁসের দোষ স্বীকারের ঘটনায় ম্যাসাচুসেটস এয়ার ন্যাশনাল গার্ডের সদস্য জ্যাক টেইক্সেইরাকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিলেন এক ফেডারেল বিচারক। টেইক্সেইরা স্বীকার করেছিলেন, তিনি বেআইনিভাবে সেই গোপন তথ্য সংগ্রহ করে ডিসকর্ড প্ল্যাটফর্মে অন্য ব্যবহারকারীদের সঙ্গে ভাগ করেছিলেন।




