ওরেগনের স্কুলে বন্দুকধারীকে ঝাঁপিয়ে ধরা কর্মী ক্যাসিডি শুটজ প্রথমবার মুখ খুললেন

যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন অঙ্গরাজ্যের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বন্দুক হামলা ঠেকাতে সাহায্য করা কর্মী শুক্রবার প্রথমবারের মতো মুখ খুলেছেন। স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে বেন্ডের সিলভার রেল এলিমেন্টারি স্কুলের লার্নিং স্পেশালিস্ট ক্যাসিডি শুটজ হিসেবে শনাক্ত করেছে।
বেন্ড-লা পাইন স্কুলসের প্রকাশ করা এক বিবৃতিতে শুটজ বলেছেন, ‘সবকিছু এত দ্রুত ঘটে গেছে, এবং আমি মন থেকে চাই, আমাদের হাতে যদি আরও সময় থাকত।’ তিনি বলেছেন, এই ক্ষতির বেদনা তিনি চিরকাল বয়ে বেড়াবেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ অক্টোবরের ওই হামলাটি ঘটেছিল একটি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শ্রেণিকক্ষের ভেতরে। বন্দুকধারী তিন শিক্ষার্থী ও এক শিক্ষককে গুলি করে হত্যা করে। আরেক শিক্ষার্থী ও এক শিক্ষক আহত হন। শুটজ অক্ষত ছিলেন বলে পুলিশ আগেই জানিয়েছিল।
জেলা কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, শুটজ বন্দুকধারীর দিকে নিজের ফোন ছুড়ে মারেন এবং তাকে ঝাঁপিয়ে ধরেন। এরপর এক অভিভাবক বন্দুকধারীকে অনুসরণ করে স্কুলে ঢুকে তাকে গুলি করে হত্যা করেন; বন্দুকধারীর বয়স ছিল ১৬ বছর।
হামলার পরদিন এক ব্রিফিংয়ে বেন্ড পুলিশ প্রধান মাইক ক্রান্টজ ওই কর্মীর প্রশংসা করেছিলেন। তখন নাম প্রকাশ না করে তিনি বলেছিলেন, ফোন ছুড়ে মারার পর কর্মীটি বন্দুকধারীকে ঝাঁপিয়ে ধরে তার অস্ত্র কেড়ে নেওয়ার জন্য লড়াই করেন, যা ‘প্রায় নিশ্চিতভাবেই আরও রক্তপাত ঠেকাতে সাহায্য করেছে’।
বিবৃতিতে শুটজ বলেছেন, ‘যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের পরিবার, যারা আহত হয়েছেন এবং সেদিন যারা সেখানে ছিলেন—আমার ভাবনা তাদের সঙ্গেই। আমার হৃদয় আপনাদের সঙ্গে আছে।’
তিনি আরও বলেছেন, ‘এই অবিশ্বাস্য বাস্তবতার জন্য কোনো শব্দই যথেষ্ট নয়। আমার মনোযোগ এখন এই পরিবারগুলো, আমাদের দল, আমাদের স্কুল এবং আমার নিজের সেরে ওঠার দিকে।’
বন্দুকধারীকে গুলি করা দুই সন্তানের বাবা কাইলাব জিয়ামানকোও শুটজের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। ওরেগন পাবলিক ব্রডকাস্টিংকে গত সপ্তাহে তিনি বলেন, শুটজ তাকে নিজে আহত না হয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি তাকে জড়িয়ে ধরতে চাই, কারণ তিনিই একজন সত্যিকারের নায়ক।’



