যুক্তরাষ্ট্রে হ্যালোইনের মিষ্টির দামে চমক: পাঁচ বছরে বেড়েছে ৭১ শতাংশ

যুক্তরাষ্ট্রে হ্যালোইনের জন্য মিষ্টি কিনতে গিয়ে এ বছর অনেক ক্রেতাই চড়া দামে ধাক্কা খাচ্ছেন। জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপের মধ্যেই মৌসুমি চকলেট ও ক্যান্ডির দাম গত বছরের তুলনায় আরও বেড়েছে।
ম্যানহাটনের একটি টার্গেট দোকানে হ্যালোইনের সস্তা অফার খুঁজছিলেন ৩৩ বছর বয়সী আর্থিক উপদেষ্টা দেমেত্রিও বেলত্রেস। তিনি জানান, সাধারণত তিনি ১৫ থেকে ২০ ডলার খরচ করেন, কিন্তু দাম অনেক বেড়ে যাওয়ায় এবার তাঁকে অন্তত ২০ থেকে ৩০ ডলার খরচ করতে হচ্ছে, যাতে বাচ্চাদের কিছু দিতে পারেন।
গ্রাউন্ডওয়ার্ক কোলাবোরেটিভ ও সেঞ্চুরি ফাউন্ডেশনের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জনপ্রিয় হ্যালোইন চকলেট ও মিষ্টির দাম এ বছর ২০২৫ সালের তুলনায় ১৫ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি।
ব্যক্তিগত অর্থায়ন সংস্থা ফাইন্যান্স বাজের আলাদা গবেষণা বলছে, গত পাঁচ বছরে হ্যালোইনের মিষ্টির দাম বেড়েছে ৭১ শতাংশ, যা একই সময়ের সাধারণ মূল্যবৃদ্ধির হারের চেয়ে অনেক বেশি।
মিষ্টির দাম বাড়ার বড় কারণ কোকোর চড়া দাম। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের তথ্য অনুযায়ী, সেন্ট লুইস ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের মাধ্যমে পাওয়া হিসাবে, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে এক টন কোকোর দাম ১০ হাজার ৭০০ ডলারের বেশি উচ্চতায় উঠেছিল। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তীব্র আবহাওয়া সরবরাহে বিঘ্ন ঘটিয়েছিল।
কলাম্বিয়া বিজনেস স্কুলের সহযোগী অধ্যাপক স্টিফেন জাগর বলেন, এখন যে কোকো খাওয়া হচ্ছে, তা কেনা হয়েছিল যখন দাম চড়া ছিল। খাদ্য ব্যবসা বিষয়ে বিশেষজ্ঞ জাগর আরও বলেন, মানুষের খরচের সামর্থ্য সীমিত, আর নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়লে হ্যালোইনকে সবচেয়ে জমকালো করে তোলার ইচ্ছা কমতে পারে। তাঁর ভাষায়, উৎসবটি এখন দরজায় ভয় দেখানোর চেয়ে অর্থনৈতিক দিক থেকেই বেশি ভয়ংকর হয়ে উঠেছে।
সার্বিক জীবনযাত্রার চাপও বাড়ছে। মূল্যস্ফীতি চলছে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ হারে, আর জ্বালানির দামও বেশি। ডিজেলের দাম গ্যালনপ্রতি ৬ দশমিক ৩২ ডলার, যা সেপ্টেম্বরে ছোঁয়া রেকর্ড দামের চেয়ে মাত্র ২০ সেন্ট কম।
নিউইয়র্কে কেনাকাটা করতে আসা ম্যালোরি নামের এক ক্রেতা বলেন, সবকিছুরই দাম বেশি, তাই হ্যালোইনের ক্যান্ডির দাম বেশি হওয়ায় তিনি অবাক নন। তিনি নিজের পদবি জানাতে চাননি।
ভোক্তা ও বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান নিলসেন আইকিউর হিসাবে, উৎসবের আগে কেনাকাটার ধরনে এই চাপের প্রভাব পড়েছে। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত হ্যালোইনের মিষ্টির বিক্রি কমেছিল ১১ দশমিক ৭ শতাংশ, আর অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত বিক্রি কম ছিল ৬ দশমিক ৭ শতাংশ।
নিলসেন আইকিউর মার্কিন খাদ্য বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্রিস কস্তাগলি বলেন, হ্যালোইন কাছে আসায় ক্রেতাদের খরচের ইচ্ছা বেড়েছে, তবে তাঁরা সতর্কই আছেন। ছোট প্যাকেটের বিক্রি বেড়েছে, বড় আকারের প্যাকেটের বিক্রি এখনো পিছিয়ে আছে। তাঁর মতে, এই ভোক্তা উপলক্ষটি চান, কিন্তু ঝুড়িতে কী তুলছেন সেদিকে আগের চেয়ে অনেক বেশি নজর দিচ্ছেন।
জাগর অবশ্য খরচ কমানোর মধ্যে নতুন সুযোগও দেখছেন। তাঁর পরামর্শ, বাচ্চাদের হাতে মিষ্টি তুলে দেওয়ার ধরনটাই আকর্ষণীয় করা যায় — যেমন ভূতুড়ে নকল কঙ্কালের হাত দিয়ে মিষ্টি বিলানো, কিংবা সেজেগুজে অতিথিদের অভ্যর্থনা জানানো। বাড়িতে নিজে মিষ্টি বানিয়ে সবাইকে ডেকে একসঙ্গে তৈরি করাও একটি উপায় হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।



