টরন্টোর ব্রাইডল পাথে বাড়িতে ঢুকে গুলি ও হাতুড়ির হামলা, সিইও ও তাঁর দুই মেয়ে গুলিবিদ্ধ

কানাডার টরন্টোর ধনী আবাসিক এলাকা ব্রাইডল পাথে ভোররাতে একটি বাড়িতে ঢুকে গুলি ও হাতুড়ি দিয়ে হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। হামলায় আবাসন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ম্যাক গ্রুপের প্রধান নির্বাহী ডেরেক মর্টন ও তাঁর দুই মেয়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এবং তাঁর স্ত্রীর মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা হয়েছে বলে টরন্টো পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় ভোর ৩টা ৪৪ মিনিটে। সন্দেহভাজনরা বাড়ির পেছনের দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকে পরিবারের কাছে মূল্যবান জিনিসপত্র দাবি করে, হামলা চালিয়ে একটি গাড়িতে করে পালিয়ে যায়। সন্দেহভাজনদের পরিচয় এখনো প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার দেওয়া এক বিবৃতিতে ডেরেক মর্টন হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘কোনো পরিবারেরই এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হওয়া উচিত নয়।’ তিনি বলেন, ‘যে জায়গায় সবার সবচেয়ে নিরাপদ বোধ করার কথা—নিজের বাড়িতে—সেখানে এমন ভয়ংকর ঘটনার মানসিক আঘাত কাটিয়ে ওঠা কঠিন।’
মর্টন বিবৃতিতে বলেন, ‘তিনজন মুখোশধারী ব্যক্তি হ্যান্ডগান ও হাতুড়ি নিয়ে জোর করে আমাদের বাসায় ঢোকে। হামলায় আমাদের পরিবারের তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে সুস্থ হয়ে উঠছেন। পরিবারের চারজনকেই হাতুড়ি দিয়েও আঘাত করা হয়েছে, সবাই আহত হয়ে জরুরি চিকিৎসা নিয়েছেন।’
পুলিশ ভুক্তভোগীদের নাম প্রকাশ করেনি, তবে তাদের বয়স ৭৫, ৬৪, ২৮ ও ২৬ বছর বলে জানিয়েছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুলিবিদ্ধ দুই প্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে হলেন ক্রিস্টিনা ও ম্যাগি এবং হাতুড়ির আঘাতে মাথায় আঘাত পাওয়া স্ত্রী হলেন ডোরিয়ানা জোহিল-মর্টন। পুলিশ জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে দুজন এখনো হাসপাতালে আছেন।
পুলিশের ধারণা, পরিবারটি ধনী এলাকায় বসবাস করায় তাদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। টরন্টো পুলিশ সার্ভিসের ইন্সপেক্টর ক্রিস্টি স্মিথ সাংবাদিকদের বলেন, ‘সাধারণত ধনী এলাকা মানেই ভালো জিনিসপত্র—আর সব সময়ই এমন লোক থাকে, যারা সেসব জিনিস হাতিয়ে নিতে চায়।’
ইন্সপেক্টর স্মিথ আরও বলেন, সন্দেহভাজনরা বাড়ি থেকে কিছু নিয়েছে কি না, তা পুলিশ এখনো জানে না। তাদের শনাক্তে সহায়ক হতে পারে এমন গুলির খোসা উদ্ধারে কাজ চলছে বলেও তিনি জানান। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তিন সন্দেহভাজনই বিশের কোঠায় বয়সী পুরুষ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ব্রাইডল পাথ কানাডার সবচেয়ে ধনী এলাকাগুলোর একটি। সংগীত তারকা ড্রেক ও সেলিন ডিওনের মতো বাসিন্দা এই এলাকায় থেকেছেন। উঁচু দেয়াল ও লোহার গেটের আড়ালে বড় বড় প্রাসাদোপম বাড়ির এই এলাকায় প্রায়ই ভাড়া করা নিরাপত্তাকর্মীদের টহল দিতে দেখা যায়। পুলিশের পরিসংখ্যান বলছে, টরন্টোতে বাড়িতে ঢুকে হামলার ঘটনা বাড়ছে এবং কিছু বাসিন্দা বাড়ির নিরাপত্তা জোরদারের পদক্ষেপ নিচ্ছেন।
টরন্টোর মেয়র অলিভিয়া চাউ সামাজিক মাধ্যম এক্সে লিখেছেন, এই হামলায় তিনি ‘গভীরভাবে উদ্বিগ্ন’। তিনি বলেন, ‘এই হামলা স্বাভাবিকভাবেই এলাকাটিকে এবং টরন্টোর অনেক বাসিন্দাকে নাড়া দিয়েছে। আমাদের শহরে এই সহিংসতা গ্রহণযোগ্য নয়। মানুষকে নিজের বাড়িতে নিরাপদ থাকতে হবে।’ রক্ষণশীল বিরোধী দলের নেতা পিয়েরে পলিয়েভর ঘটনাটিকে ‘ভয়ংকর’ বলে অভিহিত করেছেন এবং অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করার আহ্বান জানিয়েছেন।
টরন্টো পুলিশ প্রধান মাইরন ডেমকিউ জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিন ব্রাইডল পাথ এলাকায় বাসিন্দারা বাড়তি পুলিশি টহল দেখতে পাবেন। তিনি বলেন, ‘বাড়িতে ঢুকে হামলার এই উদ্বেগজনক প্রবণতা মোকাবিলায় এবং আমাদের সম্প্রদায়গুলোকে নিরাপদ রাখতে আমরা কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়া ও অতিরিক্ত সম্পদ নিয়োগ অব্যাহত রেখেছি।’




