মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রে আইসের অভিযান বেড়েছে, তবু আগাম ভোটে ভিড় বাড়ছেই
যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে দেশের বিভিন্ন শহর ও রাজ্যে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসের (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) তৎপরতা লক্ষণীয়ভাবে বেড়ে যাওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। এনপিআর ও এর সদস্য স্টেশনগুলোর সংগ্রহ করা প্রতিবেদন অনুযায়ী, অক্টোবরজুড়ে গ্রামীণ ইলিনয়, ওরেগন, ডেট্রয়েট ও ক্যালিফোর্নিয়া থেকে এমন অভিযান বৃদ্ধির খবর এসেছে।
বুধবার খুব ভোরে নিউ জার্সির ডোভারের কাউন্সিল সদস্য সান্দ্রা উইটনার বার্তা পেতে শুরু করেন—একটি ওয়ালগ্রিনসের বাইরে এক ডজন বা তার বেশি অভিবাসন কর্মকর্তা জড়ো হয়েছেন। সারা দিন ধরে উত্তর নিউ জার্সির বাসিন্দারা আইসের তৎপরতায় হঠাৎ বাড়তি দেখতে পান। উইটনার বলেন, ‘অনেকের মধ্যেই উদ্বেগ ও ভয় ছিল। আমরা আসলে নিশ্চিত ছিলাম না বড় কিছু ঘটতে যাচ্ছে কি না। মানুষজন স্বস্তি বা নিরাপদ বোধ করছিল না।’ কে আটক হয়েছেন বা কোথায়, তা তিনি জানেন না; হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এখন আর তাদের অভিযান সম্পর্কে সময়মতো তথ্য প্রকাশ করে না বলে এ ধরনের অভিযানের খবর ঘটনার সময় সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এনপিআর সংস্থাটির কাছে সম্প্রতি তৎপরতা বেড়েছে কি না জানতে চাইলে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জবাবে বলে, ‘আইসের কর্মকর্তারা ৫০টি রাজ্যের সব কটিতেই সপ্তাহে সাত দিন, দিনে ২৪ ঘণ্টা আমাদের দেশের অভিবাসন আইন বাস্তবায়ন করেন।’
নিউ ইয়র্ক সিটিতেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। মেয়র জোহরান মামদানির কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা, যিনি প্রকাশ্যে কথা বলার অনুমতিপ্রাপ্ত নন, নিশ্চিত করেছেন যে শহরে আইসের তৎপরতা বেড়ে যাওয়া তারা লক্ষ্য করেছেন। প্রতিবেশীদের একটি স্বেচ্ছাসেবী দলের একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমরা অবশ্যই তৎপরতার ঊর্ধ্বগতি দেখছি, গ্রীষ্ম থেকেই এটা চলছে।’ তার দল আইসের অভিযানের ঘটনাস্থলে যায়, ঘটনা নথিবদ্ধ করে, আটক ব্যক্তিদের তাদের অধিকার সম্পর্কে জানায় এবং প্রতিবেশীদের সতর্ক করে। তিনি বলেন, ‘গত কয়েক সপ্তাহে আমরা অসংখ্য বড় অভিযান দেখেছি, যেগুলোকে আমরা ক্লাস্টার রেইড বলি—একদল কর্মকর্তা একটি স্থানে যান, তারপর পরের স্থানে।’
ওরেগনেও একই প্রবণতার কথা জানিয়েছেন ওরেগন পাবলিক ব্রডকাস্টিংয়ের প্রতিবেদক ট্রয় ব্রাইনেলসন। তিনি বলেন, অক্টোবরের শুরুতে যা দেখা যাচ্ছিল এবং সারা মাস ধরেই, অন্তত পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, পোর্টল্যান্ডে আইসের তৎপরতা সত্যিই বেড়ে গেছে। তার মতে, এই তৎপরতা মূলত বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে কেন্দ্রীভূত এবং গ্রীষ্মের তুলনায় এটি লক্ষণীয় ঊর্ধ্বগতি।
নাগরিক অধিকার সংগঠন লিগ অব ইউনাইটেড ল্যাটিন আমেরিকান সিটিজেনসের (লুলাক) হুয়ান প্রোয়ানো উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, কারণ এই তৎপরতা মধ্যবর্তী নির্বাচনের এত কাছাকাছি সময়ে ঘটছে। তিনি বলেন, ‘বিষয়টা ভোটকেন্দ্রের ভিতরে আইস নয়, বিষয়টা ভোটকেন্দ্রের চারপাশে আইস। বড় ধরনের অভিযান ভোটকেন্দ্র থেকে দূরে হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদের মাধ্যমে তা একজন মানুষকে ভোট দিতে বের হওয়া থেকে বিরত রাখার জন্য যথেষ্ট হতে পারে।’
এনওয়াইইউ আইন স্কুলের ব্রেনান সেন্টার ফর জাস্টিসের ওয়েন্ডি ওয়াইজার বলেন, প্রশাসন সম্প্রদায়গুলোতে যেসব কৌশল প্রয়োগ করছে, তা ভোটারদের ভয় দেখানোর জন্যই পরিকল্পিত বলে মনে হচ্ছে। তবে তার মতে, এখন পর্যন্ত এর প্রভাব ভোটার উপস্থিতিতে পড়েনি; বরং আগাম ভোট বেড়ে চলেছে। তিনি বলেন, ‘ভালো খবর হলো, এটা কাজ করছে না। আমেরিকানরা এটা উপেক্ষা করছেন এবং অংশগ্রহণে আমরা উল্লেখযোগ্য প্রভাব দেখছি না। বরং যেসব সম্প্রদায়কে আইস ও ডিএইচএস লক্ষ্যবস্তু করেছে—বর্ণের সম্প্রদায় ও লাতিনো সম্প্রদায়সহ সব সম্প্রদায়েই আমরা অংশগ্রহণে বিপুল ঊর্ধ্বগতি দেখছি।’
তবে ওয়াইজার সতর্ক করেন, ভোটকেন্দ্রে ভয় দেখানো বেআইনি এবং এমন ঘটনা ঘটলে তা জানানো উচিত। অর্থাৎ নির্বাচনের আগে অভিযান বাড়লেও, প্রতিবেদন অনুযায়ী ভোটারদের আগাম ভোট দেওয়ার আগ্রহ তাতে কমেনি।


