ক্যালিফোর্নিয়ার নতুন আসন-মানচিত্রে বদলে যেতে পারে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সবচেয়ে জনবহুল অঙ্গরাজ্য ক্যালিফোর্নিয়া এবার বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে, কারণ সেখানে চালু হওয়া নতুন কংগ্রেস আসন-মানচিত্র প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের দিকে ঘুরিয়ে দিতে পারে। বর্তমানে পরিষদে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে।
নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে মঙ্গলবার ৩ নভেম্বর। ক্যালিফোর্নিয়ায় ভোটকেন্দ্র খোলা থাকবে সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত, আর ডাকযোগে পাঠানো ব্যালটে নির্বাচনের দিনের ডাকমোহর থাকতে হবে।
প্রতিনিধি পরিষদে মোট ৪৩৫টি আসন রয়েছে, প্রতিটি আসন থেকে একজন করে সদস্য নির্বাচিত হন। আসনগুলোর জনসংখ্যা সমান হলেও সীমানা নির্ধারণ করে অঙ্গরাজ্যগুলো, আর দলীয় স্বার্থে সীমানা টানাকেই পক্ষপাতমূলক পুনর্বিন্যাস বলা হয়।
ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম প্রথম এককালীন পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব দেন, সাতটি রিপাবলিকান-নেতৃত্বাধীন অঙ্গরাজ্য নিজেদের মানচিত্র নতুন করে আঁকার পর। ক্যালিফোর্নিয়ায় পক্ষপাতমূলক পুনর্বিন্যাস নিষিদ্ধ থাকলেও নিউসম একে অনিচ্ছাকৃত কিন্তু প্রয়োজনীয় পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরেন।
২০২৫ সালে ভোটাররা প্রস্তাব ৫০ অনুমোদন করেন, যার ফলে অঙ্গরাজ্যের নির্দলীয় পুনর্বিন্যাস কমিশন ২০৩০ সাল পর্যন্ত স্থগিত থাকে। নতুন মানচিত্রে কয়েকটি রিপাবলিকান ঘাঁটি ডেমোক্র্যাটদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তোলা হয়েছে, আর এই উদ্যোগের লক্ষ্য ডেমোক্র্যাটদের অন্তত পাঁচটি অতিরিক্ত আসন পাওয়া, যেখানে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা মাত্র চার আসনের।
ক্যালিফোর্নিয়ার প্রতিনিধি পরিষদে ৫২ জন সদস্য রয়েছেন, যা যেকোনো অঙ্গরাজ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ; এর মধ্যে রিপাবলিকানদের হাতে আছে মাত্র আটটি আসন।
সবচেয়ে আলোচিত লড়াইগুলোর একটি ২২ নম্বর আসনে, কৃষিসমৃদ্ধ সেন্ট্রাল ভ্যালিতে। প্রস্তাব ৫০-এর আওতায় পুনরায় আঁকা এই সাবেক রিপাবলিকান ঘাঁটিতে বর্তমান রিপাবলিকান প্রতিনিধি ডেভিড ভালাদাওয়ের সঙ্গে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী র্যান্ডি ভিলেগাসের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হচ্ছে। ভিলেগাস জীবনযাত্রার ব্যয়, স্বাস্থ্যসেবা ও ট্রাম্পের অভিবাসন অভিযান নিয়ে ভালাদাওকে আক্রমণ করছেন, যা এলাকার অভিবাসী খামারশ্রমিক সম্প্রদায়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু।
মেক্সিকো সীমান্তের কাছে সান ডিয়েগো কাউন্টির অংশ নিয়ে গঠিত ৪৮ নম্বর আসনটিও পুনর্বিন্যাসের পর অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিনের রিপাবলিকান প্রতিনিধি ড্যারেল ইসা পুনর্বিন্যাসের পর অবসরের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় এখন রিপাবলিকান জিম ডেসমন্ড ও ডেমোক্র্যাট সান ডিয়েগো কাউন্সিল সদস্য মার্নি ভন উইলপার্ট আসনটির জন্য লড়ছেন।
পুনর্বিন্যাসের অপ্রত্যাশিত ফল হিসেবে দুই রিপাবলিকান সদস্য কেন ক্যালভার্ট ও ইয়ং কিম নতুন মানচিত্রে একই আসনে পড়ে পরস্পরের বিরুদ্ধে তীব্র লড়াইয়ে নেমেছেন।
গভর্নর পদে নিউসমের উত্তরসূরি হওয়ার লড়াইয়ে রয়েছেন রিপাবলিকান রাজনৈতিক ভাষ্যকার স্টিভ হিলটন ও ডেমোক্র্যাট হাভিয়ের বেসেরা, যিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনে ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছিলেন। হিলটন অপরাধ, গৃহহীনতা ও জ্বালানির দাম নিয়ে বেসেরাকে আক্রমণ করছেন; আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের হিসাবে ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রতি গ্যালন পেট্রলের দাম ৫ ডলার ৯৫ সেন্ট, যেখানে জাতীয় গড় ৪ ডলার ২২ সেন্ট। এমারসনের সাম্প্রতিক জরিপে বেসেরা ২৭ পয়েন্টে এগিয়ে আছেন।
ভোটাররা কয়েকটি নীতিগত প্রশ্নেও মত দেবেন, যার মধ্যে সবচেয়ে বিতর্কিত প্রস্তাব ৪০, ধনকুবেরদের ওপর এককালীন কর, যা স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে অর্থ জোগাতে চায়। ক্যালম্যাটার্সের হিসাবে করটি প্রযোজ্য হবে প্রায় ২০০ জন ধনী ব্যক্তির ক্ষেত্রে; কেকিউইডির প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তাবটির বিরোধিতায় শিল্পমহল ও প্রযুক্তি ধনকুবেররা ১৫ কোটি ২০ লাখ ডলারের বেশি খরচ করেছেন, যেখানে সমর্থনে উঠেছে ৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার।
গুগলের সহপ্রতিষ্ঠাতা সের্গেই ব্রিন প্রস্তাব ৪০ ঠেকাতে ১০ কোটি ২০ লাখ ডলারের বেশি দিয়েছেন। প্রস্তাব ৪১ ও ৪২ পাস হলে প্রস্তাব ৪০ কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবে। আরেকটি প্রস্তাব, প্রস্তাব ৩৯, পাস হলে ভোট দিতে সরকারি পরিচয়পত্র দেখানো বাধ্যতামূলক হবে।



