আটক অভিবাসীদের গর্ভপাতের হিসাব হারিয়ে ফেলেছে আইসিই, তথ্য চেয়ে কংগ্রেস সদস্যদের চিঠি

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসিই ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সময়ে তাদের হেফাজতে থাকা অভিবাসীদের গর্ভপাতের কোনো তথ্য নথিভুক্ত করেনি বলে সংস্থাটি নিজেই স্বীকার করেছে। এরপরই ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা জরুরি ভিত্তিতে জানতে চেয়েছেন, হেফাজতে থাকা কতজন গর্ভবতী অভিবাসীর গর্ভপাত, মৃত সন্তান প্রসব ও গর্ভাবস্থা-সংক্রান্ত হাসপাতালে ভর্তির ঘটনা ঘটেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানে উঠে আসে, ট্রাম্প প্রশাসন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি সংখ্যক গর্ভবতী নারী ও কিশোরীকে আটক রাখছে, অথচ একই সময়ে কতজনের গর্ভপাত হয়েছে, সেই হিসাবই হারিয়ে ফেলেছে সংস্থাটি। সেই প্রতিবেদনের পরই আইনপ্রণেতাদের এই পদক্ষেপ।
আইসিইর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডেভিড ভেনচুরেলাকে পাঠানো চিঠিতে মার্কিন প্রতিনিধি ব্রিটানি পিটারসেন, জয়েস বিটি ও রবিন কেলি জানতে চেয়েছেন, হারিয়ে যাওয়া তথ্য উদ্ধারে সংস্থাটি কোনো পদক্ষেপ নিয়েছে কি না, নিয়ে থাকলে সেগুলো কী। চিঠিতে আরও ৬৪ জন প্রতিনিধি সহস্বাক্ষর করেছেন।
গার্ডিয়ানের হাতে আসা সরকারি নথি অনুযায়ী, গত শরৎ ও শীতে আইসিই আগের এক বছরের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি গর্ভবতী অভিবাসীকে আটক করেছিল। ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম নয় মাসে সংস্থাটি ১৮টি গর্ভপাত নথিভুক্ত করেছিল, কিন্তু ২০২৫ সালের ৩ অক্টোবরের পর থেকে গর্ভপাতের আর কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই।
আটক গর্ভবতী নারীরা জানিয়েছেন, নিয়মিত ও জরুরি চিকিৎসাসেবা পেতে তাঁদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা গার্ডিয়ানকে বলেছেন, গর্ভাবস্থায়, গর্ভপাতের সময় ও তার পরে সেবায় ঘাটতি থাকলে চিকিৎসাযোগ্য অবস্থাও প্রাণঘাতী জরুরি অবস্থায় রূপ নিতে পারে।
চিঠিতে আইনপ্রণেতারা ২০২১ সালের একটি নির্দেশনার কথাও উল্লেখ করেছেন। ওই নির্দেশনায় বলা ছিল, আইনে বাধা না থাকলে বা ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি না হলে গর্ভবতী, সদ্য প্রসূতি ও স্তন্যদানকারী অভিবাসীদের আটক করা থেকে আইসিইকে পুরোপুরি বিরত থাকতে হবে। নির্দেশনায় হেফাজতে থাকা সব গর্ভবতীর স্বাস্থ্য নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও নথিভুক্ত করা এবং তাঁদের আটক রাখা চিকিৎসাগতভাবে যুক্তিযুক্ত কি না, তা ধারাবাহিকভাবে মূল্যায়নের কথাও বলা হয়েছিল।
চিঠিতে আইনপ্রণেতারা লিখেছেন, সংস্থার নিজের নির্দেশনা মানতে না পারা, পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা দিতে ব্যর্থ হওয়া এবং গর্ভাবস্থা-সংক্রান্ত চিকিৎসা ফলাফলের সঠিক হিসাব রাখতে না পারা অগ্রহণযোগ্য। কোন যুক্তিতে গর্ভবতী অভিবাসীদের আটক রাখা হচ্ছে, তাও স্পষ্ট করতে বলেছেন তাঁরা।
এক সাক্ষাৎকারে পিটারসেন বলেছেন, পুরো এক বছরের গর্ভাবস্থার ফলাফলের হিসাব দিতে আইসিইর ব্যর্থতা গভীরভাবে উদ্বেগজনক। তাঁর ভাষায়, যাঁরা গর্ভ হারিয়েছেন এবং গর্ভপাতের পর প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাননি, তাঁদের জন্য তিনি মর্মাহত; এই অন্যায় কীভাবে শোধরানো যাবে, তা কল্পনা করাও কঠিন।
সংস্থার অভ্যন্তরীণ নথিতে আইসিই বলেছে, অক্টোবরে চিকিৎসা বিলিং সেবাদাতা বদল করায় গর্ভপাতের তথ্য তাদের কাছে নেই। সংস্থাটির চিকিৎসা দাবি প্রক্রিয়াকরণ কয়েক মাস ধরে বিলম্বিত হচ্ছে। অভিবাসন আইনজীবী ও সাবেক সরকারি কর্মকর্তারা বলেছেন, শুধু চিকিৎসা বিলিং সেবাদাতার মাধ্যমেই গর্ভপাতের হিসাব রাখার বিষয়টি অদ্ভুত হলেও বিশ্বাসযোগ্য হতে পারে।
২০২৫ সালের ৩ অক্টোবরের পরের হিসাব রাখার পদ্ধতি নিয়ে পরবর্তী প্রশ্নের জবাবে আইসিইর মূল সংস্থা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের একজন মুখপাত্র প্রথমে বলেন, সংস্থাটি মাসিক প্রতিবেদনে গর্ভপাতের হিসাব রাখছে। পরে তিনি আইসিইর অভ্যন্তরীণ নথির কথাই নিশ্চিত করেন — ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত গর্ভপাতের কোনো তথ্য সংস্থাটির কাছে নেই।
কংগ্রেস সদস্যদের চিঠি পেয়েছে কি না, তা গার্ডিয়ানকে নিশ্চিত করেনি হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ। বিভাগের মুখপাত্র বলেছেন, কোনো গর্ভবতী আটক ব্যক্তি নিম্নমানের সেবা পাচ্ছেন — এমন দাবি মিথ্যা।
চিঠিতে আইনপ্রণেতারা আরও জানতে চেয়েছেন, গর্ভপাত নথিভুক্তকরণে ঘাটতি ও হিসাব রাখার ব্যবস্থার ত্রুটি নিয়ে উদ্বেগের কথা আইসিইর নেতৃত্ব প্রথম কবে জানতে পেরেছিল। জবাব দেওয়ার জন্য সংস্থাটিকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে।
গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনের আগে গর্ভপাতের হিসাব হারানোর কথা আইসিই কখনো স্বীকার করেনি — এমনকি মার্কিন সিনেটররা সংস্থাটির কাছে এই তথ্য চাওয়ার পরও নয়। আইসিইর হেফাজতে থাকা গর্ভবতীর সংখ্যা ও তাঁদের স্বাস্থ্যের ফলাফলের তথ্য পেতে গার্ডিয়ান তথ্য স্বাধীনতা আইনে আবেদন করেছিল এবং পরে রিপোর্টার্স কমিটি ফর ফ্রিডম অব দ্য প্রেসের সঙ্গে যৌথভাবে মামলাও করেছে।




