রাশিয়ার কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন মার্কিন শিক্ষক হাবার্ড, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বিশ্বাস হয়নি তাঁর

রাশিয়ার কারাগার থেকে সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া অবসরপ্রাপ্ত মিশিগান শিক্ষক স্টিফেন হাবার্ড বলেছেন, নতুন পোশাক পরিয়ে কারাগারের বাইরে নিয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি বিশ্বাসই করতে পারেননি যে সত্যিই মুক্তি পাচ্ছেন। শুক্রবার হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় মুক্তির পর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে মন্তব্য করেন ৭৪ বছর বয়সী হাবার্ড।
হাবার্ড বলেন, এর আগেও বহুবার তাঁকে বলা হয়েছিল তিনি মুক্তি পাবেন, কিন্তু সেসব কথা তিনি কখনো সত্যিই বিশ্বাস করেননি। তাঁর দর্শন ছিল চোখে দেখলেই বিশ্বাস, আর কথার চেয়ে কাজই বড় প্রমাণ।
তাঁর ভাষায়, যখন তাঁরা নতুন পোশাক দিতে শুরু করলেন এবং কারাগারের বের হওয়ার দরজার দিকে নিয়ে যেতে লাগলেন, তিনি বাইরে গিয়ে গাড়িটি দেখলেন এবং দুজন রুশ নাগরিক তাঁর সঙ্গে ছিলেন — তখনই তিনি অবশেষে বিশ্বাস করলেন। মস্কো থেকে সেন্ট পিটার্সবার্গ যাওয়ার পথে তাঁর মনে হয়েছিল, তিনি সত্যিই কোথাও যাচ্ছেন।
ইউক্রেনে ভাড়াটে সৈন্য হিসেবে যুদ্ধ করার অভিযোগে হাবার্ড চার বছরের বেশি সময় ধরে কারাগারে বন্দী ছিলেন। রাশিয়া ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে আক্রমণ চালায়। হাবার্ডের আইনজীবী দল রাশিয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং বলেছে, তিনি কোনো সামরিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না।
গত ২১ অক্টোবর তাঁর মুক্তি কার্যকর হয়। শুক্রবার ওভাল অফিসে হাবার্ডকে স্বাগত জানান ট্রাম্প। হোয়াইট হাউস সীমিত সংখ্যক সাংবাদিককে ওই সাক্ষাতে প্রবেশ করতে দেয়, যাদের বেশিরভাগই ছিলেন সংবাদ আলোকচিত্রী ও একটি টেলিভিশন দল।
ট্রাম্প আগেই বলেছিলেন, হাবার্ডকে মুক্তি দিতে তিনি রাশিয়ার নেতা ভ্লাদিমির পুতিনকে অনুরোধ করেছিলেন এবং এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে কাউকে ছাড়তে হয়নি। হাবার্ড প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, তিনি এমন একজন মানুষ, যাঁকে তিনি ফিরিয়ে আনতে চেয়েছিলেন।
আন্তর্জাতিক মহলের অনেকের ধারণা, ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পকে পুতিনের অবস্থানের কাছাকাছি টানতে রাশিয়ার সর্বশেষ কৌশল হিসেবেই হাবার্ডের মুক্তিকে দেখা হচ্ছে।
৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেও এই মুক্তি ট্রাম্পের জন্য একটি কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে এসেছে। ওই নির্বাচনে কংগ্রেসে ট্রাম্পের রিপাবলিকান দলের আসন হারানোর আশঙ্কা করা হচ্ছে।




