এইচএসসিতে ২৯৩ প্রতিষ্ঠানে পাস করেনি কেউ, শতভাগ পাস করেছে ১৩৯টি প্রতিষ্ঠান

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় একজন শিক্ষার্থীও পাস করেননি এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২৯৩টি। গত বছর এমন প্রতিষ্ঠান ছিল ২০২টি। অর্থাৎ গত বছরের চেয়ে এবার কোনো শিক্ষার্থী পাস করেননি, এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে ৯১টি। অন্যদিকে শতভাগ পাস করেছে ১৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। ফলাফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব আবদুল খালেক, কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়াসহ শিক্ষা বোর্ডগুলোর চেয়ারম্যান ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সারা দেশে পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ, অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ।
এবার জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী। জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রী ১৯ হাজার ৭২১ জন এবং ছাত্র ২০ হাজার ৩৬৩ জন। অর্থাৎ এবার ছাত্ররা জিপিএ-৫ বেশি পেয়েছে ৬৪২ জন। গত বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৬৯ হাজার ৯৭ জন, যাদের মধ্যে ছাত্রী ছিল ৩৭ হাজার ৪৪ জন এবং ছাত্র ৩২ হাজার ৫৩ জন।
টানা দ্বিতীয় বছর পাসের হার ও জিপিএ-৫ দুটিই কমেছে। ২০২৪ সালে পাসের হার ছিল ৭৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ১ লাখ ৪৫ হাজার ৯১১ জন। গত বছর জিপিএ-৫ নেমে আসে ৬৯ হাজার ৯৭ জনে, এবার তা আরও প্রায় ২৯ হাজার কমেছে।
এবার দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেয় ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী। তাদের জন্য সারা দেশে ২ হাজার ৬৯৭টি পরীক্ষাকেন্দ্র ছিল।
এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা গত ২ জুলাই শুরু হয়ে ৮ আগস্ট শেষ হয়। এরপর ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করার কথা ছিল। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কয়েকটি লিখিত পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে স্থগিত পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ায় ওই বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৯ সেপ্টেম্বর।
পরীক্ষার্থীরা শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট ও নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ফল জানতে পারবেন, মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমেও ফল জানা যাবে। উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আগামী ১ থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করা যাবে।




