এইচএসসিতে জিপিএ-৫ কমেছে প্রায় ৪২ শতাংশ, দুই বছরে কমল এক লাখের বেশি

এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা টানা দ্বিতীয় বছর বড় ব্যবধানে কমেছে। সাধারণ, মাদ্রাসা ও কারিগরি মিলিয়ে দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে এবার জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী।
গত বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৬৯ হাজার ৯৭ জন। সেই হিসাবে এক বছরে জিপিএ-৫ কমেছে ২৯ হাজার ১৩ জন, অর্থাৎ প্রায় ৪২ শতাংশ।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এবার গড় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ, যা গত বছর ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। পাসের হার ও জিপিএ-৫—দুটোই গত বছরের তুলনায় কমেছে।
এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নেন ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী। সে হিসাবে প্রতি ১০০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন তিনজনের কিছু বেশি। গত বছর এই হার ছিল সাড়ে ৫ শতাংশের মতো।
তিন বছরের চিত্রে পতনটি আরও স্পষ্ট। দুই বছর আগে, ২০২৪ সালে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ১ লাখ ৪৫ হাজার ৯১১ জন। তার আগের বছর, ২০২৩ সালে পেয়েছিলেন ৯২ হাজার ৫৯৫ জন।
এবারের ৪০ হাজার ৮৪ জনের সংখ্যা ২০২৪ সালের তুলনায় ১ লাখ ৫ হাজার ৮২৭ জন কম। অর্থাৎ মাত্র দুই বছরে জিপিএ-৫ কমেছে প্রায় তিন-চতুর্থাংশ।
এবারই প্রথম দেশের নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে এইচএসসি পরীক্ষা হয়েছে। অর্থাৎ সব বোর্ডের শিক্ষার্থী একই প্রশ্নে পরীক্ষা দিয়েছেন।
গত বছর বোর্ডভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি জিপিএ-৫ পেয়েছিল ঢাকা বোর্ড—২৬ হাজার ৬৩ জন। এরপর ছিল রাজশাহী বোর্ডে ১০ হাজার ১৩৭ জন এবং দিনাজপুর বোর্ডে ৬ হাজার ২৬০ জন।
গত বছর সবচেয়ে কম জিপিএ-৫ পেয়েছিল সিলেট বোর্ড—১ হাজার ৬০২ জন। এবারের বোর্ডভিত্তিক পূর্ণ হিসাব প্রতিবেদনটি প্রকাশের সময় পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
ফল প্রকাশের দিনেই সামনে এসেছে এই বড় পতনের চিত্র: পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশে নেমে আসা এবং জিপিএ-৫ প্রায় অর্ধেকে নেমে যাওয়া এবারের এইচএসসি ফলের সবচেয়ে আলোচিত দিক হয়ে উঠেছে।




