রাজশাহী বোর্ডে পাসের হার কমে ৪৫.০৬ শতাংশ, অটোপাসের পর এটাই সর্বনিম্ন

রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার কমে ৪৫ দশমিক ০৬ শতাংশে নেমেছে। করোনা মহামারির সময় ২০২০ সালে অটোপাসের পর এবারই এই বোর্ডে পাসের হার সবচেয়ে কম।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টায় বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ইফফাত জেরীন আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল প্রকাশ করেন।
প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, এ বছর রাজশাহী বোর্ডে ১ লাখ ৪১ হাজার ৯৩৬ জন পরীক্ষার্থী নিবন্ধন করলেও পরীক্ষায় অংশ নেন ১ লাখ ৩৭ হাজার ৩৫৬ জন। তাদের মধ্যে পাস করেছেন ৬১ হাজার ৮৯৪ জন।
এবার বিভাগের আট জেলার ৭৪৩টি কলেজের পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল ২০৮টি কেন্দ্রে। পরীক্ষা চলাকালে এ বছর ৩১ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছিল বলে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক জানান।
লিঙ্গভিত্তিক ফলাফলে দেখা গেছে, ছেলেদের পাসের হার ৩৭ দশমিক ৭১ শতাংশ, আর মেয়েদের পাসের হার ৫৩ দশমিক ০৩ শতাংশ। অর্থাৎ পাসের হারে ছেলেদের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে মেয়েরা।
জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রেও এগিয়ে মেয়েরা। এবার রাজশাহী বোর্ডে মোট ৪ হাজার ৫২০ জন পরীক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। তাদের মধ্যে ছেলে ১ হাজার ৯৬৫ জন এবং মেয়ে ২ হাজার ৫৫৫ জন।
প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফলেও বৈষম্য স্পষ্ট। বিভাগের আট জেলায় এবার মাত্র ৯টি কলেজ শতভাগ পাসের দেখা পেয়েছে। বিপরীতে ৩৯টি কলেজের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি।
রাজশাহী বোর্ডের গত কয়েক বছরের ফলাফলের সঙ্গে তুলনা করলেই বোঝা যায়, পাসের হার ধারাবাহিকভাবে কমছে। এ বোর্ডে ২০২০ সালে শতভাগ পাসের পর ২০২১ সালে ৯৭ দশমিক ২৯ শতাংশ, ২০২২ সালে ৮১ দশমিক ৬০ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৭৮ দশমিক ৪৬ শতাংশ, ২০২৪ সালে ৮১ দশমিক ২৪ শতাংশ এবং ২০২৫ সালে ৫৯ দশমিক ৪০ শতাংশ পরীক্ষার্থী পাস করেছিলেন। সেখান থেকে এবার হার নেমে এসেছে ৪৫ দশমিক ০৬ শতাংশে।
ফলাফল নিয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ইফফাত জেরীন বলেন, শিক্ষার্থীরা খাতায় যেমন লিখেছে, সেভাবেই নম্বর পেয়েছে। কাউকে বাড়তি নম্বর দেওয়া হয়নি। তার ভাষায়, সে কারণেই সামগ্রিক ফলাফলে প্রভাব পড়েছে।
উল্লেখ্য, শনিবার সারা দেশে একযোগে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। সব বোর্ড মিলিয়ে এবার গড় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ, যা গত বছরের ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশের চেয়ে কম।




