লন্ডনের সবচেয়ে দামি এলাকায় ১০টি বাড়ির আটটিই বিক্রি হচ্ছে চাওয়া দামের নিচে, বলছে কাউটসের গবেষণা

লন্ডনের সবচেয়ে অভিজাত এলাকাগুলোতে ১০টি সম্পত্তির মধ্যে আটটিই এখন চাওয়া দামের নিচে বিক্রি হচ্ছে। ধনী গ্রাহকদের প্রাইভেট ব্যাংকিং সেবা দেওয়া কাউটসের গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে।
মেফেয়ার, বেলগ্রাভিয়া ও নাইটসব্রিজের মতো এলাকাগুলো এই চিত্রের মধ্যে রয়েছে। এসব এলাকার বিক্রেতারা বাড়ির মূল্যে লাখ লাখ পাউন্ড ক্ষতির মুখে পড়ছেন বলে গবেষণায় বলা হয়েছে।
শহরের সবচেয়ে দামি পোস্টকোডগুলো নিয়ে গঠিত ‘প্রাইম সেন্ট্রাল লন্ডন’ এলাকায় সম্পত্তির দাম ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে ৫ শতাংশ কমেছে। যুক্তরাজ্যের সম্পত্তি বাজারের মন্দা এখন সবচেয়ে ধনী বাসিন্দাদেরও ছুঁয়ে গেছে।
কাউটস জানিয়েছে, সম্পত্তি বিক্রি হচ্ছে গড়ে চাওয়া দামের চেয়ে ১০ শতাংশ ছাড়ে।
লন্ডনের সর্বোচ্চ পর্যায়ের বাজারে দাম এখন ২০১৪ সালের সর্বোচ্চ পর্যায়ের চেয়ে ১৪ শতাংশ নিচে। ব্রেক্সিট, কোভিড মহামারি, বেশি সম্পত্তি কর ও ঋণের খরচ বেড়ে যাওয়া এই পতনের পেছনে কাজ করেছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
নন-ডম কর ব্যবস্থা বিলুপ্তির পর বিদেশি ক্রেতাদের আগ্রহ কমে যাওয়ার কথাও রাজধানীর কেনাবেচার এজেন্টরা জানিয়েছেন।
কাউটস বলেছে, নাইটসব্রিজ ও বেলগ্রাভিয়া এবং সাউথ কেনসিংটন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ের চেয়ে যথাক্রমে ৩০ দশমিক ৮ শতাংশ ও ২৬ দশমিক ৯ শতাংশ নিচে নেমেছে।
ব্যাংকটির ঋণ বিভাগের প্রধান অ্যালেক্স ওয়েবস্টার বলেছেন, বাজারের শীর্ষ পর্যায়ের ক্রেতা ও বিক্রেতারা আরও সতর্ক অবস্থান নিচ্ছেন। এই সতর্কতা চলতি সপ্তাহে চ্যান্সেলর জন হিলির প্রথম বাজেটের আগেই দেখা যাচ্ছে।
ওয়েবস্টার বলেন, বিক্রেতারা এখন দেখবেন বাজেট পিছিয়ে থাকা চাহিদার কিছুটা ফেরত আনতে উৎসাহ দেয় কি না। তবে অর্থায়নের শর্ত ও বৃহত্তর অর্থনৈতিক পরিবেশ বাজারকে প্রভাবিত করতে থাকবে বলেও তিনি জানান।
গত ডিসেম্বরের পর থেকে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের ভিত্তি হার বদলায়নি; হারটি ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশে রাখা হয়েছে। তবে বন্ড বাজারের অস্থিরতায় ফিক্সড-রেট মর্টগেজের দাম নির্ধারণে প্রভাব ফেলা সোয়াপ হার বেড়ে গেছে।
প্রত্যাশা বাড়ছে যে আগামী সপ্তাহে ব্যাংকটির মুদ্রানীতি কমিটি তিন বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো হার বাড়িয়ে ৪ শতাংশ করার পক্ষে ভোট দিতে পারে।
কাউটসের তথ্য অনুযায়ী, প্রাইম সেন্ট্রাল লন্ডনে বিক্রেতারা ক্রমে পিছিয়ে যাচ্ছেন। আগের প্রান্তিকের তুলনায় নতুন তালিকাভুক্ত সম্পত্তি ১৪ শতাংশ কমেছে এবং বছরওয়ারি হিসাবে উপলব্ধ মজুত কমেছে ৬ শতাংশ।
এই বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে লেনদেন ৯ দশমিক ১ শতাংশ কম হয়েছে। সবচেয়ে বড় মন্দা দেখা গেছে ২০ লাখ থেকে ৫০ লাখ পাউন্ডের ব্যান্ডে, যেখানে লেনদেন কমেছে ২২ দশমিক ৩ শতাংশ।
অন্যদিকে এস্টেট এজেন্ট স্যাভিলসের আলাদা গবেষণায় দেখা গেছে, বাজারের একেবারে শীর্ষ পর্যায়ের ক্রেতারাই কার্যক্রম চালিয়ে নিচ্ছেন। এই বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে ১ কোটি পাউন্ডের বেশি দামের ২৬টি লেনদেন হয়েছে, যা গত এক বছরের মোট সংখ্যা ১২৭টিতে নিয়ে গেছে। স্যাভিলস জানিয়েছে, এসব বিক্রির মোট মূল্য ২৮৮ কোটি পাউন্ড।




