যুক্তরাজ্যে বাড়ির আঙিনার আতশবাজিতে আংশিক নিষেধাজ্ঞার ভাবনা, শব্দসীমা ১২০ থেকে ১১০ ডেসিবেলে নামানোর প্রস্তাব

যুক্তরাজ্যে বাড়ির আঙিনায় ব্যক্তিগতভাবে আতশবাজি ফোটানোর ওপর আংশিক নিষেধাজ্ঞার কথা ভাবছেন দেশটির মন্ত্রীরা। শব্দ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে সরকারের এক পরামর্শ প্রক্রিয়া (কনসালটেশন) শেষ হয়েছে চলতি মাসের শুরুর দিকে, যার প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে জোরালো শব্দের আতশবাজি শুধু পেশাদার ব্যবহারকারীদের জন্য রাখা।
দীপাবলি, বনফায়ার নাইট ও নববর্ষের মতো উপলক্ষে আতশবাজি ফোটানোর মৌসুম শুরুর মুখে এই উদ্যোগ এসেছে। জানুয়ারিতে সংসদীয় বিতর্কে আতশবাজির শব্দ ও সহজলভ্যতা নিয়ে উদ্বেগ উঠেছিল; সে সময় দুটি আবেদনের (পিটিশন) প্রতিটিতে ১ লাখ ৮০ হাজারের বেশি সই জমা পড়েছিল।
প্রাণীকল্যাণ সংস্থা আরএসপিসিএর পাবলিক অ্যাফেয়ার্স ব্যবস্থাপক হ্যারিয়েট মেইন বলেছেন, পরামর্শ প্রক্রিয়ায় সংস্থাটি উচ্ছ্বসিত। তার ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে জোরালো ও অনিয়ন্ত্রিত আঙিনার আতশবাজির শব্দে পোষা প্রাণী, বন্যপ্রাণী ও গবাদিপশু ভোগান্তি, ভয় ও গুরুতর আঘাতের শিকার হচ্ছে।
আরএসপিসিএ জানিয়েছে, সরকারের পরামর্শে মতামত দিতে সমর্থকদের সহায়তায় তাদের অনলাইন উদ্যোগে ৫১ হাজারের বেশি সাড়া এসেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আতশবাজির সঙ্গে যুক্ত প্রাণী মৃত্যুর খবরও এসেছে—এডিনবরার চিড়িয়াখানায় একটি শিশু লাল পান্ডার মৃত্যু এবং উত্তর ইয়র্কশায়ারে একটি ডাকসুন্ড কুকুরের মৃত্যুর ঘটনা তার মধ্যে রয়েছে।
তবে মন্ত্রীরা জনসাধারণের জন্য আতশবাজি কেনায় সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার সম্ভাবনা নাকচ করেছেন। এর বদলে প্রস্তাবে রয়েছে সাধারণ বিক্রির জন্য নিষিদ্ধ আতশবাজির তালিকা বাড়ানো এবং ভোক্তা আতশবাজির অনুমোদিত শব্দসীমা ১২০ ডেসিবেল থেকে কমিয়ে ১১০ ডেসিবেল করা, যাতে শব্দের তীব্রতা প্রায় অর্ধেক হয়ে যাবে।
ব্রিটিশ ভেটেরিনারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. গোয়েন রিস বলেছেন, যুক্তরাজ্যে প্রতি বছর আতশবাজি প্রাণীদের মধ্যে যে ভয়, দুর্দশা, আঘাত ও দীর্ঘস্থায়ী উদ্বেগ তৈরি করে, পশুচিকিৎসকেরা তা ভালোভাবেই জানেন। শব্দসীমা কমালে উৎসব চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি দুর্ভোগের একটি প্রধান কারণ কমবে বলে তিনি মত দেন; তবে ঝলকানি ও অনিশ্চিত সময়ে ফোটানোও প্রাণীদের প্রভাবিত করে বলে তিনি সতর্ক করেন।
কঠোর নিয়মের পক্ষে রয়েছে ন্যাশনাল ফারমার্স ইউনিয়নও; তারা প্রাণীকল্যাণের উদ্বেগ ও ব্যক্তিগত আতশবাজি প্রদর্শনী থেকে আগুনের ঝুঁকির কথা তুলেছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, তাদের এক সদস্যের প্রায় চার একর গম নষ্ট হয়েছে ফসল তোলার সময় দাঁড়িয়ে থাকা ফসলে একটি আতশবাজি পড়ে যাওয়ায়।
অন্যদিকে ব্রিটিশ ফায়ারওয়ার্কস অ্যাসোসিয়েশন আপত্তি জানিয়ে বলেছে, জনসাধারণের জায়গায় বা রাত ১টার পর আতশবাজি ফোটানোর মতো যেসব আচরণে এলাকাবাসী বিরক্ত হন, সেগুলো এমনিতেই বেআইনি; আর বৈধ ও নিয়ন্ত্রিত অনেক পণ্য ভোক্তা বাজার থেকে সরিয়ে দিলে মানুষ গোপন বাজারের আতশবাজির দিকে ঝুঁকতে পারে।
স্কটল্যান্ডে আতশবাজি নিয়ন্ত্রণ অঞ্চল চালুর উদ্যোগ মিশ্র সাড়া পেয়েছে। রেডউইংস হর্স স্যাংচুয়ারির প্রচার ব্যবস্থাপক হেলেন হোয়াইটলেগ বলেছেন, এই অঞ্চলগুলো দ্বিস্তর সুরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করে এবং আশপাশের এলাকায় আতশবাজির ব্যবহার আরও বাড়িয়ে দেওয়ার ঝুঁকি থাকে। তিনি জানান, আতশবাজি ব্যবহারে লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করার বহুল প্রতীক্ষিত পদক্ষেপটি সম্পদের অভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।
শুধু যুক্তরাজ্যেই নয়, অন্য দেশেও আতশবাজি নিয়ে কড়াকড়ি বাড়ছে। নেদারল্যান্ডসে আগস্ট থেকে বেশিরভাগ ভোক্তা আতশবাজিতে দেশজুড়ে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে, চেকিয়াও নিয়ম কঠোর করেছে, আর ২৯ নভেম্বর সুইজারল্যান্ডের নাগরিকেরা শব্দযুক্ত আতশবাজি নিষিদ্ধের প্রস্তাবে ভোট দেবেন। জার্মানিতে আতশবাজি কেনা ও ব্যবহারের সময়সীমা আগেই সীমিত; একটি জরিপে দেখা গেছে, প্রায় অর্ধেক উত্তরদাতা শুধু স্পার্কলারের মতো খুব ছোট আতশবাজির ব্যতিক্রম রেখে পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার পক্ষে।
সরকার বলেছে, পরামর্শ প্রক্রিয়ার মতামত বিশ্লেষণের পর সংসদীয় সময় পেলেই আতশবাজি ও পাইরোটেকনিকস নিয়মে পরিবর্তন আনা হবে, এবং আইন বদলের পর ছয় মাসের একটি অন্তর্বর্তী সময় থাকবে। রেডউইংস নিউজিল্যান্ডের মতো সর্বোচ্চ শব্দসীমা ৯০ ডেসিবেলে নামানোর পক্ষে মত দিয়েছে।




