মিরপুরে ডেঙ্গু শনাক্তে ‘মোবাইল ফিভার ক্লিনিক’ চালু, বিনামূল্যে মিলছে নানা সেবা

রাজধানীর মিরপুরে ডেঙ্গু রোগী শনাক্তকরণ ও চিকিৎসায় ‘মোবাইল ফিভার ক্লিনিক’ সেবা কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) উদ্যোগে মিরপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শনিবার (৩১ অক্টোবর) এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত মিরপুরের এই মোবাইল ফিভার ক্লিনিককে শুধু জ্বর পরীক্ষার কেন্দ্র নয়, বরং ছোট পরিসরে একটি পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালের আদলে গড়ে তোলার কথা জানান।
তিনি বলেন, “এখানে সাধারণ ডেঙ্গু পরীক্ষার পাশাপাশি গাইনি, শিশু ও চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস পরীক্ষার ‘ডট কর্নার’, মা ও শিশুর পুষ্টিসেবা এবং পরিবার পরিকল্পনা সেবার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এলাকার মানুষ এসব সেবা বিনামূল্যে পাচ্ছেন।”
অনুষ্ঠানে বিলাসবহুল লং ড্রাইভ ও জনসভার রাজনীতি বাদ দিয়ে সাধারণ মানুষের সেবায় মনোযোগ দিতে বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, “শুধু লোক দেখানো কর্মসূচি নয়, মানুষের সঙ্গে নিয়ে এলাকার ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারের পাশাপাশি ফ্যাসিবাদ দেশের জন্য যে জঞ্জাল রেখে গেছে, তা দূর করতেও সরকারি ও বিরোধী দলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”
ড. এম এ মুহিত বলেন, ‘১৫০০ গাড়ি নিয়ে বিলাসবহুল লং ড্রাইভে যাওয়া বাদ দিন। মানুষকে নিয়ে ময়লা পরিষ্কার করুন, এলাকার জঞ্জাল পরিষ্কার করুন। শুধু এলাকার ময়লা নয়, সারা দেশে ফ্যাসিবাদ যে জঞ্জাল রেখে গেছে, সরকারি ও বিরোধী দল মিলে চলুন সেই জঞ্জাল একসঙ্গে পরিষ্কার করি।’
ফটোসেশনের রাজনীতি ছেড়ে জনসেবায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “শুধু দু-এক দিন ভোরবেলা ঝাড়ু হাতে নিয়ে ফটোসেশন করলেই চলবে না। দলমত নির্বিশেষে সবাইকে দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে।”
বিরোধী দলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “একটি বিরোধী দল এখনো জনসভার রাজনীতিতে পড়ে আছে। তারা আগের মতো বক্তৃতার রাজনীতি করতে চায়, কিন্তু তাদের বক্তৃতা কেউ শুনতে চায় না। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে নতুন রাজনীতির সূচনা করেছেন, যেটি জনসভার রাজনীতি নয়, জনসেবার রাজনীতি।”
ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।


