সিরিয়ায় পাঠ্যবই বদলে বিতর্ক: ছবিতে হিজাব, বাদ মোনা লিসা ও ইতিহাসের চরিত্র

সিরিয়ার বেশ কয়েকটি স্কুল পাঠ্যবইয়ে করা একগুচ্ছ পরিবর্তন নিয়ে সমালোচনা ও প্রতিক্রিয়ার ঝড় উঠেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। পরিবর্তনগুলোর মধ্যে রয়েছে আঁকা নারী চরিত্রের ছবিতে হিজাব যোগ করা, নারী ও শিশুদের ছবি মুছে ফেলা, মূর্তি ঢেকে দেওয়া এবং বিখ্যাত চিত্রকর্ম ও শিল্পকর্ম সরিয়ে অন্য কিছু বসানো।
পাঠ্য বিষয়বস্তুতেও পরিবর্তন এসেছে। স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক জীবন, নাগরিকত্ব, গণমাধ্যম ও গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ নিয়ে পাঠ থাকা অংশগুলো এই সংশোধনের আওতায় পড়েছে বলে জানা গেছে।
এই পরিবর্তনগুলো নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে পাঠ্যক্রম পর্যালোচনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় কোন মানদণ্ড অনুসরণ করছে তা নিয়ে। সিরিয়ার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এসব সিদ্ধান্তে কতটা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে, সে প্রশ্নও উঠেছে। সমালোচকদের প্রশ্ন, সংশোধনগুলো কি শুধু সাবেক শাসনামলের সঙ্গে যুক্ত বিষয়বস্তু পর্যালোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ, নাকি তা স্কুলের বইয়ে সমাজের চেহারা নতুন করে গড়ার দিকে যাচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা বিভিন্ন সংস্করণের তুলনামূলক ছবিতে দেখা গেছে, প্রাথমিক বছরগুলো ও সপ্তম শ্রেণিসহ বিভিন্ন শ্রেণির বইয়ে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মধ্যে ষষ্ঠ শ্রেণির ‘সামাজিক শিক্ষা’ বইটিও রয়েছে।
ওই বইটি চলতি শিক্ষাবর্ষের জন্য পুনঃপ্রকাশ করা হয়েছে, তবে বইটির আদি সংস্করণ ২০১২–২০১৩ শিক্ষাবর্ষের। নতুন সংস্করণে যোগ করা পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে সাবেক শাসনামলের সঙ্গে যুক্ত বিষয়বস্তু সরিয়ে ফেলা এবং স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক জীবন, নাগরিকত্ব, গণমাধ্যম ও গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণবিষয়ক পাঠে বদল।
পরিবর্তন শুধু লেখায় সীমাবদ্ধ থাকেনি; ছবি ও চিত্রকলাতেও ফটোশপ ব্যবহার করে বদল আনা হয়েছে। আঁকা নারী চরিত্রদের হিজাব পরানো হয়েছে, কোথাও কোথাও লম্বা পোশাকও যোগ করা হয়েছে। নারীদের পুরো ছবিই মুছে ফেলা হয়েছে অনেক জায়গায়। মূর্তি ঢেকে দেওয়া হয়েছে এবং ভাস্কর্য ও শিল্পকর্ম সরিয়ে অন্য কিছু বসানো হয়েছে।
বিতর্কের বড় অংশ জুড়ে রয়েছে চিত্রকর্ম ও অভিব্যক্তিমূলক চিত্রে আনা বদল। কমিটিগুলো বিশ্ববিখ্যাত চিত্রকর্ম ‘মোনা লিসা’ সরিয়ে দিয়েছে। ছোটদের বই থেকে দুই শিশুর পাশে দড়ি লাফানো একটি মেয়ের আঁকা চিত্রও বাদ দেওয়া হয়েছে।
ঐতিহাসিক চরিত্র ও প্রতীকও বদলের বাইরে থাকেনি। কার্থেজের প্রতিষ্ঠাতা ফিনিশীয় রাজকুমারী এলিসারকে শিকারের সফরে দেখানো একটি চিত্রকর্ম বাদ দেওয়া হয়েছে। তার বদলে বসানো হয়েছে আরেকটি প্রতিকৃতি, যেটি ডিজিটাল পদ্ধতিতে বদলে চিবুক ও গলা ঢেকে দেওয়া হয়েছে। সমালোচকদের চোখে এটি প্রাচীন ঐতিহাসিক যুগের ওপর সমসাময়িক মতাদর্শিক মানদণ্ড চাপিয়ে দেওয়ার শামিল।


