অ্যান্টিগায় কমনওয়েলথ সম্মেলনে রাজা ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর মুখে দাসত্বের ক্ষতিপূরণের দাবি, বিক্ষোভের প্রস্তুতি

অ্যান্টিগার রাজধানী সেন্ট জনসে কমনওয়েলথ নেতাদের সম্মেলনে যোগ দিতে গেলে রাজা চার্লস ও যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে ক্ষতিপূরণের দাবির বার্তার মুখোমুখি হতে হবে। আগামী সপ্তাহের এই সম্মেলন ঘিরে বিক্ষোভের প্রস্তুতি চলছে।
বিলবোর্ড, প্ল্যাকার্ড ও টি-শার্টে, চিঠিতে এবং ট্রান্সআটলান্টিক দাস বাণিজ্যের সময় অ্যান্টিগা ও বারবুডায় আনা হাজারো আফ্রিকানের স্মরণে মোমবাতি প্রজ্বালন অনুষ্ঠানে ক্যারিবীয় অঞ্চল থেকে একটাই বার্তা পৌঁছাবে—দাসত্বের ক্ষতিপূরণের বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া যাবে না।
আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, এই সম্মেলন যুক্তরাজ্যের জন্য ট্রান্সআটলান্টিক দাসত্বে নিজের ভূমিকার মুখোমুখি হওয়ার একটি সুযোগ।
বিক্ষোভগুলোর কয়েকটির আয়োজন করছে সিটিজেনস ফর রিপ্যারেটরি জাস্টিস। সংগঠনটির জেমস নাইট বলেছেন, রাজা ও যুক্তরাজ্য সরকারের অবস্থানই বিক্ষোভকে প্রয়োজনীয় করে তুলেছে।
নাইট বলেন, সম্মেলনের আগে ব্রিটিশ সরকার ও রাজা চার্লস ঘোষণা করেছেন কোনো ক্ষমা চাওয়া হবে না, কোনো ক্ষতিপূরণও দেওয়া হবে না। যেখানে বিষয়টি আলোচনার দাবি উঠেছে, সেখানে এমন ঘোষণা দেওয়া অত্যন্ত অপমানজনক ও অসংবেদনশীল বলে তিনি মন্তব্য করেন। গভীর ক্ষোভ জানাতেই বিক্ষোভ প্রয়োজন বলে তিনি জানান।
শুক্রবার বার্নহ্যাম আগের যেকোনো ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর চেয়ে এগিয়ে গিয়ে একটি সংবাদপত্রে লিখেছেন, ট্রান্সআটলান্টিক দাস বাণিজ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কাঠামোবদ্ধ সংলাপের প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। ব্রিটিশ রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান শোনা এই প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে এবং তিনি এতে খোলামেলা রয়েছেন বলেও তিনি লেখেন।
তবে এই অবস্থান নাইটের নির্ধারণ করা মানদণ্ড পার হয়নি। তবু কারও কারও কাছে এটি তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা যেতে পারে।
কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের এই বৈঠক, যা চগম নামে পরিচিত, সাধারণত ব্লকটির ৫৬টি সদস্য দেশের নেতাদের বন্ধুসুলভ সমাবেশ হয়। এবার এটি ক্ষতিপূরণ-কেন্দ্রিক নানা কর্মসূচিতে ঘেরা থাকবে।
আনুষ্ঠানিক এজেন্ডার বাইরে বিক্ষোভ, দাসত্বের শিকারদের স্মরণে সৈকতে মোমবাতি প্রজ্বালন এবং ‘গ্লোবাল রিপ্যারেশনস ক্যারাভান’ নামের একটি উদ্যোগের উদ্বোধন রাখা হয়েছে। আয়োজকেরা এটিকে ক্ষতিপূরণের পক্ষে প্রচার, বিক্ষোভ ও সংস্কৃতি মিলিয়ে একটি আন্তর্জাতিক আন্দোলন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এসব কর্মসূচির উদ্দেশ্য বিষয়টিকে উপেক্ষা করা কঠিন করে তোলা।
আন্দোলনকারীদের জন্য এই চগম এক দশকের বেশি সময় ধরে ক্যারিবীয় নেতাদের আহ্বানের পরিণতি। তাঁরা চান যুক্তরাজ্য লাখো আফ্রিকানকে দাস বানানো এবং আফ্রিকা ও ক্যারিবীয় দেশগুলো উপনিবেশ করার ক্ষেত্রে নিজের ভূমিকা স্বীকার করুক এবং এর দীর্ঘস্থায়ী পরিণতি মোকাবিলা করুক।
গত সপ্তাহে ক্যারিবীয় কমিউনিটি (ক্যারিকম) ক্ষতিপূরণ কমিশনের চেয়ার হিলারি বেকলস জোর দিয়ে বলেন, একটি নির্ধারিত আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান না থাকার অর্থ এই নয় যে ক্ষতিপূরণ প্রান্তিক বিষয় হয়ে থাকবে। তিনি এই সমাবেশকে ‘ক্ষতিপূরণের চগম’ এবং ‘ক্ষতিপূরণ আলোচনার প্রথম পর্ব’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
বেকলস বলেন, এটি ক্যারিবীয় অঞ্চলে কমনওয়েলথের বৈঠক, এবং এই সমাবেশের ক্ষেত্রে ক্যারিবীয় অঞ্চলের এক নম্বর বিষয় হলো ক্ষতিপূরণমূলক ন্যায়।
মূল বৈঠকের বাইরে ক্ষতিপূরণ আন্দোলনের সমর্থক সংগঠন ও গোষ্ঠীগুলো একত্র হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে রিপেয়ার ক্যাম্পেইন, যুক্তরাজ্যের আইনি প্রতিষ্ঠান লে ডে, ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশনস, আফ্রিকার জনহিতকর সংগঠন ট্রাস্টআফ্রিকা এবং যুক্তরাজ্যের আফ্রিকান ক্ষতিপূরণবিষয়ক সর্বদলীয় সংসদীয় গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা রয়েছেন।
বন্ধ দরজার বৈঠকগুলোতেও ক্যারিবীয় নেতারা বিষয়টি তুলবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।


