এইচএসসিতে ইংরেজি ও আইসিটিতেই ফেল ৩ লাখ ৮২ হাজার, পাসের হার ২০০৪ সালের পর সর্বনিম্ন

এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী আটকে গেছে ইংরেজি ও তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে। এই দুই বিষয়ে ফেল করেছে ৩ লাখ ৮২ হাজার ২১ জন শিক্ষার্থী।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, এবার পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অকৃতকার্য হয়েছে মোট ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন শিক্ষার্থী।
সবচেয়ে বেশি ফেল ইংরেজিতে। এই বিষয়ে ফেল করেছে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৫২৮ জন, যা মোট অকৃতকার্যের ৪১ শতাংশ। আইসিটিতে ফেল করেছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৪৯৩ জন।
এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন। পাস করেছে ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ।
এবারের পাসের হার ২০০৪ সালের পর সর্বনিম্ন। ২০০৪ সালে এইচএসসিতে পাসের হার ছিল ৪৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ। এরপর পাসের হার আর কখনো এত নিচে নামেনি।
টানা দুই বছর ধরে খারাপ হচ্ছে ফল। ২০২৪ সালে পাসের হার ছিল ৭৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ। গতবার তা নেমে আসে ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশে। এবার তা আরও প্রায় পৌনে ৭ শতাংশ কমেছে। হিসাব অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ।
জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪০ হাজার ৮৪ জন, গতবার যা ছিল ৬৯ হাজার ৯৭ জন। অর্থাৎ সর্বোচ্চ ফল অর্জনকারীর সংখ্যা কমেছে ২৯ হাজার ১৩ জন।
পাসের হারে ছাত্রদের চেয়ে এগিয়ে ছাত্রীরা। ছাত্রীদের মধ্যে পাস করেছে ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৫২৮ জন, পাসের হার ৫৬ দশমিক ৩১ শতাংশ। ছাত্রদের মধ্যে পাস করেছে ২ লাখ ৯০ হাজার ১৫৭ জন, পাসের হার ৪৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ।
তবে জিপিএ-৫ অর্জনে ছাত্ররা এগিয়ে। ৪০ হাজার ৮৪ জন জিপিএ-৫ পাওয়ার মধ্যে ছাত্র ২০ হাজার ৩৬৩ জন এবং ছাত্রী ১৯ হাজার ৭২১ জন।
সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ফলাফলের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়। ফল প্রকাশের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব আবদুল খালেক, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়াসহ বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
অকৃতকার্যদের জন্য সরকার নতুন সুযোগ রাখছে। এক বা দুই বিষয়ে ফেল করেছে ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন, যা মোট অকৃতকার্যের প্রায় ৭১ শতাংশ। এক বছর অপেক্ষা না করে তারা এক মাসের মধ্যে শুধু ফেল করা বিষয়ে আবার পরীক্ষা দিতে পারবে। ফল প্রকাশের অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন ও প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন এ কথা জানান।
এবার পরীক্ষার্থী ছিল ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন। তাদের মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয়নি ২৯ হাজার ৭৮৫ জন। গত ২ জুলাই চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের লিখিত পরীক্ষা শুরু হয়। ৮ আগস্ট লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা থাকলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কয়েকটি পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি; পরে স্থগিত পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ায় ওই বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৯ সেপ্টেম্বর।




