কুমিল্লা বোর্ডে ১৫ প্রতিষ্ঠানের সবাই ফেল, পাসের হার ৪৮.০৪ শতাংশ; তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত

২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের ১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। এসব প্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থীই অকৃতকার্য হয়েছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ১১টায় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের মিলনায়তনে আয়োজিত ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে এই তথ্য জানান বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম। বোর্ডের সম্মেলনকক্ষে ফল ঘোষণা করে তিনি বোর্ডের সার্বিক চিত্রও তুলে ধরেন।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৪৮ দশমিক ০৪ শতাংশ। এ বছর এই বোর্ডের অধীনে ৯২ হাজার ১৬২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়; তাদের মধ্যে পাস করেছে ৪৪ হাজার ২৭২ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ৩১৩ জন।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বলেন, ইংরেজি ও উচ্চতর গণিত বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় সামগ্রিক ফলাফলে এর প্রভাব পড়েছে।
বিপরীতে বোর্ডের চারটি প্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে বলে ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে জানানো হয়।
শতভাগ অকৃতকার্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার চাঁদপুর পৌর শহীদ জাভেদ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কুমিল্লার লালমাই উপজেলার সুরুজ মেমোরিয়াল হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার কেমব্রিজ সিটি কলেজ।
তালিকায় আরও রয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার জিনদপুর ইউনিয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও বগোইর বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ, লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার তোরাবগঞ্জ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার ডা. এম. শামসুল হক মডেল কলেজ এবং ফেনী সদর উপজেলার বেগম শামসুন নাহার গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
বাকি প্রতিষ্ঠানগুলো হলো লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. মমতাজ উদ্দিন আলোকিত কলেজ ও প্রফেসর সেকান্দার আলী ভূঁইয়া গার্লস হাই স্কুল, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার আপার মডেল কলেজ, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কমলনগর উপজেলার ফজুমিয়ার হাট হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বীরগঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং ফেনী সদর উপজেলার বেকন মডেল কলেজ।
এসব প্রতিষ্ঠানের ফল বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধান এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে নতুন উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে শিক্ষা বোর্ড। বোর্ড সচিব অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে সেমিনার, সিম্পোজিয়াম এবং অভিভাবক সমাবেশ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
বোর্ড সচিব আরও বলেন, কেন এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক জানান, যেসব প্রতিষ্ঠানের ফল খারাপ হয়েছে, সেগুলোর সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বসে সেমিনার করা হয়েছে। ভবিষ্যতে ফলাফলের উন্নতি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।




