আশুলিয়ায় শ্রমিক বিক্ষোভে সংঘর্ষ, হাতবোমা সদৃশ তিনটি বস্তু উদ্ধার, বন্ধ অন্তত ২৬ কারখানা

আশুলিয়ায় শ্রমিকদের চলমান আন্দোলন ও বিক্ষোভের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়ক থেকে হাতবোমা সদৃশ তিনটি বস্তু উদ্ধার করেছে শিল্প পুলিশ। সংঘর্ষে শিল্প পুলিশের ১০ জনের বেশি সদস্য আহত হয়েছেন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরের দিকে বাইপাইল ও আবদুল্লাহপুর সড়কের নিশ্চিন্তপুর এলাকায় অবস্থিত নিউ এইজ কারখানার সামনে থেকে তিনটি বস্তু উদ্ধার করা হয়। শিল্প পুলিশ-১-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সৈয়দ ফয়সাল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, শ্রমিকদের আন্দোলনের মাঝে ঘটনাস্থল থেকে হাতবোমা সদৃশ তিনটি বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে। কে বা কারা এই বস্তুগুলো সেখানে বহন করে এনেছে বা রেখে গেছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এর আগে শনিবার সকাল থেকেই আশুলিয়ার কাঠগড়া বাজার, নয়াপাড়া ও নিশ্চিন্তপুর এলাকার বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করেন। সকাল ৮টার পর থেকে শ্রমিকরা কারখানার ভেতরে কাজ বন্ধ করে বাইরে বেরিয়ে আসেন। একপর্যায়ে দুপুর নাগাদ তাঁরা আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কের নিশ্চিন্তপুর এলাকায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন।
এ সময় কন্টিনেন্টাল, এআর জিন্স ও সিডব্লিউসহ বেশ কিছু কারখানার শ্রমিকরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ভাঙচুর চালান। বিশেষ করে এআর জিন্স ও কন্টিনেন্টাল কারখানার বিভিন্ন কাচ ভাঙচুরের শিকার হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কারখানা কর্তৃপক্ষ ও এআর জিন্সের পক্ষ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং মহাসড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালায়। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে শিল্প পুলিশের দশজনের বেশি সদস্যসহ বেশ কয়েকজন শ্রমিক ও পথচারী আহত হন।
শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
চলমান এই আন্দোলনের মুখে এআর জিন্স, কন্টিনেন্টাল, নাঈম নিটওয়্যার, নিউ এইজ, নিট এশিয়া, স্টার্লিং ক্রিয়েশনসহ অন্তত ২৬টি কারখানা বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানানো হয়।


