হ্যালোইন সপ্তাহান্তে কিশোরদের জমায়েত ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের শহরগুলোতে কারফিউ ও পুলিশি তৎপরতা

হ্যালোইন সপ্তাহান্তে কিশোরদের বড় জমায়েত ও সহিংসতা ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহর কারফিউ জারি ও পুলিশি টহল বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। ‘টিন টেকওভার’ নামে পরিচিত এসব জমায়েতে শত শত কিশোর জড়ো হয়ে মারামারি ও গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটার পর শহর কর্তৃপক্ষগুলো আগেভাগেই সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।
জার্সি শোর থেকে শুরু করে আটলান্টার উপশহর পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় কিশোরদের জন্য কারফিউ নির্ধারণ করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হচ্ছে। এর অনেক জায়গাই এখনো আগের টেকওভার ঘটনার ধাক্কা সামলাচ্ছে, যেখানে শত শত কিশোরের জমায়েত মারামারি ও গ্রেপ্তারে গড়িয়েছিল।
ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের ওক পার্কের পুলিশপ্রধান এক লিখিত বার্তায় জানিয়েছেন, গত বছর হ্যালোইনে সেখানে ঘটে যাওয়া টিন টেকওভারের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতেই এবার এই প্রস্তুতি।
গত হ্যালোইনে আনুমানিক ৫০০ কিশোর ওক পার্কের ডাউনটাউন এলাকায় জড়ো হয়েছিল। সেখানে মারামারি ও গুলির ঘটনা ঘটে এবং পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশকে প্রতিবেশী ছয়টি সংস্থার সাহায্য নিতে হয় বলে বিভাগীয় মেমোতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ওক পার্কের পুলিশপ্রধান শাটোনিয়া জনসন বলেছেন, হ্যালোইনে দায়িত্বরত কর্মকর্তার সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। আরেকটি টেকওভার ঠেকাতে আরও কয়েকটি ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
শিকাগোর হাইড পার্ক এলাকায় প্রাপ্তবয়স্ক বাসিন্দারাও নিজেরা উদ্যোগ নিয়েছেন। বড় কিশোর জমায়েত ঠেকাতে তাঁরা দল বেঁধে রাস্তায় নামার পরিকল্পনা করেছেন। ‘কোলাবুরেশন’ নামের এই দলটি গঠিত হয়েছিল ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের হ্যালোইনের বড় জমায়েতগুলো সহিংস হয়ে ওঠার পর।
দলটির প্রতিষ্ঠাতা বেনি কারি বলেছেন, তাঁদের লক্ষ্য হলো হ্যালোইনের উৎসব শুরু হওয়ার আগেই রাস্তায় একটি বড় উপস্থিতি তৈরি করা। তাঁরা কমলা রঙের শার্ট পরে ৫৩তম স্ট্রিট ধরে হাঁটবেন এবং নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রাখবেন বলে তিনি জানিয়েছেন।
জর্জিয়ার কোভিংটনে হ্যালোইনের সন্ধ্যা ৭টার পর ১৬ বছরের কম বয়সীদের ডাউনটাউন এলাকায় থাকতে হলে বাড়ি ফিরে যেতে হবে অথবা সঙ্গে প্রাপ্তবয়স্ক কাউকে থাকতে হবে। আটলান্টার বাইরে অবস্থিত এই শহরে এই নিয়ম কার্যকর থাকবে।
নিউ জার্সির লং ব্রাঞ্চে পুলিশ ৩০ ও ৩১ অক্টোবর রাত ৮টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত ১৭ বছরের কম বয়সীদের জন্য হ্যালোইন কারফিউ কঠোরভাবে প্রয়োগের পরিকল্পনা করেছে। গত মে মাসে সেখানে শত শত মানুষের টেকওভার জমায়েতে মারামারি ও ছয়জন গ্রেপ্তারের ঘটনার পর এই কারফিউ নির্ধারণ করা হয়।
ন্যাশনাল পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের মুখপাত্র সার্জেন্ট বেটসি ব্র্যান্টনার স্মিথ শহর ও পুলিশ বিভাগগুলোর এই আগাম তৎপরতাকে ‘দারুণ ধারণা’ বলেছেন। তিনি বলেছেন, টিন টেকওভার কমছে না।
স্মিথ বলেন, হ্যালোইনের রাতে তাঁদের অভিজ্ঞতায় কলের সংখ্যা চার থেকে ছয় গুণ বেড়ে যায় — আতশবাজি, স্কুল প্রাঙ্গণে মারামারি কিংবা নিখোঁজ শিশুর খোঁজে মানুষ ফোন করেন। এর সঙ্গে বড় কিশোর জমায়েত যোগ হলে পুলিশের ওপর চাপ আরও বাড়ে বলে তিনি মন্তব্য করেন।



