লেবাননে জব্দ করা বিস্ফোরক নিয়ে হিজবুল্লাহ-সংশ্লিষ্ট ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ
লেবাননের একটি সামরিক আদালত হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুক্ত ১৩ জনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক পাচারের অভিযোগ গঠন করেছে। শুক্রবার তাঁদের বিরুদ্ধে অস্ত্র রাখা, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন করা ও অবৈধ সংগঠন গঠনসহ বিভিন্ন অপরাধে অভিযোগ আনা হয় বলে লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
অভিযোগের সূত্রপাত চলতি মাসের শুরুতে দাহর আল-বায়দার তল্লাশিচৌকিতে বিস্ফোরক বহনকারী একটি ট্রাক জব্দের ঘটনা থেকে। ওই তল্লাশিচৌকি রাজধানী বৈরুতের সঙ্গে পূর্বের বেকা উপত্যকাকে যুক্ত করেছে।
বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গাড়িটিতে মোট ৭৮০ কেজি বিস্ফোরক ছিল। এর মধ্যে ২৫০ কেজি টিএনটি ও ২৫০ কেজি সি-৪ প্লাস্টিক বিস্ফোরক ছিল।
জব্দের সময় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগ পাওয়া বাকি ১১ জন এখনো পলাতক রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে পাঁচজনকে কেবল ডাকনামে শনাক্ত করা গেছে, কারণ তাঁদের আসল নাম জানা যায়নি।
হিজবুল্লাহ স্বীকার করেছে, জব্দ করা বিস্ফোরকগুলো তাদেরই ছিল। গোষ্ঠীটির দাবি, দক্ষিণ লেবাননের বড় অংশ দখল করে রাখা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য এসব বিস্ফোরক রাখা হয়েছিল। জব্দ করা চালানটি ফেরত দেওয়া ও আটক দুজনকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য লেবানন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছে তারা এবং অভিযোগগুলোকে অন্যায় বলে অভিহিত করেছে।
হিজবুল্লাহর সংসদ সদস্য হুসেইন হাজ হাসান বলেছেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বা অখণ্ডতা ক্ষুণ্ন করেননি, বরং লেবাননের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে ওঠা ইসরায়েলি শত্রুর মোকাবিলা করেছেন।
হিজবুল্লাহর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের আশঙ্কা, পাচার করা বিস্ফোরক গোষ্ঠীটির সমালোচকদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হতে পারে। তবে তদন্তকারীরা এখনো নিশ্চিত করতে পারেননি যে জব্দ করা চালানটি এমন কোনো হামলার জন্য আনা হয়েছিল।
ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল, যখন হিজবুল্লাহর ওপর চাপ বাড়ছে। গোষ্ঠীটি ইসরায়েলের সঙ্গে পরপর দুটি যুদ্ধে জড়িয়েছে এবং বৈরুতের কর্তৃপক্ষ এর সামরিক শাখাকে নিরস্ত্র করার উদ্যোগ নিয়েছে।
গত জুনে লেবানন ও ইসরায়েল একটি কাঠামো চুক্তি সই করে। এতে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণের সঙ্গে যুক্ত করে দক্ষিণ লেবাননের দখল করা এলাকাগুলো থেকে ইসরায়েলের পর্যায়ক্রমে সরে যাওয়া এবং দক্ষিণে লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল।
তবে হিজবুল্লাহ বারবার নিরস্ত্র হওয়ার আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে। গোষ্ঠীটির প্রধান নাইম কাসেম লেবানন-ইসরায়েল চুক্তিটিকে বাতিল ও অকার্যকর বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, আইনি কাঠামোর বাইরে থাকা অস্ত্রের বিষয়ে রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় কঠোরতা দেখাবে।
কাঠামো চুক্তি সত্ত্বেও ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে এবং দখল করে রাখা কয়েক ডজন গ্রামে ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো ধারাবাহিকভাবে ধ্বংস করছে।



