মধ্যবর্তী নির্বাচনে মাস্কের খরচ ৪৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার, আধুনিক ইতিহাসে সবচেয়ে বড় একক দাতা

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ঘিরে ইলন মাস্ক গত বছর থেকে রিপাবলিকান-ঘেঁষা রাজনৈতিক অ্যাকশন কমিটি (প্যাক) ও গোষ্ঠীগুলোতে অন্তত ৪৪ কোটি ৫৭ লাখ ৭০ হাজার ডলার ঢেলেছেন। ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল নির্বাচন কমিশনের (এফইসি) তথ্যে এই হিসাব পাওয়া গেছে।
এই অবদান মাস্ককে রিপাবলিকানদের সবচেয়ে পরিচিত আর্থিক পৃষ্ঠপোষক এবং আধুনিক মার্কিন ইতিহাসে সবচেয়ে বড় একক-চক্রের রাজনৈতিক দাতা বানিয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি মাস্ক স্পেসএক্স ও টেসলার প্রধান নির্বাহী।
আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে সাহায্য করতেই মাস্ক এই অর্থ খরচ করছেন। তবে বর্তমান জরিপগুলো ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার আভাস দিচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মাত্র গত বছরই মাস্ক বড় অঙ্কের রাজনৈতিক অনুদান থেকে সরে আসার কথা বলেছিলেন। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের পক্ষে তিনি প্রায় ৩০ কোটি ডলার খরচ করেছিলেন। এরপর এফইসির তথ্য বলছে, তিনি শুধু ফিরেই আসেননি, প্রচারের শেষ দুই মাসে তাঁর খরচ প্রায় ২০ কোটি ডলার বেড়েছে।
মাস্কের অর্থ মূলত কয়েকটি রিপাবলিকান-ঘেঁষা সুপার প্যাকে গেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অবদান ২১ কোটি ৬০ লাখ ডলার গেছে তাঁর নিজের আমেরিকা প্যাকে।
আমেরিকা প্যাক যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের ৪৩টি আসনের লড়াইকে লক্ষ্য করেছে। প্যাকটি টেলিভিশন বিজ্ঞাপন, ডিজিটাল বিজ্ঞাপন, টেক্সট বার্তা ও ডাকযোগে প্রচারপত্র দিয়ে ভোটারদের কাছে পৌঁছাচ্ছে।
প্যাকটি প্রতিনিধি পরিষদের আসনগুলোতে ৮৩৯টি এবং সিনেটের আসনগুলোতে ৬২৩টি স্বতন্ত্র খরচ করেছে, দেশের ১৭টি অঙ্গরাজ্যে। তবে মিশিগান ও অ্যারিজোনার মতো লড়াইয়ের মাঠগুলোতে সহায়তা বেশি গেছে।
আমেরিকা প্যাক সবচেয়ে বেশি খরচ করেছে মাস্কের নিজের অঙ্গরাজ্য টেক্সাসে। সেখানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস টালারিকো ও রিপাবলিকান কেন প্যাক্সটনের সিনেট লড়াই মধ্যবর্তী নির্বাচনের সবচেয়ে ব্যয়বহুল আসনে পরিণত হয়েছে। প্যাক্সটনকে জেতাতে আমেরিকা প্যাক ৩ কোটি ৩০ লাখ ডলারের বেশি ঢেলেছে। এ ছাড়া প্যাক্সটনের প্রচারকে সমর্থনকারী সিনেট লিডারশিপ ফান্ডে মাস্ক ১৬ কোটি ৮০ লাখ ডলার দিয়েছেন।
আমেরিকা প্যাকের প্রচারের বড় অংশজুড়ে রয়েছে টালারিকোসহ ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক বিজ্ঞাপন। টালারিকোবিরোধী কনটেন্টে প্যাকটি ২ কোটি ৮০ লাখ ডলার খরচ করেছে। এর মধ্যে অক্টোবরে একটি মাত্র গুগল বিজ্ঞাপনে খরচ হয়েছে ৩ লাখ থেকে সাড়ে ৩ লাখ ডলার, যা আট দিনে ১ কোটি বারের বেশি দেখানো হয়েছে।
মাস্ক নিজের মালিকানাধীন সামাজিক মাধ্যম এক্সে তাঁর ২০ কোটির বেশি অনুসারীর কাছেও আমেরিকা প্যাকের কনটেন্ট ছড়িয়ে দিয়েছেন। অক্টোবরে তিনি প্যাকটির একটি আক্রমণাত্মক বিজ্ঞাপন রিপোস্ট করেছিলেন।
এই চক্রে মাস্কের প্রায় ৪৪ কোটি ৬০ লাখ ডলারের অনুদান ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তাঁর নিজের অবদানকেও ছাড়িয়ে গেছে। তখন তিনি সমাবেশ করেছিলেন এবং প্রচারে ট্রাম্পের পাশে মঞ্চে উঠেছিলেন। এবার তিনি তুলনামূলক কম দৃশ্যমান থাকলেও নেপথ্যে আর্থিক সহায়তা অনেক বাড়িয়েছেন।
মার্ক আন্দ্রিসেনের মতো প্রযুক্তি ও অর্থ খাতের বড় দাতাদেরও মাস্কের খরচ বহু পেছনে ফেলেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই নির্বাচন চক্রে মাস্ক একাই যত অর্থ দিয়েছেন, তা ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি নিজেসহ শীর্ষ সব সিলিকন ভ্যালি দাতার মিলিত খরচের চেয়েও বেশি।
মাস্কের জন্য মধ্যবর্তী নির্বাচনের গুরুত্বও কম নয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ এবং প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের শিথিল নীতির সুবিধা পেয়েছেন। স্পেসএক্স এ বছর ট্রাম্পের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা কর্মসূচির জন্য লাভজনক চুক্তি পেয়েছে এবং মাস্কের গ্রক এআই চ্যাটবট পেন্টাগনে ব্যবহারের জন্যও প্রতিষ্ঠানটি সরকারের সঙ্গে আরও জড়িয়েছে।
তবে এই অভূতপূর্ব খরচও মাস্কের মোট সম্পদের খুব ছোট একটি ভগ্নাংশ মাত্র বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।


