মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোটারদের দ্বিতীয় বড় উদ্বেগ সরকারি দুর্নীতি: হ্যারিস জরিপে ৮৭ শতাংশই একে সমস্যা মনে করেন

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোটারদের কাছে সরকারি দুর্নীতি এখন দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে বলে গার্ডিয়ানের জন্য করা অক্টোবরের একটি হ্যারিস জরিপে উঠে এসেছে। জরিপ অনুযায়ী, ভোটারদের কাছে ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের পরেই দুর্নীতির স্থান।
জরিপে অংশ নেওয়া ৮৭ শতাংশ উত্তরদাতা দুর্নীতিকে একটি সমস্যা বলে মনে করেছেন। এই হার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কিংবা অভিবাসন নিয়ে উদ্বিগ্নদের হারের চেয়েও বেশি।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট দেওয়ার পরিকল্পনা করা ভোটারদের মধ্যে ৬৫ শতাংশ এই দুর্নীতিকে একটি ‘বড় সমস্যা’ বলে মনে করেন বলে জরিপে বলা হয়েছে।
জরিপে আরও বলা হয়েছে, ভোটাররা মূলত ‘নির্বাচিত কর্মকর্তারা জনগণের চেয়ে নিজেদের কিংবা নিজ দাতাদের আর্থিক স্বার্থকে এগিয়ে রাখছেন কি না’ — তা নিয়েই বেশি উদ্বিগ্ন।
গত বছর ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের দুর্নীতি ধারণা সূচকে যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় ২৯তম স্থানে ছিল। এটি বাইডেন প্রশাসনের শেষ বছরের অবস্থানের চেয়ে এক ধাপ নিচে এবং ট্রাম্প প্রথমবার ক্ষমতায় আসার আগের বছর ২০১৬ সালের ১৮তম অবস্থানের চেয়ে অনেক পিছিয়ে।
অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলোতে জালিয়াতির বিরুদ্ধে অভিযানের ওপর জোর দিচ্ছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের জালিয়াতিবিরোধী টাস্কফোর্স সম্প্রতি খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি স্ন্যাপ থেকে ৪ কোটি ডলার জালিয়াতির তথ্য আবিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছে। ওহাইওতে ভ্যান্স বলেছেন, কিছু মানুষ এসব কর্মসূচি থেকে জালিয়াতি করে নিজেদের সমৃদ্ধ করতে ক্ষুধার্ত শিশুদের মুখের খাবার চুরি করছে।
এর আগে ভ্যান্স জালিয়াতির অভিযোগে ওবামাকেয়ারের আওতায় বীমা করা ৭ লাখ ৬০ হাজার মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা বাতিলের ঘোষণাও দিয়েছিলেন। ট্রাম্প সরকারি অর্থ আত্মসাৎকারীদের ধরিয়ে দিলে পুরস্কার দেওয়ার প্রস্তাবও করেছেন — ১০০ কোটি ডলার ধরিয়ে দিলে সেই ব্যক্তিকে ১ শতাংশ কমিশন দেওয়া হবে বলে তিনি বলেছেন।
তবে ভ্যান্স দাবি করেছেন, ট্রাম্প নিজে দুর্নীতিতে অংশ নিচ্ছেন বা তা মেনে নিচ্ছেন — এমন কোনো প্রমাণ তিনি দেখেননি। ভ্যান্সের ভাষায়, ট্রাম্প রাজনীতিতে আসার আগেই বিলিয়নিয়ার ছিলেন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ক্ষমতায় ফেরার প্রথম বছরে ট্রাম্প ২২০ কোটি ডলার আয় করেছেন, যার মধ্যে ১৪০ কোটি ডলার এসেছে ক্রিপ্টো থেকে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ট্রাম্পের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন এক ক্রিপ্টো বিলিয়নিয়ারের বিরুদ্ধে জালিয়াতির মামলা স্থগিত করেছিল, যিনি ট্রাম্প মিম কয়েন কিনেছিলেন ৪ কোটি ডলারে এবং আরেকটি ট্রাম্প ক্রিপ্টো ব্যবসায় ৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করেছিলেন। বিচার বিভাগের ক্রিপ্টো তদন্ত দল ভেঙে দেওয়া এবং কয়েনবেস, রিপল ও ক্রাকেনসহ বিভিন্ন ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত বাদ দেওয়ার কথাও প্রতিবেদনে এসেছে।
ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান রোজা ডিলাউরো ক্ষমতায় থাকাকালে ট্রাম্প কীভাবে নিজেকে, পরিবারকে ও মিত্রদের সমৃদ্ধ করছেন, তার একটি তালিকা তৈরি করেছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। সেই তালিকায় কাতার সরকারের বিলাসবহুল বিমান উপহারের বিষয়টি রয়েছে, যা সংবিধানের পারিতোষিক ধারা লঙ্ঘন করতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তালিকায় আরও রয়েছে — সংযুক্ত আরব আমিরাতের শাসক পরিবারের সঙ্গে যুক্ত একটি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়ালে গোপনে ৫০ কোটি ডলারের অংশ কেনার পরপরই দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চমানের এআই চিপের সুরক্ষিত প্রবেশাধিকার পেয়েছিল বলে উল্লেখ। ফৌজদারি অভিযোগের মুখে থাকা ধনী ব্যক্তিরা ট্রাম্পের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অনুদান দিয়ে ক্ষমা বা দণ্ড মওকুফ চাইছেন — এমন উদাহরণও তালিকায় এসেছে, যার মধ্যে পুয়ের্তো রিকোর সাবেক গভর্নর ওয়ান্ডা ভাসকেজ গারসেদ ও তাঁকে ঘুষ দেওয়া ব্যাংকার হুলিও হেরেরা ভেলুতিনির ক্ষমার ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে।


