রাঙামাটির সাজেকের কলাবুনিয়া এলাকায় ইউপিডিএফ ও জনসংহতি সমিতির মধ্যে প্রায় দুই ঘণ্টা গোলাগুলি, হতাহতের খবর নেই

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকের কলাবুনিয়া এলাকায় প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলি হয়েছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে এই গোলাগুলির খবর পাওয়া গেছে। এলাকায় একক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রসীত বিকাশ খীসার নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) ও সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতির সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে এই গোলাগুলি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
গোলাগুলির সময় গ্রামবাসী আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তবে এতে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। এলাকাবাসী জানিয়েছেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় একক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে বিরোধের জেরে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। দীর্ঘ সময় ধরে চলা গোলাগুলিতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি বলেও পুলিশ সূত্র জানিয়েছে।
রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব বলেন, দুই গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলির খবর পেয়েছেন। তবে কারা এই গোলাগুলিতে জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে বলেও তিনি জানান।
এই ঘটনার পটভূমিতে সাজেকে আগে থেকেই উত্তেজনা চলছিল। ইউপিডিএফের দুটি ছায়া সংগঠন সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে বর্তমানে সাজেক সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চলছে। সংগঠন দুটির অভিযোগ, সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতির সদস্যরা সাজেকের বিভিন্ন গ্রামে সশস্ত্র অবস্থান নিয়েছেন। এতে গ্রামবাসী আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়াতে গ্রাম থেকে সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সরানোর দাবিতে সংগঠন দুটি অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে গত ২৬ অক্টোবর সাজেকের উজোবাজারে সংগঠন দুটির নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির দুই সংসদ সদস্যসহ জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা। আলোচনায় পাঁচটি দাবির মধ্যে চারটির বিষয়ে সমঝোতা হলেও সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সরানোর বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারেননি নেতৃবৃন্দ। এতে সাজেকের সংকট এখনো কাটেনি।
গত মাসেও দুই সংগঠনের মধ্যে গোলাগুলিতে শিশুসহ কয়েকজন আহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শনিবারের গোলাগুলির ঘটনায় নতুন করে হতাহতের খবর না এলেও কলাবুনিয়া এলাকার গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্কের কথা জানা গেছে এবং পুলিশ সুপার বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে।




