তিন দশকের বেশি সময় পর সোমালিয়ায় রাজনৈতিক মিশন বন্ধ করল জাতিসংঘ
সোমালিয়ায় নিজেদের রাজনৈতিক মিশন বন্ধ করে দিয়েছে জাতিসংঘ। এর মধ্য দিয়ে গৃহযুদ্ধের পর দেশটি পুনর্গঠনে সহায়তার জন্য তিন দশকের বেশি সময় ধরে চলা জাতিসংঘের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অবসান ঘটল।
জাতিসংঘের সোমালিয়াবিষয়ক ট্রানজিশনাল অ্যাসিস্ট্যান্স মিশন (ইউএনটিএমআইএস) শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম বন্ধ করেছে। সোমালি সরকারের অনুরোধে দুই বছর ধরে চলা হস্তান্তর প্রক্রিয়া শেষে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলো বলে মিশনটি এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে।
মিশনটির দায়িত্ব পর্যায়ক্রমে সোমালিয়ার নিজস্ব প্রতিষ্ঠান, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা এবং আফ্রিকান ইউনিয়নের সেনাদের সহায়তাকারী জাতিসংঘ কার্যালয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সোমালিয়া ও জাতিসংঘের মধ্যে সম্মত একটি রোডম্যাপ অনুযায়ী এই হস্তান্তর সম্পন্ন হয়েছে।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সোমালিয়ার অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়েছেন। একই সঙ্গে রাজনৈতিক, নিরাপত্তা ও মানবিক চ্যালেঞ্জের মুখে দেশটির জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
মোগাদিশুতে সোমবার অনুষ্ঠিত বিদায়ী অনুষ্ঠানে দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী সালেহ আহমেদ জামা মিশন বন্ধের ঘটনাকে ‘বিজয়ের দিন’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, সোমালিয়া এখন ‘রূপান্তরের যুগ’ পেছনে ফেলে এগিয়ে যাচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট হাসান শেখ মাহমুদের সরকার ২০২৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে মিশনটি প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়েছিল। এর আগে বিভিন্ন সোমালি সরকারের সঙ্গে মিশনটির সম্পর্ক মাঝে মাঝে টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে গেছে; দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের অভিযোগও বারবার উঠেছে।
মিশন বন্ধের এই সময়ে সোমালিয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে আসছে। অথচ দেশটি গভীর রাজনৈতিক বিভাজনের মধ্যে রয়েছে এবং সহিংসতা অব্যাহত আছে। বিরোধী নেতারা সরকারের সেই অবস্থান মানতে নারাজ, যেখানে বলা হচ্ছে সাংবিধানিক পরিবর্তনের কারণে প্রেসিডেন্ট মাহমুদ ও পার্লামেন্ট ২০২৭ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে পারবেন।
কিছু আঞ্চলিক নেতার সঙ্গেও কেন্দ্রীয় সরকারের সম্পর্ক টানাপোড়েনে রয়েছে। আল-কায়েদার সঙ্গে যুক্ত সশস্ত্র গোষ্ঠী আল-শাবাব সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
এর আগে জাতিসংঘের এই মিশন প্রতিদ্বন্দ্বী নেতাদের মধ্যে নির্বাচনী সমঝোতায় পৌঁছাতে সহায়তা করত। কিন্তু সেই মধ্যস্থতার ভূমিকার বিকল্প কোনো ব্যবস্থা এখনো ঠিক হয়নি। প্রেসিডেন্ট মাহমুদ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের আলোচনায় আমন্ত্রণ জানালেও বড় বিরোধী গোষ্ঠীগুলো এখনো অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
জাতিসংঘের মানবিক ও উন্নয়ন সংস্থাগুলো সোমালিয়ায় থাকছে, তবে আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় তাদের তহবিলও চাপে পড়েছে। আগস্টে জাতিসংঘের শিশু সংস্থা জানিয়েছিল, সহায়তা কমায় ২০৫টি স্বাস্থ্য ও পুষ্টি কেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে।
আল-শাবাবের বিরুদ্ধে সোমালি বাহিনীকে সহায়তায় আফ্রিকান ইউনিয়নের সেনারাও দেশটিতে থাকছেন। তবে খাবার, জ্বালানি, চিকিৎসাসেবা ও পরিবহনের জন্য তারা জাতিসংঘের পৃথক সহায়তা কার্যালয় ইউএনএসওএসের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। বার্তা সংস্থা রয়টার্স সেপ্টেম্বরে জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত একটি পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সেই সহায়তা কার্যালয়টিও বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

