টালিউডে বয়কটের সংস্কৃতি বন্ধে নতুন নির্দেশিকা, শুটিংয়ের সময় ও ওভারটাইমে বেঁধে দেওয়া হলো নিয়ম

শুটিংয়ে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ, পারিশ্রমিক নিয়ে অনিশ্চয়তা আর সংগঠনের সদস্যপদ না থাকায় কাজ হারানোর মতো পুরোনো সমস্যা কমাতে নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক বিভাগের এই নির্দেশিকায় শুটিংয়ের সময়সীমা, ওভারটাইমের মজুরি, লিখিত চুক্তি ও কর্মীদের নিরাপত্তার পাশাপাশি ইন্ডাস্ট্রিতে কাউকে ঢালাওভাবে বয়কট করার প্রবণতা বন্ধের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশিকাটি চলচ্চিত্র, মেগা সিরিয়াল, ওটিটি এবং বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বাংলা কিংবা অন্য ভাষার শুটিংয়ের ক্ষেত্রে কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য, প্রযোজক, শিল্পী ও টেকনিশিয়ানদের মধ্যে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ কমিয়ে কাজের পরিবেশ আরও সুশৃঙ্খল করা।
নতুন নিয়মে বলা হয়েছে, কোনো শিল্পী বা টেকনিশিয়ান যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও শুধু গিল্ড বা অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যপদ কিংবা ইউনিয়নের কার্ড না থাকার কারণে তাঁকে কাজ থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।
শুটিংয়ে কতজন টেকনিশিয়ান বা কর্মী প্রয়োজন, তা প্রযোজক বাজেট অনুযায়ী নির্ধারণ করবেন। কোনো সংগঠন নির্ধারিত প্রয়োজনের বাইরে অতিরিক্ত কর্মী নিতে চাপ দিতে পারবে না বলেও নির্দেশিকায় উল্লেখ রয়েছে।
পারিশ্রমিক বাকি থাকা নিয়ে বিরোধের জেরে কাউকে ঢালাওভাবে বয়কট করা কিংবা ইন্ডাস্ট্রি থেকে নিষিদ্ধ করার মতো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়াকেও বেআইনি ঘোষণা করা হয়েছে।
কাজের চাপ কমানো ও পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিশ্চিত করতে শুটিংয়ের সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। সিনেমা ও ওটিটির শুটিংয়ে ১০ ঘণ্টার শিফটের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ চার ঘণ্টা ওভারটাইম করা যাবে, আর আট ঘণ্টার শিফট হলে সর্বোচ্চ ছয় ঘণ্টা ওভারটাইমের বিধান রাখা হয়েছে।
মেগা সিরিয়ালের ক্ষেত্রে আট ঘণ্টার শিফটের সঙ্গে সর্বোচ্চ চার ঘণ্টা ওভারটাইমের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে নির্দেশিকায়।
আট ঘণ্টার বেশি কাজ করালে প্রতি ঘণ্টার জন্য স্বাভাবিক মজুরির দ্বিগুণ হারে ওভারটাইম দিতে হবে প্রযোজককে। পাশাপাশি পরপর দুটি শুটিং শিফটের মধ্যে কর্মীদের অন্তত টানা ছয় ঘণ্টা বিশ্রাম নিশ্চিত করতে হবে।
কাজ শুরুর আগেই শিল্পী ও টেকনিশিয়ানদের সঙ্গে লিখিত চুক্তি করতে হবে। সেই চুক্তিতে কাজের বিবরণ, পারিশ্রমিকের পরিমাণ এবং টাকা দেওয়ার সময় উল্লেখ থাকতে হবে। শ্রম দপ্তরের নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরির চেয়ে কম পারিশ্রমিক দেওয়ার সুযোগও রাখা হয়নি।
শুটিংয়ের পরিবেশ নিরাপদ রাখার বিষয়েও একাধিক শর্ত রয়েছে। বিশেষ করে গভীর রাতে কাজ শেষ হলে নিরাপদ যাতায়াতের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানীয় জল, পরিচ্ছন্ন খাবার, শৌচাগার, বিশ্রামাগার ও প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা রাখতে হবে।
কর্মক্ষেত্রে হেনস্তা, বুলিং কিংবা অশোভন আচরণ ঠেকাতে প্রতিটি প্রযোজনা সংস্থাকে লিখিত মানসম্মত কার্যপদ্ধতি (এসওপি) তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে অভিযোগ জানানোর জন্য আলাদা সেল গঠনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
তথ্য ও সংস্কৃতি সচিব সৌমিত্র মোহনের স্বাক্ষরিত নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, রাজ্য সরকার শিগগিরই একটি ডিজিটাল তথ্য পোর্টাল চালু করবে। সেখানে শিল্পী ও টেকনিশিয়ানদের নামের তালিকা, অনলাইন সদস্যপদ এবং শুটিংয়ের অনুমতি-সংক্রান্ত ব্যবস্থা থাকবে।
এ ছাড়া বিনোদন জগতের কর্মীদের জন্য স্বাস্থ্যবিমা ও প্রভিডেন্ট ফান্ডের (পিএফ) মতো সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানিয়েছে সরকার। নির্দেশিকায় বলা এসব নিয়ম বাস্তবে কতটা মানা হচ্ছে, তার ওপরই নির্ভর করবে শিল্পী ও টেকনিশিয়ানদের কর্মপরিবেশে পরিবর্তন কতটা আসে।




