গাজীপুরে ছয় ঘণ্টার অবরোধ-সংঘর্ষের পর ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে পোশাক শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের প্রায় ছয় ঘণ্টা পর ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাত ৮টার পর মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা এদিন বিক্ষোভ করেন। শনিবার দুপুর থেকে কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর, পল্লীবিদ্যুৎ, হরিণহাটি ও আশপাশের এলাকার কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা বেতন বাড়ানোর দাবিতে সড়কে অবস্থান নেন।
একপর্যায়ে শ্রমিকেরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে অবরোধ সৃষ্টি করলে মহাসড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
বিকেলের দিকে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের উত্তেজনা বাড়তে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ বারবার শ্রমিকদের সড়ক ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানায়। তবে শ্রমিকেরা অবস্থান অব্যাহত রাখলে পুলিশ তাঁদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় শ্রমিকেরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পাশাপাশি সড়কে আগুন জ্বালানো ও যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে ঘটনাস্থলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং শ্রমিকেরা বিভিন্ন দিকে সরে যান।
শ্রমিক বিক্ষোভের কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। দীর্ঘ সময় সড়কে আটকে থেকে যাত্রী ও পরিবহনশ্রমিকেরা দুর্ভোগে পড়েন।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন জানান, শ্রমিকেরা মহাসড়কের কয়েকটি স্থানে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করছিলেন। তাঁদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করা হয়। তবে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার আরও জানান, শ্রমিক অসন্তোষের কারণে চন্দ্রা থেকে কোনাবাড়ী পর্যন্ত অন্তত ২০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে রাত ৮টার পর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।




